মেকআপে কিছু সচেতনতা


আমরা প্রায়ই মেকআপ করাকে একটি হালকা কাজ বলে মনে করি। অনেকেই মেকআপ করাটাকে কোনোরকম ঘষামাজার আওতায় ফেলে দেন। কিন্তু এর জন্য চাই কিছু সচেতনতা, কেননা সবার ত্বকের গড়ন এবং গায়ের রং যে একেই রকম হবে তেমনটি কিন্তু না। যেমন যাদের গায়ের রং ফর্সা তাদের অবশ্যই হালকা মেকআপ করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহারে ফর্সা ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতাকে নষ্ট করে দেয়। তা ছাড়া দিনের বেলায় ফর্সা ত্বকে ক্রিমবেইস মেকআপ করা যেতে পারে। তবে রাতের পার্টিতে একটু গাঢ় রঙের মেকআপ ব্যবহার করলে দেখতে ভালো লাগবে। গায়ের রং যাদের শ্যামলা তারা চাইলে সব ধরনের মেকআপ ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি যাদের গায়ের রং কালো তারা দিনে অথবা রাতে যেকোনো সময় গাঢ় রঙের মেকআপ মুখে লাগাতে পারেন। কারণ গাঢ় রঙের মেকআপ চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। তা ছাড়া ত্বকের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে ভালো মানের ফেস পাউডার বা ফেস মেকআপ ব্যবহার করা উচিত। ফর্সা ত্বকে উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো অনেক বেশি মানানসই। এ ক্ষেত্রে গোলাপি, হালকা আকাশি রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় যেকোনো পার্টি সাজে উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করাই উত্তম। তবে রাতের পার্টিতে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। বেগুনি, ব্ল্যাক, নীল, হ্যাজেল, গ্রিন, কোরাল বা যেকোনো গাঢ় রঙের আইশ্যাডো রাতের পার্টিতে অনেক বেশি মানানসই। শ্যামলা ত্বকে উজ্জ্বল বা গাঢ় যেকোনো রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ শ্যামলা ত্বকে যেকোনো রঙের আইশ্যাডো সহজেই মানিয়ে যায়। যাদের গায়ের রং কালো তারা দিনের অথবা রাতের পার্টির সাজে অবশ্যই ব্রাউন, ভায়োলেট, কোরাল, সফট পিটের মতো ব্রাইট কিন্তু কুল শেড—এ ধরনের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।



দিনের মেকআপ



* হালকা রঙের ফাউন্ডেশন বা ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার গালের উপরের অংশকে হাইলাইট করতে ব্যবহার করুন। হালকা গোলাপি রং ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। আর তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।



* চুলে খুব বেশি সাজের দরকার নেই। সাধারণত যেভাবে আঁচড়িয়ে রাখেন, সেভাবেই রাখুন।



* লম্বা চুলের অর্ধেকটা কোঁকড়ানো করুন এবং চুল খোলা রাখুন। দেখতে ভালো লাগবে।



* হালকা রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। মোহনীয় দেখানোর জন্য।



* ঠোঁটে ও গালে হালকা গোলাপি রঙের ব্লাশঅন বেছে নিন।



* সোনালি রঙের আইশ্যাডো চোখের পাতার ওপরের অংশে লাগান। খুব ভালো করে মিলিয়ে নিন। চিরাচরিত আইলাইনারের বদলে সিলভার ক্রেয়ান দিয়ে আউটলাইন করুন।



* লম্বা চুল খোলা রাখলে ভালো লাগবে দেখতে। আবার সামনের দিকের চুলগুলো সামান্য কোঁকড়ানো করতে পারেন। কিছুটা কপাল ঢাকা থাকবে।



* চোখের উপরে সোনালি ও রুপালি আইশ্যাডো দিলে আর অন্য কোনো রঙের আইশ্যাডো দেওয়ার দরকার নেই। শুধুমাত্র মাসকারা ব্যবহার করুন।



ঠোঁটে গ্লস ব্যবহার করুন



* চুলের এক রকম কাটের বদলে, বেছে নিতে পারেন বাউন্সি কার্লস।



* উজ্জ্বল রঙের নেল কালার ব্যবহার করতে পারেন। দেখতে খুব ভালো লাগবে।



* টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যদি আপনি ত্বকে গমরঙা গ্লো চান।



* চোখে বাদামি রঙের কাজল দিয়ে এঁকে দিন।



* বাদামি রঙের নেলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন।



* ঠোঁটের মেকআপের জন্য, হালকা গোলাপি, হালকা বাদামি রঙের লিপস্টিক বেছে নিন।



রাতের মেকআপ



* রাতের মেকআপের ক্ষেত্রে স্মোকি আইজ সবচেয়ে ভালো মানায়। আইশ্যাডো দেওয়ার পর, কালো রঙের গাঢ় করে আইলাইনার উপরে লাগান। আর নিচে কালো রঙের কাজল পরুন। ইচ্ছা করলে গ্লিটার দেওয়া আইশ্যাডো বেছে নিতে পারেন। ব্রাশ দিয়ে চোখের কোণের আইশ্যাডো ভালো করে মিলিয়ে দিন। এরপর ভ্রুয়ের নিচের অংশে হাইলাইটার লাগিয়ে দিন।



* চুল সামান্য কোঁকড়ানো করে নিন। প্রাকৃতিকভাবেই যদি চুল কোঁকড়ানো হয়ে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। চুলগুলোকে একটু উঁচু করে তুলে খোঁপার মতো বেঁধে নিন। আবার খুব টেনে বাঁধবেন না, এতে করে কপাল চওড়া দেখাতে পারে।



* হালকা ব্রাউন রংয়ের ব্লাশার লাগিয়ে চিক হাইলাইট করুন। গাঢ় রঙের ব্লাশার বেছে নিন সন্ধ্যা বা রাতের সময়ের জন্য। পাউডার ব্লাশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম ব্লাশার ভালো। রাউন্ড ব্রাশ ব্যবহার করুন পাউডার ব্লাশ লাগানোর জন্য।



* ড্রেসের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিকের রং বেছে নিন। শাইনের জন্য লিপগ্লসও লাগাতে পারেন।



* নিত্যনতুন চুলের সাজ বদলাতে পারেন। সাইড ব্যাংস মন্দ হবে না। আবার সাইড লেয়ার কাটও করতে পারেন।



* চোখ হাইলাইট করতে এখন খুবই চলছে দুই কিংবা তিন ধরনের রঙের আইশ্যাডোর ব্যবহার। আইশ্যাডো রঙের ক্ষেত্রে ব্রোঞ্জ ও গোল্ড ব্যবহার করুন।



* গাঢ় বেগুনি রঙের নেলপলিশ বেছে নিন।



* সুন্দর করে চুল আঁচড়িয়ে পেছনের দিকে ব্যাক ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখতে পারেন।



* চোখের নিচের অংশে ও ওপরের অংশে ঘন করে কাজল লাগান। কাজল বাইরের দিকে বের করে চোখে লাগান।



* ক্যাজুয়াল লুক পূর্ণ করতে অ্যাসিড পিংক রঙের গ্লস ব্যবহার করুন।



* চুল খুব ভালো করে আঁচড়িয়ে নিন। এরপর হাই পনিটেল করুন। এটি দেখতে খুবই ভালো লাগবে।



* চোখের উপরের ও নিচের পাতায় ঘন করে কালো আইলাইনার লাগান।



* অরেঞ্জ রঙের লিপগ্লস লাগান। দেখতে উজ্জ্বল লাগবে।



খুঁত ঢাকতে মেকআপ



* কনসিলার বা ব্লেমিশ কভার আপস্টিক, মুখের দাগ অথবা ভাঁজ ঢাকতে ব্যবহার করুন।



* আপনার ত্বকের গাঢ় দাগ বা খুঁতের জায়গা ঢাকতে চাইলে ত্বকের রঙের চেয়ে দু-এক শেড হালকা রঙের কনসিলার বা কারেক্টিভ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।



* আঙুলের ডগায় নিয়ে হালকা করে দাগের ওপর লাগান। তারপর ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।



* ফাউন্ডেশন দেওয়ার পর অতিরিক্ত মেকআপ শুষে নিতে টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন।



* কমপ্যাক্ট লুস পাউডার লাগান এবং কয়েক মিনিট পর ব্রাশ করে নিন। এরপর লিপস্টিক, ব্লাশার আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। আপনার সাজ এখন সম্পূর্ণ।



ঘরে বসেই সহজ মেকআপ



মেকআপের কিছু প্রাথমিক নিয়ম জানা থাকলে ঘরে বসেই মেকআপ করতে পারেন আপনিও। এ জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো প্যানস্টিক, ডাস্ট পাউডার, প্যানকেক, পাফ ও ফোম, ব্লাশন, কয়েক রকম আইশ্যাডো, মাশকারা, লিপস্টিক ও গ্লস, বিভিন্ন রকম চোখের, গালের ও ঠোঁটের ব্রাশ। প্যানকেক ও ডাস্ট পাউডার ত্বকের রং অনুযায়ী বাছাই করবেন। ফর্সারা গোলাপি, শ্যামলারা বাদামি আর কালোরা গাঢ় রং বেছে নেবেন।

মেকআপের আগে চাই ত্বকের যত্ন। ত্বক শুষ্ক হলে মুখ ধুয়ে হালকা করে তরল ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন। ত্বক তৈলাক্ত বা মিশ্র হলে টোনার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলেই চলবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে বরফ বেঁধে মুখে ঘষে নেবেন।



আগে প্রথমে আঙুলের ডগায় প্যানস্টিক নিয়ে মুখের কালো দাগ ঢেকে দিতে হবে। এরপর পাফের সাহায্যে পুরো মুখে ডাস্ট পাউডার লাগাতে হবে ও পানি স্প্রে করতে হবে হালকাভাবে। আঙুলের সাহায্যে চেপে পাউডার মুখে বসিয়ে নিতে হবে। পাউডার বসে গেলে ভেজা ফোমের সাহায্যে প্যানকেক লাগিয়ে নিন। প্রথমে টি জোন, অর্থাত্ কপাল, নাক ও চিবুকে লাগাতে হবে। তারপর আঙুলের সাহায্যে মুখের অন্যান্য অংশে পুরোপুরি মেশাতে হবে। হাতেও প্যানকেক লাগাতে হবে, যাতে ত্বকের রঙে বৈসাদৃশ্য দেখা না যায়। হালকা ফেসপাউডার বুলিয়ে গালের ভাঁজে ব্লাশনের পরশ দিন। তৈরি হয়ে গেল মেকআপের বেজ।



মেকআপের কিছু ভুলভ্রান্তি কাটাতে



* শরীরের রং অনুযায়ী সাবধানে ফাউন্ডেশন বেছে নিন। ভুল করে শেডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে শুধু যে মেকআপ অস্বাভাবিক লাগে তাই নয়, আপনার মুখের অন্য কোনো দাগ থাকলে তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ফাউন্ডেশনের শেড বাছাই করার সময় অল্প একটু নিজের গালে আর চোয়ালের কাছে লাগিয়ে প্রাকৃতিক আলোয় দেখে নিন, কেমন লাগছে।



* ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব ঘন বা মোটা ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। বেছে নিন আপনার ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই কোনো হালকা লিক্যুইড ফাউন্ডেশন। ময়শ্চারাইজার লাগানোর পর সেটা মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।



* আপনার মুখের ব্রণ, দাগ বা ডার্ক সার্কল ঢাকার জন্য একগাদা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। ওই কাজটা কনসিলার দিয়ে করা উচিত।



* ত্বকে ফাউন্ডেশন লাগানোর পর খুব ভালো করে ব্লেন্ড করতে ভুলবেন না। আর শুধু ফাউন্ডেশনই নয়, আই শ্যাডোর সঙ্গে আই লাইনার, লিপ লাইনারের সঙ্গে লিপস্টিক যেন ভালোভাবে মিশে যায়।



* ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিমের আগে ফেসপাউডার বা ফাউন্ডেশন লাগাবেন না।

0 comments:

Post a Comment

" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!

Follow me