প্রথম পাতা |
ফটো স্টুডিও |
আমার প্রতিদিন |
অনুভুতি |
উপদেশ |
স্বাস্থ্য |
তোমাদের ছবি |
শাড়ীতেই নারী |
আজকের বার্ত |
তোমার রুপ |
বাবা তোমায় ছালাম |
কবিতা |
সাহিত্য |
Showing posts with label সালমা (ভান্ডারিয়া). Show all posts
Showing posts with label সালমা (ভান্ডারিয়া). Show all posts
পৃথিবী অনেক ছোট আর গোল
বিভিন্ন সময় জ্যামে অলস বসে থাকতে থাকতে চলতি পথে কিছু কিছু মানুষ আমাদের নজরে পরে, অনেক সময় ভালও লেগে যায় । হয়ত গাড়ী ছেড়ে দিল কিংবা সাহস না হওয়ার কারণে আমাদের ভাললাগাগুলো বলতে পারিনা । হতাশ হই ।
পৃথিবী অনেক ছোট আর গোল, হতাশ হওয়ার কিছু নেই । শুধু চেহারাটা মনে রাখুন কিংবা তার মাঝে যদি কোন পরিচিতি চিহ্ন থাকে সেটা মনে রাখুন, যাতে দ্বিতীয় বার দেখা হলে যেনো মনে রাখা যায় । আর মনে মনে ভাবুন সেদিন দেখা হলে কি বলবেন? কিভাবে জানাবেন আপনার মনের গোপন কথাগুলো ! যদি সেও বুঝতে পারে আপনার মনের কথা আর কোন একদিন কুয়াশার শিশির ভেজা পায়ে আপনার সামনে এসে হাজির হয়, তখন কি বলবেন তাকে, আজই তা ভেবে রাখুন । কারণ সময়মতো বলতে না পারার কারণে জীবনে অনেক কিছু হারিয়ে যায় ।
যদি কখনো দ্বিতীয়বার দেখা হয় সেই মানুষটার সাথে, সেদিন চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। চোখের ভাষা অনেক কিছু বলে দেয় । চোখের ভাষাই বলে দিবে আপনি তাকে কতটা ভালোবাসেন, আর সে আপনার প্রতি দুর্বল কিনা। আন্তরিকতার সাথে মিথ্যা আর অপ্রসাঙ্গকি বিষয়গুলো এড়িয়ে নিজিস্ব স্টাইলে বোঝান আপনার মনে কথাগুলো । তবে খবরদার, অন্য কোনো দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন না । আপনার প্রতি তার আগ্রহ জন্মাবে এমনভাবে যতটা সম্ভব হেসে কথা বলার চেষ্টা করুন। যাতে সে আপনাকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং আপনার সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে। পছন্দের মানুষটি কথা বলার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিন তার দিকে । সে যাতে বুঝতে পারে যে, আপনি তাকে সত্যিই খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন । এটা তার মনে দাগ কাটবে, তার পরিবার বা অন্যরা যখন তাকে অবহেলা করবে, সে তখন আপনাকে নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে শুরু করবে । তার মস্তিস্ক মনের কাছে আপনার সম্পর্কে ভাল বার্তা পাঠাবে, যা তাকে আপনার প্রতি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেবে ।
কথার মধ্যে প্রাণখোলা মনের পরিচয় দিন। কারণ মনে রাখবেন প্রাণখোলা মানুষদের সবাই পছন্দ করে। পছন্দের মানুষটিকে আপনার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা খুলে বলুন। তাকে বোঝান, “অন্যরা হয়ত তোমাকে সাথে নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাইতে চায়, আর আমার একমাত্র লক্ষই তুমি।” তার ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলো গুরুত্বসহকারে শুনুন । আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে তার সঙ্গে ঘন ঘন ফোনে কথা বলুন, তাকেও বলতে ও শুনতে দিন । দেখা করুন। তার ভালোলাগা মন্দলাগা বিষয়গুলো জানুন । জানুন তার জন্মদিন, প্রথম স্কুলে পা রাখার দিন, প্রথম শাড়ী পরার দিন এবং হটাত করে সেই দিনগুলিতে তাকে শুভেচ্ছা জানান । যদি তার বয়স বিশের নিচে হয় তাহলে- ফুল, কার্ড, চকলেট, আইসক্রিম, কলম, ডায়রী, প্যাড, উপহার দিন, আর সারাদিন ঘুরে বাইরে লাঞ্চ করুন । আর যদি তার বয়স বিশের উপরে হয় তাহলে- ফুল, দামী একটা জামা, শাড়ী, মোবাইল, হ্যান্ড ব্যাগ, কিছু বই । আর সারাদিন ঘুরে বাইরে তার পছন্দের মেন্যু দিয়ে লাঞ্চ করুন ।
আর এভাবেই- না বলে, বরং বুঝিয়ে দিন আপনার মনে কথাগুলো । কারণ অনেক সময় অনেক কথা বলা যায়না, আবার বললে হয়ত উত্তর দেওয়া যায়না, সেটা লজ্জা কিংবা জড়তার কারণেই হোক । কিন্তু বোঝানো যায় নিজের মতো করে । কিংবা না বললেও বোঝা যায় অনেক কিছু । ধরুন, কেউ যদি আপনাকে বলে “আমি তোমাকে ভালবাসি” আপনি অনায়াসে হাসতে হাসতে ‘না’ বলে দিতে পারবেন । কিন্তু কেউ যদি তার আচার-আচরন, কথাবার্তা, চলাফেরা, কিংবা গুরুত্ব দিয়ে আপনাকে বোঝায় “আমি তোমাকে ভালবাসি” আপনি তাকে ফেরাতে পারবেন না । কারণ কাউকে একদিনে বোঝানো যায়না, আর এই আস্তে আস্তে বোঝানোটাই মানুষকে দুর্বল করে তোলে । আর সেই বোঝানোটা যেদিন বুঝতে পারা যায়, সেদিন আর ফেরানো যায়না । সেদিন বাধ্য হয়েই আগুনে ঝাফ দিতে হয়, দেওয়া উচিতও । কারণ - পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, যাদের কথা বা অনুরোধ উপেক্ষা করা যায়না । কারণ তারা হয়ত উপেক্ষা না করার মতো পরিবেশ তৈরি করেই উপস্থাপন করে কিংবা মানুষের মনকে পরিচালনা করার মতো ক্ষমতা নিয়েই তারা জন্মেছে ।
আপসোস ।
আপসোস এই শব্দটা কখনও কারো মন থেকে দূর হয়না । আপনি যত সুখী আর সম্পদশালী হোন না কেন আপসোস আপনার মন থেকে দূর হবেনা । পরের টাকা, পরের ক্ষমতা, পরের সুন্দরী বউ, সুন্দর বর আমার কেন নাই, আহারে আমার যদি থাকতো !
আপসোস কম বেশী সবার মনে আছে, সে হোক নারী কিংবা পুরুষ । নারীরা চিন্তা করে - আহারে ঐ ছেলেটা কত সুন্দর, শিক্ষিত, ভাল জব করে, রোমান্টিক, দায়িত্বশীল, কেয়ারিং, হেলফফুল, কি সুন্দর গুছিয়ে কথা বলে, হাসিহাসি মুখ, মন জুরানো কথা, আধুনিক আর কত রুচীশীল, আর আমার স্বামীটা কত ক্ষ্যাত, কত কৃপন, তার মাঝে গা থেকে সস্তা সিগারেটের গন্ধ ..........আহারে আমার স্বামীটা যদি এরকম হতো! সংসারটা আনন্দে ভরে যেত । কি একটা হাবাগোবা আর মফিজ একটা বলদ মার্কা স্বামী আল্লাহ আমার কপালে জোটাইছে । প্রথমদিন থেকেই জীবনটা শেষ করে দিছে, একটা দিনের জন্য শান্তি পেলামনা । তারমাঝে মানসিক আর আর্থিক অত্যাচারতো আছেই । শারীরিক সম্পর্ক একটা শিল্প, তাতো বোঝেইনা, মনে হয় প্রতিরাতেই অত্যাচার করছে ।
পুরুষের আপসোস -
"আহারে মেয়েটা কত সুন্দর, শিক্ষিতা তার মাঝে ভাল জব করে, আহ কি রোমান্টিক, কি সুন্দর করে কথা বলে, কন্ঠ যেন কোকিল ডাকছে, কি সুন্দর ঠোট সারাক্ষণ যেন হাসি লেগেই থাকে, কি সুন্দর চুল ঠিক লাউয়ের ডগার মতো গালের উপরে ঝুলে আছে, কি সুন্দর ড্রেস-আপ, পরীর মতো ফিগার, এরকম একটা বউ থাকলে জীবনে আর কিছুই চাইতামনা
"। আমার বিয়ার আগে এরা কই ছিল?? আর আমার বউ -
"কাজের বুয়ার মতো দেখতে, কি মুটকি, গা থেকে সারাক্ষণ হলুদ-পিয়াজের গন্ধ, ঘরে ফিরলেই সারাক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান, জীবনটা একেবারে নরক বানাইয়া দিছে ।
এই ধরনের আপসোস নারী পুরুষ সবার মাঝে পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত থাকবে । কিন্তু বিশেষ কথা হলো, আপনি যাকে দেখে আপসোস করছেন তার স্বামী/স্ত্রী'ও কিন্তু এই একই আপসোস করছেন । তাহলে আপনার এই আপসোসকৃত মানুষটাও শতভাগ পরিপূর্ণ নয় । হয়ত সে আপনার নয়, তাই তার প্রতি আপনার এমন দূর্বলতা। কারণ প্রতিটা মানুষই পরের জিনিস/মানুষের প্রতি দূর্বল । এটা আমাদের জন্মগত বদ স্বভাব ।
বিশ্বাস না হলে আজ আপনি যাকে দেখে আপসোস, তাকে পাওয়ার পরও কিন্তু আপনার আপসোস শেষ হবেনা । কাল হয়ত অন্য আর একজনকে দেখে এই আপসোস এর জন্ম নেবে । এর প্রধান কারণ আপনি তার সম্পর্কে জানেন না, কারণ
"কারো সম্পর্কে যখন আমাদের সবটুকু জানা হয়ে যায়, তখন তার সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ কমে আসে ।"
এটা অজানা আর নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আমাদের দূর্বলতা ।
মোট কথা হলো মানুষের স্বভাবত একটা বদ অভ্যাস হলো পরের বা নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আর্কষন । যেমন মদ যদি পাড়ার মোড়ের বাসু কাকার দোকানে বিক্রি হতো, তাহলে মানুষের মদের প্রতি এত আগ্রহ থাকতোনা । আর নেশাও হতোনা । তাই বউ যতই ভালবাসা দেউক তা মূল্যহীন ও একগুঁয়েমি লাগে, বান্ধবীরটায় সতেজ ও নতুনত্ব আছে ।
যেমন, আজ আপনি যাকে দেখে আপসোস করছেন, তার সম্পর্কে আপনি এখনও তেমন কিছুই জানেন না, হয়ত দেখা যাচ্ছে সে আপনার বন্ধু /বান্ধবী । নিশ্চয়ই তার সাথে এখনও একই ছাদের নীচে কিংবা একই রুম শেয়ার করছেন না । হয়ত সপ্তাহে/দিনে এক/দুই ঘন্টার জন্য আপনার কাছে আসে বা আপনার সাথে দেখা হয় । কিন্তু এই এক ঘন্টা কি একজন মানুষকে জানার জন্য যথেষ্ট? নিশ্চয়ই নয়। আর সে যখন এক ঘন্টার জন্য আপনার কাছে আসে/দেখা হয়, তখন ভাল ড্রেসটা, ভাল করে সেজে, ভাল করে শরীরে বিদেশি সেন্ট স্প্রে করে, গুছিয়ে কথা বলে, মেপে মেপে হাসে, রাস্তা পার হওয়ার সময় হাত ধরে, খাবারের বিল দেওয়ার জন্য ছেলেদের দিকে তাকিয়ে থাকেনা, বাসার খোঁজ খবর রাখে, রোমান্টিক গল্প করে, এই এক ঘন্টার মধ্যে তার খারাপ দিকগুলো লুকিয়ে রাখে । (যে দিকগুলো দেখে আপনি আপনার বর্তমান সঙ্গীকে অপছন্দ করেন) । আপনি যখন এই আপসোসকৃত মানুষটার সাথে একই ছাদের নীচে বসবাস করা শুরু করবেন, তখন দেখবেন তার খারাপ দিকগুলো বেড়িয়ে আসে, যা সে এক ঘন্টার মধ্যে/প্রেমের সময় লুকিয়ে রেখেছিল । তখন তাকে ভাললাগবেনা । যেমন আজকের সঙ্গীনীকে লাগছেনা । তারমানে এগুলো আপনার চোখের / মনের অসুখ । বুঝবেন আপনার মনে গুনোপোকা ধরেছে ।
যদি আপনার মনেও এধরনের গুনেপোকা বাসা বেধে থাকে, তাহলে এক কাজ করুন, আপনার বর্তমান সঙ্গীর মাঝে কি কি ভাল গুন আছে, খুঁজে বের করুন । দেখবেন অনেক ভাল গুন আছে যা আপসোসকৃত মানুষটির মাঝে নেই । আর ভেবে দেখুন ফেলে আসা দিনে সে আপনার জন্য কি কি করেছে যখন আপনি আজকের অবস্থানে ছিলেন না, আর এই ভাবনাগুলোই আপনার মনের মধ্যের গুনে পোকাগুলো মেরে ফেলার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে ।
আর আপনার চোখের আর মনের গুনোপোকাগুলো দূর হলে দেখবেন নিজের জীবনতো বটেই, সংসারেও শান্তি আসবে । মানসিক অশান্তি থেকে সংসার মুক্ত থাকবে, অন্যায় আর অবিচার থেকে বাচবে সমাজ ও দেশ ।
" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!










