বিএসসিআই এর ট্রেনিং ।

জীবনে কিছু কিছু দিনের স্মৃতি সত্যিই ভোলা যায়না ।

Firmgate

Badhon

শুভ জন্মদিন

তোমার জীবনের ছোট্ট ছোট্ট সময়গুলোকে আনন্দের রং লাগিয়ে স্বরনীয় করে রাখতে চেষ্টা করছি । যা সেদিন তোমাকে মনে করিয়ে দেবে যে, এই আমি তোমাকে কতটা গুরুত্ব দিতাম । যেইদিন আমি তোমার জায়গায়..আর তুমি আমার জায়গায় থাকবে।

সোনার গাঁও

কোন কোন মানুষ জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ন হয়ে যায় । কোন কোন দিনও সারাজীবন মনে থেকে যায় । সেরকম একটি দিন ছিল যেদিন এই ছবিটা তুলেছিলাম ।

পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছে, তুমি সেলফি নিয়েই থাকো ।


২০১৫ সাল পর্যন্ত ৭৬ টির বেশি প্রজাতির প্রাণী এবং কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা আমাদের পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর বিনিময়ে আমাদের অথনৈতিক উন্নতি হয়েছে। আর এই উন্নতির এর পরিনামে বাতাসে প্রতিবছর ২০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত হচ্ছে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিবছর ৬০ হেক্ট্রর জমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে বালুকাকীর্ণ হয়ে পড়ছে ৪ হেক্ট্রর উর্বর ভূমি। আর এই জন্যই স্টিফেন হকিংস বলেছেন, “প্রযুক্তির উন্নয়েনের কারণেই এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি এখনও মুখে রং মেখে সেলফিই তুলে যাচ্ছো?

বিশ্বাস করো, বিশ্বের সর্বাধিক বায়ু দূষিত ১৫টি শহরের ১৩টি হলো এশিয়ায়। এই দূষণ এশিয়ায় বছরে ১০ লাখ লোকের মৃত্যুর কারণ। অথচ আমরা সর্বদাই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবদ্ধির জন্য নিবেদিত। কিন্তু উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু পরিবেশকে পাশ কাটিয়ে পরিবেশের উপর একছত্রভাবে জুলুম করে পক্ষান্তরে উন্নয়নের চাকাটির চলার পথই রুদ্ধ করছি। এ ভুলের মাসুল একদিন এই পৃথিবীর মানুষগুলোকে দিতে হবে ।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির পিছনে বহুলাংশে দায়ী কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ প্রাক্-শিল্পযুগ সময়ের (১৭৫০ সাল) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত ১০০ ppmv (parts per million by volume) বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে বিগত ৩০-৪০ বছরেই প্রায় ৫০ppmv বৃদ্ধি পেয়েছে। সভ্যতা বিকাশের জন্য আমরা বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর, যা প্রচুর পরিমাণেকার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে। আবার দ্রুতহারে বন-ধ্বংস ও ভূমিবিন্যাসের পরিবর্তন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ উদ্ভিদ কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সঞ্চয় ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বন ধ্বংসের ফলে সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমন্ডলে মুক্ত অবস্থায় থাকে। তাই আপনার সন্তানকে একটা নির্মল সুন্দর আগামী উপহার দিতে, গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই ।

বিজ্ঞান বলে, একটি দেশে ২৫% বনভূমি থাকা দরকার । কিন্তু সেখানে বাংলাদেশে বনভূমি রয়েছে মাত্র ১৬%। তাই এখনই সময়, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আরো কিছু গাছ লাগান । কিংবা হোক সেটা ভাড়া বাসা, সুযোগ থাকলে বাসার ছাদে, বেলকুনীতে গাছ লাগান, যা আপনাকে নির্মল বাতাস, মন খারাপের সঙ্গী এবং আপনার সঙ্গীর সাথে কাটানো সময়গুলোতে বাড়তি রোমান্টিকতা জোগাবে ।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক মনে করছে, “ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী ১০০ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধান উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে । বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ফল ও ফুলের রেণু, মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট হচ্ছে। এতে শস্য ও ফল আগের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। অনেক ফলবতী বৃক্ষ পুরোপুরি বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত গতিতে বাড়ছে বাড়ছে বড় বড় রোগের ভয়ংকর জীবনাগুলো ।

ভাবলে শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে, শুধু আমাদের দেশেই গত ২৮ বছরে শনাক্ত হয়েছে এই ভয়াবহ সাতটি রোগ- ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, এইচআইভি/এইডস, নিপাহ, বার্ড ফ্লু ও সোয়াইন ফ্লু। যদিও বহুকাল আগ থেকেই এসব রোগ ছিল, তবে কখনোই মানুষের মধ্যে ছিল না । অত্যাধিক পরিবেশ দুষন আর এডিস মশার বংশ বিস্তারের কারণে এসব রোগ দ্রুতই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে । আর আপনি আছেন, এবছর কত ইনক্রিমেন্ট হবে তাই নিয়ে?

যে শিশু আগুনের ভয়াবহতা জানেনা, তাকেও যেমন আগুন ক্ষমা করেনা, তেমনি তুমি যদি মুচকি হেসে বলো, আমি এসব বুঝিনা, তবুও এই বিপর্যয় আমাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দিবেনা । যদিও এটা কোন বিশেষ জাতি কিংবা কোন দেশের একার নয়। তাই আমাদের সবারই এব্যপারে ভাবা উচিত, এগিয়ে আসা উচিত, এবং যাদের কাজ করার সুযোগ আছে, তাদের অনুপ্রানীত করা উচিত ।

আজ তাসনিয়া আপুর কথাটা খুব মনে পড়ছে , “শোন ভাই! আমাদের পরের প্রজন্মের জন্যে খুব খারাপ লাগে, চিন্তা হয় | পরিবেশ একেবারেই আর বাসযোগ্য নয় | পলিথিন আর ময়লা দিয়ে আমরা পৃথিবাটাকে নষ্ট করে ফেলছি | বিশুদ্ধ বাতাসের বড়ই অভাব | ওজোন স্তর ভেঙে পড়ছে | আর আমরা আছি , পেয়াঁজ দিয়ে তরকারি খেতে পারছিনা এই শোকে |” সত্যিই আপু দারুন বলেছো ।

সবকিছু আইন করে হয়না, তাই আসুন আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে এই পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি, আর এটা আপনার দায়িত্ব (বিশ্বাস না হলে, চ্যালেঞ্চ করতে চাইলে আমাকে ফোন দিন, কিংবা আসুন একবার কোন চায়ের দোকানে বসি) । আপনি কি আপনার সন্তানের জন্য অর্থ জমাচ্ছেন না? তাহলে কি তার জন্য সুন্দর একটা পৃথিবী, একটা বিশুদ্ধ বায়ুমন্ডল দরকার নেই? নাকি টাকা চিবিয়ে চিবিয়েই বেঁচে থাকতে পারবে? আসুন বন্ধুদের নিয়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে পার্টি না দিয়ে, গাছ লাগানোর পার্টি দেই, নিজেদের জায়গা না থাকলে সরকারী রাস্তায় গাছ লাগাই? কারণ আমাদেরতো গাছের মালিকানা দরকরা নেই, নির্মল একটা বায়ুমন্ডল দরকার ।

আসুন দশজন মিলে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটা গ্রামের সবাইকে সচেতন করি, তারা যেনো আরো বেশী বেশী গাছ লাগায়, তারা যেনো তাদের ব্যবহ্রত ময়লা বাইরে যত্রতত্র না ফেলেন, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন, রান্নার পরে যেন চুলা বন্ধ রাখেন । কিংবা বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে গাছের চাড়া বিতরন করি, বিভিন্ন স্কুলের জমিতে ফ্রি’তে গাছের চাড়া রোপন করে দেই । আসুন চুলে রং করা আর জেল লাগানো বাদ দিয়ে, আমাদের সন্তানদের জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী তৈরি করি ।

[বিশেষ ধন্যবাদঃ আমি পরিবেশ সম্পর্কে ভাল বুঝিনা, আমার এটার সার্টিফিকেট নেই । তাই এই পোষ্টটি লিখতে যেসব মাধ্যম থেকে আমি রেফারেন্স কিংবা সাহায্য নিয়েছি, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ । অনেকের হয়ত নামও জানা নেই, তবে কোনদিন যদি আমার এই লেখাটি তোমার নজরে পড়ে, সেদিন ভেবে নিও, আমি কৃতজ্ঞতা ভরে তোমাকে স্মরণ করেছি। এই লেখাটি পড়ার পর যদি কেউ একটা গাছও এই পৃথিবীতে রোপন করে, কিংবা একটা ময়লাও কম ফেলে, এই পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করতে কেউ একটুও অবদান রাখে, তাতে তোমার অংশও থাকবে ।]

এক ঘন্টায়, দু’বছরের অভিজ্ঞতা ।

অভিজ্ঞতার অভাবে, যারা চাকরি পাচ্ছেন না। ফ্রেস, অনেক ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে চাকরী পাচ্ছেন না, তাই হতাশ । তাদের জন্য আমার আজকের পোষ্ট ।

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, যদি সত্যিকারের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন মানুষ, একজন ফ্রেসারকে এক ঘন্টা সময় দেন, তাহলে সে একজন ফ্রেসারের বাস্তবে দু’বছরের কাজের সমান অভিজ্ঞ করে তৈরি করে দিতে পারেন । কিন্তু আজকের দিনে, সেই চেষ্টা করা মানুষটির বড্ড অভাব । যাদের মন আছে, তাদের অভিজ্ঞতা নেই, যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের সময় নেই ।

যারা সদ্য লেখাপড়া শেষ করেছেন, গার্মেন্টসের এইচ.আর, কমপ্লায়েন্স কিংবা ওয়েলফেয়ার অফিসার এ চাকরীর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিংবা বার বার ইন্টারভিউ দিয়ে হতাশ, কিংবা সিভি দিচ্ছেন, ডাক পাচ্ছেন না, তাদের জন্য একটা সস্তা পরামর্শ, কোন ফিস/ঘুষ দিতে হবেনা । (আজকালতো নিজের অধিকারের জন্য ঘুষ দিতে হয়) । আগামীতে কোথাও চাকরীর জন্য সিভি জমা দেওয়ার আগে, সিভিতে দু’বছরের অভিজ্ঞতা আর আপনার পরিচিত কোন কোম্পানীর নাম লিখে, আমাদের ম্যাসেঞ্চারে নক করবেন । আমি আপনার জন্য একটা ঘন্টা সময় ব্যয় করবো, তারপর ডাক পেলে, ইন্টারভিউ দিতে যাবেন ।

আমি আশাকরি প্রাথমিক লেভেলে দু’বছর চাকরী করার সমান অভিজ্ঞতা, জ্ঞান বা টিপস আমি আপনাকে একঘন্টায় দিতে পারবো, যেটা আপনাকে চাকরী জীবনের ফ্রেসারের অভিসাপ থেকে মুক্ত করবে । এটা এমন কোন রকেট সাইন্স নয়, যেটা আপনাকে বললে আপনি বোঝবেন না । কিন্তু সবাই বোঝার মতো করে বলেনা, তাই আমরা বুঝিনা ।

অনেকে বোধহয় এখন মিচকি মিচকি হাসছেন, যে এটা ফ্রট, নয়ত যতসব ফালতু পোষ্ট । কিন্তু আমি কিছু মনে করছিনা, কারণ ভাল কিছু করতে হলে, একটু অপমান আর অপদস্ততো হতেই হয় । তবে একটা কথা বলতে পারি, আপনিওতো পরীক্ষার আগে প্রাইভেট পড়েছেন, ধরে নিন আমি একজনকে ফ্রিতে প্রাইভেট পড়াবো । হয়ত আপনার মাস্টার ব্যবসায়িক মানসিকতার ছিল, তাই এক চাপ্টার দিয়ে পুরো মাস পার করেছেন, আর আমি সব চাপ্টারগুলো মিলিয়ে একটা নোট বানিয়ে, তা একঘন্টায় আলোচনা করব । যাতে সে একটা স্বচ্ছ ধারণা পায় । যদি সমুদ্রের সমান বিষয় একদিনের ট্রেনিং আমাদের খাইয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আমি পুকুরের সমান বিষয় একঘন্টায় কেন একজন শিক্ষিত মানুষকে শেখাতে পারবনা? এটা কি খুব বেশি কঠিন হবে?

সুখ!

একটি অদ্ভুত শব্দ । কেউ কেউ সারা জীবন চেষ্টা করেও এর অর্থ খুঁজে পায়না । আবার যাদের কাছে জীবনেরই কোন অর্থ বহন করেনা, তারা এ শব্দটার অর্থ খোঁজার চেষ্টাও করেনা । বরং এ শব্দটা তখন অসহনীয় আর অসহ্যকর হয়ে দাঁড়ায় ।

কারন, জীবনে এমন কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন দুজনের যুক্তিতর্ক সঠিক হওয়া সত্বেও, সন্ধিটা ভেঙে দিয়ে সারাজীবনের মতো আলাদা হয়ে যেতে হয় । আর বাকিটা জীবন অসহনীয় দগ্ধ ক্ষত আর যন্ত্রণাকে বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে, হাসিমুখে সুখে থাকার অভিনয় করে বেঁচে থাকতে হয় । তাদের কাছে সুখের কি ব্যাখ্যা হতে পারে? শত চেষ্টা করেও এর কি মানে তারা খুঁজে পাবেন?

প্রত্যেক মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন কিছু কিছু শব্দ বড্ড অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, আর কিছু শব্দ অসহনীয় । সুখ তার মধ্যে সর্বাধিক উপরে । তাই অনেকেই এর অর্থ খোঁজার চেষ্টাও করেনা, আর পায়ওনা ।

ভয়ংকর চল্লিশ ।

প্রতিটা মানুষের জীবনে চল্লিশ একটা অতি গুরুত্বপূর্ন সংখ্যা । আমরা সবাই জানি শিক্ষার কোন বয়স নেই, কিন্তু জীবনে উন্নতি করতে হলে, নিজেকে মূল্যবান হিসাবে তৈরি করতে হলে, তোমাকে চল্লিশের আগেই করতে হবে ।

বিশ্বাস হচ্ছেনা, এতক্ষনে তোমার মনে হাজার প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে । একটা কথা চিন্তা করে দেখো, পৃথিবীর কত শতাংশ মানুষ চল্লিশের কম বয়সে সফলতা পেয়েছেন, আর কত শতাংশ চল্লিশের বেশী বয়সে । টমাস আলভা এডিসনের নামতো শুনেছো, মাত্র বাইশ বছর বয়সে প্রথম আবিষ্কার করলেন ভোল্ট গননা করার যন্ত্র । ভাবা যায়, যে ছেলে তের বছর বয়সে খবরের কাগজ বিক্রি করতো, আর উনত্রিশ বছর বয়সে কোম্পানী ও গবেষণাগারের মালিক ।

যার মৃত্যুর পর নিউইয়র্ক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল মানুষের ইতিহাসে এডিসনের মাথার দাম সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন সৃজনীশক্তি অন্য কোনো মানুষের মধ্যে দেখা যায় নি। তাই তার শেষ নিঃশ্বাসটুকু একটি টেস্টটিউবে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে হেনরি ফোর্ড জাদুঘরে।

ভাবুন একবার, মাত্র ২৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের পাশে জায়গা করে নিল, স্যার আইজাক নিউটন। মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় মহান বিজ্ঞানী স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন, চারটি বিখ্যাত রচনা-প্রথমটি আলোর গঠন ও শক্তি সম্পর্কে।

তাই অপেক্ষা করার মতো আপনার হাতে আর বেশী সময় নেই । এটা ভাববেন না যে, মানুষের এক জীবন অভাবে কাটলে, অন্যজীবন ধনী হতে পারবেন, সেই আশায় বসে থাকলে ভুল করবেন । কারণ চেষ্টা আর লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী পরিশ্রম করার সাহস না থাকলে রুটির দোকানে কাজ করে কেউ জাতীয় কবি হতে পারেনা, অনেকেতো সারাজীবন রুটি বানিয়েই কাটিয়ে দেয় । আপনাকে নিজেকে নিয়ে একটা লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করতে হবে, তারপর কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকি নিয়ে, সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে, সফলতা আসবেই ।

আজই শুরু করে দাও, এখনই । মাইকেল ব্লুমবার্গের এই কথাটা পড়োনি, “সাফল্যের সূত্র হলো কখনোই শেখা বন্ধ না করা। সব সময়েই নিত্যনতুন বিষয় শিখতে হবে এবং শেখার এ আগ্রহ কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না ।” কারণ শিক্ষাই পারে, আমাদের ভেতরের শক্তিটাকে আরো মজবুত করে গড়ে তোলতে, যা বাস্তবতার মুখোমুখি দাড়াতে তোমাকে সাহায্য করবে । আর একবার যদি সাহস করে সমস্যার মুখোমুখি দাড়াতে পারো, তুমি সফল হবেই । কার্লোস স্লিম হেলু বলেছেন, “‘আমরা যখন সমস্যার মুখোমুখি হই, তারা চলে যায়। এ কারণে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন এবং সাফল্যকে গোপনে ডেকে আনুন।”

জব করছো? কে তোমার বস?

জীবনে মানুষ হয়ে তৈরি হওয়ার জন্য একজন ভাল শিক্ষকের আশ্রয়ে থাকা যেমন জুরুরী, তেমনি কর্মজীবনে সাফল্য, যোগ্যতার সীলমোহর অংকনের জন্য একজন ভাল বসের অধীনে চাকরী করা খুবই জরুরী । যার সমাজে অন্তত মানুষ হিসাবে বলার মতো একটা পরিচিতি আছে, যার গুনাবলী আমাদের এক্সট্রা ওভার টাইমের খাতার মতো, দুটো রেজিষ্টারে লেখা নাই ।

তাই চাকরী পরিবর্তন করতে চাইলে, বেতন আর পদবীর চেয়ে যে বিষয়গুলোতে আমাদের বেশী নজর দেওয়া উচিত, তা হলো, কে হবে আমার বস, শ্রমিক/কর্মচারী কতজন, আর মার্কেটে উক্ত কোম্পানীর অবস্থা (সুনাম) কেমন? শুধু বেতন আর পদবী দিয়ে এই প্রতিযোগিতার মার্কেটে সুনামের সাথে টিকে থাকতে পারবেন না । বেতনের কথাই যখন উঠলো, একটা কথা বলি বেতন দিয়ে মানুষের যোগ্যতা বিচার করা যায়না, কারণ কিছু কিছু স্পেশাল গাড়ীর ড্রাইভারের বেতন কিংবা প্লেনের ড্রাইভারের বেতন আপনার চেয়ে অনেক বেশী, তাহলে? আর পদবী? সাবকন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরীর জি.এম, আর দেশের প্রথম শ্রেণীর দশ হাজার শ্রমিক/কর্মচারীর একটা কোম্পানীর একজন ম্যানেজার বোধহয়, বেশী সাহসী আর ট্যালেন্ট হয় । কারণ পুকুরের রাঘব-বোয়ালের চেয়ে সমুদ্রের চুনোপুটিও বেশী দুরন্ত আর সাহসী হয় ।

কেন তোমার মনে নেই, কে যেন বলেছিল, গ্রামের কলেজ থেকে বিয়ে পাস করার চেয়ে, ঢাকা শহরে চিকা (দেয়াল লিখন) মারলেও বেশী শেখা যায় । আমার আজকের লেখা এ বিষয় নিয়ে নয়, তাই মুল প্রসঙ্গে আসি ।

নিচের প্যারাটা একটু বেশী মনোযোগ দিয়ে পড়ো-
যদি তোমার বসের পরিচিতি, সুনাম, চরিত্র, কন্ট্রোল করার ক্ষমতা, তোমার অভিজ্ঞতা আর যোগ্যতার উপরে কোন প্রভাব ফেলতে না পারে, যদি তোমার কাছে পদটাই একমাত্র অবলম্বন কিংবা যোগ্যতার মাপকাঠী হয়, তাহলে আমরা ভাল স্কুল/কলেজ থেকে কেন পাস করার চেষ্টা করি, বই’তো সব একই? নর্থ সাউথ থেকে কেন মানুষ এমবিএ করে, কেন ইস্ট-ওয়েষ্ট কিংবা অতীশ দিপঙ্কর থেকে করেনা? কারণ সনদপত্রটাই বড় কথা নয়, বরং সেটা কার কাছ থেকে পেয়েছো, কার তত্বাবধানে থেকে পেয়েছো, এটাই বড় আর মুল বিষয় । তাই জীবনে উন্নতি কিংবা যোগ্যতার ওজনটা বাড়ানোর জন্য একজন ভালো বসের অধীনে কাজ করা খুবই জরুরী ।

একটা কথা ভেবে দেখুন, ছাত্র জীবনে একজন শিক্ষক যেমন, কর্মক্ষেত্রে একজন বস তার চেয়েও বেশী । পিএইচডি করার পর, যেমন জানতে চাওয়া হয়, কার তত্বাবধানে করেছো, ঠিক আজকাল ভাইভাতেও জানতে চাওয়া হয়, তুমি কার অধীনে জব করছো? কারণ একজন ধান চাষী কখনও আপেল চাষ করার শিক্ষা দিতে পারেনা । তোমাকে যদি জানতে চাওয়া হয়, তুমি আপেল চাষ করা কার কাছে শিখেছো? তুমি যদি বলো, আমাদের গ্রামের ধান চাষী করিম চাচার কাছে । তখন বোঝা যাবে, তুমি কতটুকু শিখেছো ।
তাই চাকরী পরিবর্তনের সময়, অবশ্যই বসের সম্পর্কেও খোঁজখবর নিন । এটাই আপনার পরবর্তী জীবনের বেশী প্রভাব ফেলবে । আপনার যোগ্যতার ওজন নির্ভর করবে, আপনার বসের যোগ্যতা, সুনাম আর সেক্টরে পরিচিতির উপরে । কথাটা ভেবে দেখবেন…..।

গার্মেন্টস শিল্প (1960 - 2015 )



আদিকাল থেকে মানুষ কোন না কোন বস্ত্র ব্যবহার করে আসলেও আসলে সেলাই মেশিনের সাহায্য বস্ত্র ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথম ১৭৫৫ সালে সেখান থেকে বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয় অনেক পরেই বলা যাই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হই ১৯৬০ সালে

গার্মেন্টস শিল্প গত ৩০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ ব্লাডে পরিণত হয়েছে । বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে বর্তমানে চীনের পরেই বাংলাদেশের স্থান । বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের সর্বমোট ২৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে এককভাবে শতকরা ৮০ ভাগ অর্জনের পাশাপাশি গার্মেন্টস খাত প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান করছে । আর পরোক্ষভাবে আরো এক থেকে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখছে এ শিল্প । শতভাগ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতায় পরিচালিত তৈরি পোশাক শিল্প আজ একটি সফল কাহিনী । তৈরি পোশাক শিল্প গুরুত্বের বিচারে এখন এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অনেকাংশেই আজ এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল।

বেড়ে ওঠা :

১৯৮৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ শক্তিমান পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বাজারের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের কাছে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে পরিণত হয়। ১৯৮৬ সাল থাকে বাংলাদেশ ইউএসএ এবং কানাডার ক্রমবর্ধমান কোটা বাধ্যবাধকতার আওতাভুক্ত হয়। ১৯৮০-র দশকে বেশকিছু দেশে তৈরি পোশাক শিল্প বিপত্তিকর অবস্থায় পড়ে। অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য কয়েকটি দেশে উপাদন খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। ক্রেতারা বিকল্প উস খুঁজতে থাকে এবং সস্তা শ্রমিক ও বড় আকারের রপ্তানি কোটার সুবাদে বাংলাদেশ একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে প্রতীয়মান হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে কোটামুক্ত মর্যাদা এবং জিএসপি সুযোগ-সুবিধা দিতে থাকে। তাছাড়া, ইউএসএ এবং কানাডা বাংলাদেশের জন্য বেশ বড় আকারের কোটা বহাল রাখে। এসব সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে ইউএসএ, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার নিশ্চিত করে। তৈরি পোশাক শিল্প বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলি কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সস্তা শ্রমিকের সহজলভ্যতা বাংলাদেশকে তুলনামূলক সুবিধা এনে দেয়। সরকারের নীতিসমূহ এই শিল্পখাতের দ্রুত সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখে। সরকার পিঠাপিঠি প্রত্যয়পত্রের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাপড় আমদানি, শুল্কাধীন গুদাম ব্যবহারের সুবিধাদি, সুদের হারে বিশেষ ছাড়, রপ্তানির জন্য নগদ অর্থে প্রণোদনা, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার সুবিধাদিসহ বিভিন্ন ধরনের উসাহ-উদ্দীপনা যুগিয়ে ছিল । এছাড়া সরকার আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে কার্যকর কিছু আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপও গ্রহণ করে ।

পোশাক শিল্পের বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধির জন্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় উপাদানই ভূমিকা রেখেছে। বাহ্যিক কারণের একটি ছিল গ্যাট (GATT) অনুমোদিত ‘মাল্টি ফাইবার অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (এমএফএ)-এর অধীনে কোটা পদ্ধতি। এই কোটা পদ্ধতিতে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক আউট সোর্সিং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বেশি দামে প্রস্ত্ততকারী দেশ থেকে কম দামে প্রস্ত্ততকারী দেশে স্থানান্তর করা হতো। এমএফএ’র প্রয়োগ বাংলাদেশের জন্য অনেকটা আশির্বাদ বয়ে আনে। নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের একটি উল্লেখযোগ্য ‘কোটা’ রপ্তানির সুযোগ পায়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোটামুক্ত বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশকে জিএসপি সুযোগ দেয়া হয়। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বৃহ সরবরাহকারী পোশাক প্রস্ত্ততকারীরা কোটা সুবিধা এবং সস্তা শ্রমের দেশে কারখানা পুনঃস্থাপনের কৌশল গ্রহণ করে। বাংলাদেশকে তারা সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে। এ কারণেই বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কারখানা গড়ে ওঠে ।

এ ছাড়াও আরও কিছু কিছু কারণ বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে অবদান রেখেছে। কোনো কোনো দেশ যেমন শ্রীলংকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় শ্রম মজুরি দ্রুত বেড়ে যায়। ক্রেতারা বিকল্পের সন্ধানে ছোটে। শান্তিপূর্ণ কাজের পরিবেশ, সস্তা শ্রম এবং বড় আকারের কোটা সুবিধা প্রাপ্তির কারণে বাংলাদেশ আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় । তাছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রশিক্ষণযোগ্য শ্রমিকের সরবরাহ। সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিমালাও এই শিল্প গড়ে ওঠার পিছনে অবদান রেখেছে। সরকারের সুযোগ সুবিধার মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক এল.সি (লেটার অব ক্রেডিট)। পণ্য গুদামজাতকরণ সুবিধা (শুল্ক আদায় সাপেক্ষে) হ্রাসকৃত সুদে ঋণ, নগদ রপ্তানি সুবিধা, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা তৈরি ইত্যাদি। এছাড়াও আমদানি রপ্তানি নীতিমালা গতিশীল করতে সরকার অনেকগুলি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম একটি বড় বিষয় প্রতিটি বায়ারের কাছে । এই খাত থেকে শিশুশ্রমিক বর্জনের আন্তর্জাতিক দাবিতে বাংলাদেশ অত্যান্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ১৯৯৪ সালের ৪ জুলাই ঢাকায় বিজিএমইএ, আইএলও, ইউনিসেফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যৌথভাবে এক স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে এবং বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। এটি বাংলাদেশের প্রতি কারখানায় সফলভাবে কার্যকর করা হয়। অর্থনৈতিক সমর্থন পেলে শিশুরা ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্কুলে অংশগ্রহণ করতে পারে । আর এই লক্ষেই বিজিএমইএ এবং কিছু এনজিও যৌথভাবে শ্রমজীবী শিশুদের জন্য কিছু স্কুল পরিচালনা করছে। যা প্রতিটি বায়ারের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে ।


সকল বায়ারেরই কাররখানার মালিকদের প্রতি দাবি হলো আইন মেনে চলা, ন্যূনতম মজুরি চালু করা, কাজের পরিবেশ, ইকো-লেবেলিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন করা এবং শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং/অথবা ট্রেড ইউনিয়নে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেওয়া । আর এ ব্যপারে বাংলাদেশ অনেকটা সক্রিয়ভাবে গুরুত্বের সাথে বিষয়গুলো মেনে চলছে, যার ফলে অত্রি দ্রুত সময়ে গার্মেন্টস শিল্পগুলো প্রসার লাভ করে ।   

রপ্তানীর ইতিহাস :

বাংলাদেশে প্রথম গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয় ১৯৬০ সালে ঢাকার উর্দুরোডে যার নাম “রিয়াজ গার্মেন্টস” প্রাথমিকভাবে রিয়াজ গার্মেন্টস এর উতপাদিত পোশাক স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করা হতো ইংরেজি ১৯৬৭ সালে রিয়াজ গার্মেন্টস এর উতপাদিত ১০,০০০ পিস শাট বাংলাদেশ হতে সর্বপ্রথম বিদেশে (ইংল্যান্ডে) রপ্তানি করা হয়
গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রকৃতপক্ষে ১৯৮১-৮২ সালে . বিলিয়ন টাকার রেডিমেইড গার্মেন্টস রপ্তানি করে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পদচারনা আরম্ভ হয় উক্ত সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্পের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না অথচ মাত্র ১০ বতসরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমান ১৯৯২-৯৩ সালে ১৪৪৫ মিলিয়ন ইউ.এস ডলারে উন্নীত হয় এরপর থেকে বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দিনকে দিন পোশাক রপ্তানির পরিমান বেড়েই চলেছে যেখানে ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বমোট পোশাক রপ্তানির পরিমান ছিল ১৯,০৮৯.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে তা ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৫১৫.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আয় ৩০,১৮৬.৬২ মিলিয়ন ডলার

১৯৮২ সালে কারখানার সংখ্যা ছিল ৪৭ এবং ১৯৮৫ সালে ৫৮৭, আর ১৯৯৯ সালে ২,৯০০টিতে উন্নীত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই শিল্পের সাফল্য স্পষ্ট হয়ে উঠে। এই ধারাবাহিকতায় উপাদন ও রপ্তানি ক্ষমতা সমানতালে বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৯ সালে কারখানার সংখ্যা ৩ হাজারে উপনীত হয়। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিশ্বের দ্বাদশ বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। তন্মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের স্থান ষষ্ঠ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে টি-শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান দখল করে আছে। ১৯৯০-এর দশকে এ শিল্পখাতের সম্প্রসারণ ঘটেছে বার্ষিক প্রায় ২২ শতাংশ হারে।


অথনীতি ও গার্মেণ্টস :

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প সুদূরপ্রসারি অবদান রেখে চলেছে ।  ইপিবি এভং বিজিএমই-এর গবেষণা সেলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত তিন অর্থ বছর ধরে প্রতিবছর নতুন বাজেটের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে । গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নতুন বাজারের সম্মিলিত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ । আগের অর্থবছরে এর হার ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ । ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক ৫৬ শতাংশ । পুরনো এবং নতুন সব বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে । বিশেষ করে নতুন বাজারের রপ্তানি বেশ ভালো । সমাপ্ত অর্থ বছরে নতুন বাজার থেকে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে । ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এসব বাজারে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ ।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে বিশ্ব মন্দায় প্রধান প্রধান বাজারে রপ্তানি কমে যাবার সম্ভাবনায় ছোট ছোট নতুন বাজারের পক্ষ থেকে প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে । ফলে নতুন বাজার থেকে ভালো সারা পাওয়া যাচ্ছে । আরো জানা গেছে, নতুন বাজার সম্প্রসারণে ইপিবির ভূমিকাই মুখ্য । বাজার সম্প্রসারণে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে । নতুন বাজার হিসেবে তুরস্ক, অষ্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া, রাশিয়া, ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগাল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ২৫টি দেশকে নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করেন রপ্তানিকারকরা । আলোচ্য এসব বাজারের মধ্যে শীর্ষে ছিল তুরস্ক । তুরস্কে রপ্তানি হয়েছে ৬২ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য । এসব বাজারের মধ্যে গত অর্থ বছরে শীর্ষে থাকা জাপান এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে । তবে গত বছরের ৪৯ কোটি ডলার থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৫৭ কোটি ২২ লাখ ডলার । তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া । আগের বছরের আয় থেকে সামান্য বেড়ে রপ্তানি হয়েছে ৪৩ কোটি ডলারের পণ্য, নতুন বাজারের মধ্যে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া সব দেশেই আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে । অন্যদিকে প্রচলিত বাজার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় জার্মানি এবং তৃতীয় ফ্রান্স । তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম বেশি বাংলাদেশী পোশাক রপ্তানি হচ্ছে । রপ্তানি বাজার হিসেবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান তারা । কারণে নতুন নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে তারা । বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প অগ্রবর্তী প্রভাবের ফলে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উদঘাটন করেছে, যা একমাত্র সম্ভব হয়েছে বতমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার ফলে ।


প্রতিকুল অবস্থা :

গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার যথেষ্ট আন্তরিক, সাথে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে বিজিএমইএ” “বিকেএমইএ” ও অন্যান্য এনজিও প্রতিষ্ঠান । তারপরও অনেক সময় দেশের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক অবস্থা ও শ্রমিক অসন্তোষ এর কারণে মাঝে মাঝে বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে, সাথে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটতো আছেই । এসব কারণে মাঝে মাঝে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় বিদেশী বিনিয়োগ রফতানি কমে যাচ্ছে বা যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পোশাক শিল্পের ঈর্ষণীয় সাফল্য ব্যর্থ করে দিতে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচষ্টা করা হচ্ছে। খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের অবকাঠামো স্থিতিশীলতা সম্পর্কে বায়ারদের ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে। বায়ার বিদেশী ভোক্তাদের কাছে নেতিবাচক ধারণা দিতে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘনঘন শ্রম অসন্তোষ, আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করা, বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক নেতা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় ফোকাস করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা কাজ করে যাচ্ছে। গুজব ছড়িয়ে শ্রম অসন্তোষ সহিংসতার পেছনে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী দেশগুলোর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রম অসন্তোষের পেছনে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শ্রম অসন্তোষের কারণে কারখানা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর ফলে কারখানার উতপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও নষ্ট হচ্ছে

বিশেজ্ঞদের ধারণা, বাজার নষ্ট করতে দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের চক্রান্ত, ঝুট ব্যবসার অব্যবস্থাপনা, শ্রমিকদের সঙ্গে কতিপয় এনজিওর অতিমাত্রায় যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সময়ে গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, কারখানার সাথে সাথে শ্রমিকদের পরিপূন উন্নতি না হওয়া, সব প্রতিষ্ঠানগুলো একি হারে সুযোগ-সুবিধা না দেওয়েই দায়ী । অবস্থায় সুযোগ নিচ্ছে প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো, আন্তর্জাতিক বাজারে যার পোশাক রফতানি বাংলাদেশের চেয়ে এখনো অনেক কম। বাংলাদেশ যেখানে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করে, সেখানে তাদের রপ্তানী প্রায় অর্ধেক এর কাছাকাছি । তবে তাদের চক্রান্ত সফল হলে শিগগিরই তারা পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে। কারণ বিদেশী চক্রান্তের মুখে বাংলাদেশের রফতানিমুখী পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে চলেছে। খাতের শ্রমিক মালিকদের মধ্যে দূরত্ব বিভাজন সৃষ্টি করে এর সুযোগ নিচ্ছে প্রতিদন্দি রাষ্ট্রগুলো ।


প্রতিকুলতা থেকে মুক্তির পথ :

1.গার্মেন্টসে সন্ত্রাসী ঘটনার পেছনে থাকা ইন্ধনদাতা প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে, তাছাড়া সেক্টরের ভবিষ্যত নিয়ে শংকামুক্ত হতে পারবে না কেউ। প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং মালিক ও শ্রমিকদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ।
2.এই সেক্টরের মূল সমস্যা বেতন-ভাতা নয়। যদিও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে এবং বছর বছর বাড়ানো হচ্ছে । তারপরও শুধু বেতন বাড়ালে তো হবে না। সরকার যদি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারে তাহলে বেতন বাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। তাই বতমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য সরকারকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে শ্রমিকরা বতমান প্রাপ্য বেতনে ভাতায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে এবং তাদের মাঝের আথনৈতিক হতাশা, দুবল মনস্তাত্তিক বিষয়গুলো থেকে মুক্তি পারে । এ্টাই শ্রমিকদের ভেঙ্গে পরার বড় কারণ, আর এই ভেঙ্গে পরাই মানুষকে যেকোন পথে পা বাড়াতে সাহস যোগায় ।  
3.গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়মিত স্থায়ী রেশনের আওতায় আনা যেতে পারে ।
4.বিভিন্ন কোম্পানী শ্রমিকদেরকে দেশের আইন ও বায়ারের চাহিদা অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেনা । কিন্তু তারা ডকুমেন্টারীভাবে বায়ার ও সরকারকে ভুল বুঝাচ্ছে । যা শ্রমিকদের মাঝে অষন্তোষ হিসাবে কাজ করে এবং ধীরে ধীরে একদিন তা বড় আকারে এলাকা থেকে শহর, আর শহর থেকে দেশে ছড়িয়ে পরে । তাই সরকারকে একটি সত ও উচ্চপাযায়ের একটি টিম গঠন করতে হবে, যারা দেশের কারখানাগুলো অডিট করবে এবং ভেতরের খবরাখবর বেড় করে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করবে । তবে সরকার চাইলে এই কাজে সোসাল কমপ্লাইয়েন্স এর অডিট ফামগুলোর সহযোগিতা নিতে পারে । কারণ এই ফামগুলো যথেষ্ট কাযকরী, এবং তারা কারখানা ও শ্রমিকদের ভেতরের খবরাখবর সম্পর্কে অবগত ।
5.শ্রমিকদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা, দাবি-দাওয়া বা অসন্তোষ নিরসনের উদ্যোগে শুধু কারখানার বেতনভুক্ত কমকতাদের উপরে ছেড়ে না দিয়ে সরাসরি মালিককে মনোনিবেশ করা উচিত, তাতে শ্রমিক ও মালিক উভয়েরই লাভ । আর এজন্য যেকোন শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়ার আগে শ্রমিকদের উতপাদন ক্ষমতার সাথে প্রাপ্য মজুরী সামঞ্জ কিনা? কারখানার বর্তমান প্রশাসনিক কার্যাবলী, কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং কারখানা পরিচালনায় মালিকদের সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে ।
6.বতমান প্রধান সমস্যা মূল্যস্ফীতি অযৌক্তিক বাড়িভাড়া বৃদ্ধি। যে হারে বাজার দর বাড়িভাড়াসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে তাতে ঘন ঘন শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি করতে হচ্ছে। যা শ্রমিক মালিক সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে । তাই সরকারকে বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রনের উপরে বিশেষভাবে জোর দিতে হবে, বাড়ী-ভাড়া নিয়ে বর্তমান আইনকে আরো যুগোপযুগী করে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে ।
7. কারখানার কমপ্লায়েন্স আরো সঠিক পযায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শ্রমিকদের অধিকার, দায়িত্ব, কতব্য সম্পর্কে আরো সচেতন করতে হবে । কারন একজন শ্রমিক যদি জানে সে তার মালিকের কাছে কতটুকু সুবিধা পাবে আর তার বিনিময়ে তাকে কতকুটু শ্রম দিতে হবে, তাহলে সে আর মালিকের কাছে অযৌক্তিক দাবী-দাওয়া করবেনা এবং মালিক-শ্রমিক সম্পকও নষ্ট হবেনা । এ ক্ষেত্রে মালিককে কারখানাগুলোতে আরো ট্রেনিং, ভিডিও প্রদশন, বিনোদন এর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের সাথে সুসম্পক বজায় থাকে ।


প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী :

চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পোশাক তৈরি রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এছাড়া নতুন করে মিয়ানমার তৈরি পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তৈরি পোশাক রফতানি বাণিজ্যে মিয়ানমার এগিয়ে আসছে। গ্যাস-বিদ্যুত মানবসম্পদের সংকট না থাকায় শিল্পে মিয়ানমার খুব দ্রুত বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হবে। তাই আমাদের দেশের শ্রমিক ও সরকারকে উভয়েরই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে । যাদের আমাদের নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির কারনে যেনো এই শিল্পকে হারাতে না হয় । তাই বিষয়কে সামনে রেখে সরকারকে আরো কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রন করতে হবে এবং শ্রমিকদেরকেও আরো নমনীয় ও সহানুভুতিশীল হতে হবে ।

মালিকদের কাছে শ্রমিকদের দাবী-দাওয়া সারাজীবন ছিল, আর থাকবেও, এটাই স্বাভাবিক । কারণ শ্রমিকরাতো ওনার কারখানায়ই কাজ করে, তাদের বতমান ও ভবিষ্যতের ভাল থাকার বীচতো এখানেই বোনা । তবে দাবী-দাওয়াগুলো আদায়ের ক্ষেত্রে এতটা মাত্রাতিরিক্ত পযায়ে চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয় যেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে দাড়ায় । তাই আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে দুজন দুজনের প্রতি সহনশীল হতে হবে ।    


ইতিকথা :

বাংলাদেশে বস্ত্র পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা আগামী ২০/৩০ বছরেও শেষ হবে না পোশাক মানুষের মৌলিক চাহিদা অর্থনীতির উত্থান-পতন যা- হোক না কেন, পোশাকের চাহিদা থাকবেই আর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও গুরুত্ব পাবে সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো পোশাক পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগিতামূলক দামে ভালো মানের পোশাক আর কেউ দিতে পারবে না পোশাক শিল্পে কলুষিত রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, দুনীতি বন্ধ করতে হবে, শ্রম আইনের সঠিক ব্যবহার করতে হবে, বিদেশী বায়িং হাউসগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশী বায়ারদের ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে, ব্যাংক লোনে সুদের হার কমাতে হবে, আর তাই দেশের এই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়নে সরকারকে সকলের সহযোগিতা দরকার কারণ বতমান সরকার গার্মেন্টস শিল্পকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে দেখে, তার নিরাপত্তায় যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধ পরিকর।


" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!