বিএসসিআই এর ট্রেনিং ।

জীবনে কিছু কিছু দিনের স্মৃতি সত্যিই ভোলা যায়না ।

Firmgate

Badhon

শুভ জন্মদিন

তোমার জীবনের ছোট্ট ছোট্ট সময়গুলোকে আনন্দের রং লাগিয়ে স্বরনীয় করে রাখতে চেষ্টা করছি । যা সেদিন তোমাকে মনে করিয়ে দেবে যে, এই আমি তোমাকে কতটা গুরুত্ব দিতাম । যেইদিন আমি তোমার জায়গায়..আর তুমি আমার জায়গায় থাকবে।

সোনার গাঁও

কোন কোন মানুষ জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ন হয়ে যায় । কোন কোন দিনও সারাজীবন মনে থেকে যায় । সেরকম একটি দিন ছিল যেদিন এই ছবিটা তুলেছিলাম ।

Showing posts with label * My Everyday !. Show all posts
Showing posts with label * My Everyday !. Show all posts

পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছে, তুমি সেলফি নিয়েই থাকো ।


২০১৫ সাল পর্যন্ত ৭৬ টির বেশি প্রজাতির প্রাণী এবং কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা আমাদের পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর বিনিময়ে আমাদের অথনৈতিক উন্নতি হয়েছে। আর এই উন্নতির এর পরিনামে বাতাসে প্রতিবছর ২০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত হচ্ছে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিবছর ৬০ হেক্ট্রর জমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে বালুকাকীর্ণ হয়ে পড়ছে ৪ হেক্ট্রর উর্বর ভূমি। আর এই জন্যই স্টিফেন হকিংস বলেছেন, “প্রযুক্তির উন্নয়েনের কারণেই এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি এখনও মুখে রং মেখে সেলফিই তুলে যাচ্ছো?

বিশ্বাস করো, বিশ্বের সর্বাধিক বায়ু দূষিত ১৫টি শহরের ১৩টি হলো এশিয়ায়। এই দূষণ এশিয়ায় বছরে ১০ লাখ লোকের মৃত্যুর কারণ। অথচ আমরা সর্বদাই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবদ্ধির জন্য নিবেদিত। কিন্তু উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু পরিবেশকে পাশ কাটিয়ে পরিবেশের উপর একছত্রভাবে জুলুম করে পক্ষান্তরে উন্নয়নের চাকাটির চলার পথই রুদ্ধ করছি। এ ভুলের মাসুল একদিন এই পৃথিবীর মানুষগুলোকে দিতে হবে ।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির পিছনে বহুলাংশে দায়ী কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ প্রাক্-শিল্পযুগ সময়ের (১৭৫০ সাল) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত ১০০ ppmv (parts per million by volume) বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে বিগত ৩০-৪০ বছরেই প্রায় ৫০ppmv বৃদ্ধি পেয়েছে। সভ্যতা বিকাশের জন্য আমরা বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর, যা প্রচুর পরিমাণেকার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে। আবার দ্রুতহারে বন-ধ্বংস ও ভূমিবিন্যাসের পরিবর্তন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ উদ্ভিদ কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সঞ্চয় ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বন ধ্বংসের ফলে সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমন্ডলে মুক্ত অবস্থায় থাকে। তাই আপনার সন্তানকে একটা নির্মল সুন্দর আগামী উপহার দিতে, গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই ।

বিজ্ঞান বলে, একটি দেশে ২৫% বনভূমি থাকা দরকার । কিন্তু সেখানে বাংলাদেশে বনভূমি রয়েছে মাত্র ১৬%। তাই এখনই সময়, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আরো কিছু গাছ লাগান । কিংবা হোক সেটা ভাড়া বাসা, সুযোগ থাকলে বাসার ছাদে, বেলকুনীতে গাছ লাগান, যা আপনাকে নির্মল বাতাস, মন খারাপের সঙ্গী এবং আপনার সঙ্গীর সাথে কাটানো সময়গুলোতে বাড়তি রোমান্টিকতা জোগাবে ।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক মনে করছে, “ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী ১০০ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধান উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে । বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ফল ও ফুলের রেণু, মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট হচ্ছে। এতে শস্য ও ফল আগের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। অনেক ফলবতী বৃক্ষ পুরোপুরি বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত গতিতে বাড়ছে বাড়ছে বড় বড় রোগের ভয়ংকর জীবনাগুলো ।

ভাবলে শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে, শুধু আমাদের দেশেই গত ২৮ বছরে শনাক্ত হয়েছে এই ভয়াবহ সাতটি রোগ- ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, এইচআইভি/এইডস, নিপাহ, বার্ড ফ্লু ও সোয়াইন ফ্লু। যদিও বহুকাল আগ থেকেই এসব রোগ ছিল, তবে কখনোই মানুষের মধ্যে ছিল না । অত্যাধিক পরিবেশ দুষন আর এডিস মশার বংশ বিস্তারের কারণে এসব রোগ দ্রুতই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে । আর আপনি আছেন, এবছর কত ইনক্রিমেন্ট হবে তাই নিয়ে?

যে শিশু আগুনের ভয়াবহতা জানেনা, তাকেও যেমন আগুন ক্ষমা করেনা, তেমনি তুমি যদি মুচকি হেসে বলো, আমি এসব বুঝিনা, তবুও এই বিপর্যয় আমাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দিবেনা । যদিও এটা কোন বিশেষ জাতি কিংবা কোন দেশের একার নয়। তাই আমাদের সবারই এব্যপারে ভাবা উচিত, এগিয়ে আসা উচিত, এবং যাদের কাজ করার সুযোগ আছে, তাদের অনুপ্রানীত করা উচিত ।

আজ তাসনিয়া আপুর কথাটা খুব মনে পড়ছে , “শোন ভাই! আমাদের পরের প্রজন্মের জন্যে খুব খারাপ লাগে, চিন্তা হয় | পরিবেশ একেবারেই আর বাসযোগ্য নয় | পলিথিন আর ময়লা দিয়ে আমরা পৃথিবাটাকে নষ্ট করে ফেলছি | বিশুদ্ধ বাতাসের বড়ই অভাব | ওজোন স্তর ভেঙে পড়ছে | আর আমরা আছি , পেয়াঁজ দিয়ে তরকারি খেতে পারছিনা এই শোকে |” সত্যিই আপু দারুন বলেছো ।

সবকিছু আইন করে হয়না, তাই আসুন আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে এই পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি, আর এটা আপনার দায়িত্ব (বিশ্বাস না হলে, চ্যালেঞ্চ করতে চাইলে আমাকে ফোন দিন, কিংবা আসুন একবার কোন চায়ের দোকানে বসি) । আপনি কি আপনার সন্তানের জন্য অর্থ জমাচ্ছেন না? তাহলে কি তার জন্য সুন্দর একটা পৃথিবী, একটা বিশুদ্ধ বায়ুমন্ডল দরকার নেই? নাকি টাকা চিবিয়ে চিবিয়েই বেঁচে থাকতে পারবে? আসুন বন্ধুদের নিয়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে পার্টি না দিয়ে, গাছ লাগানোর পার্টি দেই, নিজেদের জায়গা না থাকলে সরকারী রাস্তায় গাছ লাগাই? কারণ আমাদেরতো গাছের মালিকানা দরকরা নেই, নির্মল একটা বায়ুমন্ডল দরকার ।

আসুন দশজন মিলে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটা গ্রামের সবাইকে সচেতন করি, তারা যেনো আরো বেশী বেশী গাছ লাগায়, তারা যেনো তাদের ব্যবহ্রত ময়লা বাইরে যত্রতত্র না ফেলেন, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন, রান্নার পরে যেন চুলা বন্ধ রাখেন । কিংবা বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে গাছের চাড়া বিতরন করি, বিভিন্ন স্কুলের জমিতে ফ্রি’তে গাছের চাড়া রোপন করে দেই । আসুন চুলে রং করা আর জেল লাগানো বাদ দিয়ে, আমাদের সন্তানদের জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী তৈরি করি ।

[বিশেষ ধন্যবাদঃ আমি পরিবেশ সম্পর্কে ভাল বুঝিনা, আমার এটার সার্টিফিকেট নেই । তাই এই পোষ্টটি লিখতে যেসব মাধ্যম থেকে আমি রেফারেন্স কিংবা সাহায্য নিয়েছি, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ । অনেকের হয়ত নামও জানা নেই, তবে কোনদিন যদি আমার এই লেখাটি তোমার নজরে পড়ে, সেদিন ভেবে নিও, আমি কৃতজ্ঞতা ভরে তোমাকে স্মরণ করেছি। এই লেখাটি পড়ার পর যদি কেউ একটা গাছও এই পৃথিবীতে রোপন করে, কিংবা একটা ময়লাও কম ফেলে, এই পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করতে কেউ একটুও অবদান রাখে, তাতে তোমার অংশও থাকবে ।]

এক ঘন্টায়, দু’বছরের অভিজ্ঞতা ।

অভিজ্ঞতার অভাবে, যারা চাকরি পাচ্ছেন না। ফ্রেস, অনেক ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে চাকরী পাচ্ছেন না, তাই হতাশ । তাদের জন্য আমার আজকের পোষ্ট ।

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, যদি সত্যিকারের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন মানুষ, একজন ফ্রেসারকে এক ঘন্টা সময় দেন, তাহলে সে একজন ফ্রেসারের বাস্তবে দু’বছরের কাজের সমান অভিজ্ঞ করে তৈরি করে দিতে পারেন । কিন্তু আজকের দিনে, সেই চেষ্টা করা মানুষটির বড্ড অভাব । যাদের মন আছে, তাদের অভিজ্ঞতা নেই, যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের সময় নেই ।

যারা সদ্য লেখাপড়া শেষ করেছেন, গার্মেন্টসের এইচ.আর, কমপ্লায়েন্স কিংবা ওয়েলফেয়ার অফিসার এ চাকরীর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিংবা বার বার ইন্টারভিউ দিয়ে হতাশ, কিংবা সিভি দিচ্ছেন, ডাক পাচ্ছেন না, তাদের জন্য একটা সস্তা পরামর্শ, কোন ফিস/ঘুষ দিতে হবেনা । (আজকালতো নিজের অধিকারের জন্য ঘুষ দিতে হয়) । আগামীতে কোথাও চাকরীর জন্য সিভি জমা দেওয়ার আগে, সিভিতে দু’বছরের অভিজ্ঞতা আর আপনার পরিচিত কোন কোম্পানীর নাম লিখে, আমাদের ম্যাসেঞ্চারে নক করবেন । আমি আপনার জন্য একটা ঘন্টা সময় ব্যয় করবো, তারপর ডাক পেলে, ইন্টারভিউ দিতে যাবেন ।

আমি আশাকরি প্রাথমিক লেভেলে দু’বছর চাকরী করার সমান অভিজ্ঞতা, জ্ঞান বা টিপস আমি আপনাকে একঘন্টায় দিতে পারবো, যেটা আপনাকে চাকরী জীবনের ফ্রেসারের অভিসাপ থেকে মুক্ত করবে । এটা এমন কোন রকেট সাইন্স নয়, যেটা আপনাকে বললে আপনি বোঝবেন না । কিন্তু সবাই বোঝার মতো করে বলেনা, তাই আমরা বুঝিনা ।

অনেকে বোধহয় এখন মিচকি মিচকি হাসছেন, যে এটা ফ্রট, নয়ত যতসব ফালতু পোষ্ট । কিন্তু আমি কিছু মনে করছিনা, কারণ ভাল কিছু করতে হলে, একটু অপমান আর অপদস্ততো হতেই হয় । তবে একটা কথা বলতে পারি, আপনিওতো পরীক্ষার আগে প্রাইভেট পড়েছেন, ধরে নিন আমি একজনকে ফ্রিতে প্রাইভেট পড়াবো । হয়ত আপনার মাস্টার ব্যবসায়িক মানসিকতার ছিল, তাই এক চাপ্টার দিয়ে পুরো মাস পার করেছেন, আর আমি সব চাপ্টারগুলো মিলিয়ে একটা নোট বানিয়ে, তা একঘন্টায় আলোচনা করব । যাতে সে একটা স্বচ্ছ ধারণা পায় । যদি সমুদ্রের সমান বিষয় একদিনের ট্রেনিং আমাদের খাইয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আমি পুকুরের সমান বিষয় একঘন্টায় কেন একজন শিক্ষিত মানুষকে শেখাতে পারবনা? এটা কি খুব বেশি কঠিন হবে?

সুখ!

একটি অদ্ভুত শব্দ । কেউ কেউ সারা জীবন চেষ্টা করেও এর অর্থ খুঁজে পায়না । আবার যাদের কাছে জীবনেরই কোন অর্থ বহন করেনা, তারা এ শব্দটার অর্থ খোঁজার চেষ্টাও করেনা । বরং এ শব্দটা তখন অসহনীয় আর অসহ্যকর হয়ে দাঁড়ায় ।

কারন, জীবনে এমন কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন দুজনের যুক্তিতর্ক সঠিক হওয়া সত্বেও, সন্ধিটা ভেঙে দিয়ে সারাজীবনের মতো আলাদা হয়ে যেতে হয় । আর বাকিটা জীবন অসহনীয় দগ্ধ ক্ষত আর যন্ত্রণাকে বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে, হাসিমুখে সুখে থাকার অভিনয় করে বেঁচে থাকতে হয় । তাদের কাছে সুখের কি ব্যাখ্যা হতে পারে? শত চেষ্টা করেও এর কি মানে তারা খুঁজে পাবেন?

প্রত্যেক মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন কিছু কিছু শব্দ বড্ড অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, আর কিছু শব্দ অসহনীয় । সুখ তার মধ্যে সর্বাধিক উপরে । তাই অনেকেই এর অর্থ খোঁজার চেষ্টাও করেনা, আর পায়ওনা ।

ভয়ংকর চল্লিশ ।

প্রতিটা মানুষের জীবনে চল্লিশ একটা অতি গুরুত্বপূর্ন সংখ্যা । আমরা সবাই জানি শিক্ষার কোন বয়স নেই, কিন্তু জীবনে উন্নতি করতে হলে, নিজেকে মূল্যবান হিসাবে তৈরি করতে হলে, তোমাকে চল্লিশের আগেই করতে হবে ।

বিশ্বাস হচ্ছেনা, এতক্ষনে তোমার মনে হাজার প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে । একটা কথা চিন্তা করে দেখো, পৃথিবীর কত শতাংশ মানুষ চল্লিশের কম বয়সে সফলতা পেয়েছেন, আর কত শতাংশ চল্লিশের বেশী বয়সে । টমাস আলভা এডিসনের নামতো শুনেছো, মাত্র বাইশ বছর বয়সে প্রথম আবিষ্কার করলেন ভোল্ট গননা করার যন্ত্র । ভাবা যায়, যে ছেলে তের বছর বয়সে খবরের কাগজ বিক্রি করতো, আর উনত্রিশ বছর বয়সে কোম্পানী ও গবেষণাগারের মালিক ।

যার মৃত্যুর পর নিউইয়র্ক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল মানুষের ইতিহাসে এডিসনের মাথার দাম সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন সৃজনীশক্তি অন্য কোনো মানুষের মধ্যে দেখা যায় নি। তাই তার শেষ নিঃশ্বাসটুকু একটি টেস্টটিউবে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে হেনরি ফোর্ড জাদুঘরে।

ভাবুন একবার, মাত্র ২৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের পাশে জায়গা করে নিল, স্যার আইজাক নিউটন। মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় মহান বিজ্ঞানী স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন, চারটি বিখ্যাত রচনা-প্রথমটি আলোর গঠন ও শক্তি সম্পর্কে।

তাই অপেক্ষা করার মতো আপনার হাতে আর বেশী সময় নেই । এটা ভাববেন না যে, মানুষের এক জীবন অভাবে কাটলে, অন্যজীবন ধনী হতে পারবেন, সেই আশায় বসে থাকলে ভুল করবেন । কারণ চেষ্টা আর লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী পরিশ্রম করার সাহস না থাকলে রুটির দোকানে কাজ করে কেউ জাতীয় কবি হতে পারেনা, অনেকেতো সারাজীবন রুটি বানিয়েই কাটিয়ে দেয় । আপনাকে নিজেকে নিয়ে একটা লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করতে হবে, তারপর কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকি নিয়ে, সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে, সফলতা আসবেই ।

আজই শুরু করে দাও, এখনই । মাইকেল ব্লুমবার্গের এই কথাটা পড়োনি, “সাফল্যের সূত্র হলো কখনোই শেখা বন্ধ না করা। সব সময়েই নিত্যনতুন বিষয় শিখতে হবে এবং শেখার এ আগ্রহ কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না ।” কারণ শিক্ষাই পারে, আমাদের ভেতরের শক্তিটাকে আরো মজবুত করে গড়ে তোলতে, যা বাস্তবতার মুখোমুখি দাড়াতে তোমাকে সাহায্য করবে । আর একবার যদি সাহস করে সমস্যার মুখোমুখি দাড়াতে পারো, তুমি সফল হবেই । কার্লোস স্লিম হেলু বলেছেন, “‘আমরা যখন সমস্যার মুখোমুখি হই, তারা চলে যায়। এ কারণে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন এবং সাফল্যকে গোপনে ডেকে আনুন।”

জব করছো? কে তোমার বস?

জীবনে মানুষ হয়ে তৈরি হওয়ার জন্য একজন ভাল শিক্ষকের আশ্রয়ে থাকা যেমন জুরুরী, তেমনি কর্মজীবনে সাফল্য, যোগ্যতার সীলমোহর অংকনের জন্য একজন ভাল বসের অধীনে চাকরী করা খুবই জরুরী । যার সমাজে অন্তত মানুষ হিসাবে বলার মতো একটা পরিচিতি আছে, যার গুনাবলী আমাদের এক্সট্রা ওভার টাইমের খাতার মতো, দুটো রেজিষ্টারে লেখা নাই ।

তাই চাকরী পরিবর্তন করতে চাইলে, বেতন আর পদবীর চেয়ে যে বিষয়গুলোতে আমাদের বেশী নজর দেওয়া উচিত, তা হলো, কে হবে আমার বস, শ্রমিক/কর্মচারী কতজন, আর মার্কেটে উক্ত কোম্পানীর অবস্থা (সুনাম) কেমন? শুধু বেতন আর পদবী দিয়ে এই প্রতিযোগিতার মার্কেটে সুনামের সাথে টিকে থাকতে পারবেন না । বেতনের কথাই যখন উঠলো, একটা কথা বলি বেতন দিয়ে মানুষের যোগ্যতা বিচার করা যায়না, কারণ কিছু কিছু স্পেশাল গাড়ীর ড্রাইভারের বেতন কিংবা প্লেনের ড্রাইভারের বেতন আপনার চেয়ে অনেক বেশী, তাহলে? আর পদবী? সাবকন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরীর জি.এম, আর দেশের প্রথম শ্রেণীর দশ হাজার শ্রমিক/কর্মচারীর একটা কোম্পানীর একজন ম্যানেজার বোধহয়, বেশী সাহসী আর ট্যালেন্ট হয় । কারণ পুকুরের রাঘব-বোয়ালের চেয়ে সমুদ্রের চুনোপুটিও বেশী দুরন্ত আর সাহসী হয় ।

কেন তোমার মনে নেই, কে যেন বলেছিল, গ্রামের কলেজ থেকে বিয়ে পাস করার চেয়ে, ঢাকা শহরে চিকা (দেয়াল লিখন) মারলেও বেশী শেখা যায় । আমার আজকের লেখা এ বিষয় নিয়ে নয়, তাই মুল প্রসঙ্গে আসি ।

নিচের প্যারাটা একটু বেশী মনোযোগ দিয়ে পড়ো-
যদি তোমার বসের পরিচিতি, সুনাম, চরিত্র, কন্ট্রোল করার ক্ষমতা, তোমার অভিজ্ঞতা আর যোগ্যতার উপরে কোন প্রভাব ফেলতে না পারে, যদি তোমার কাছে পদটাই একমাত্র অবলম্বন কিংবা যোগ্যতার মাপকাঠী হয়, তাহলে আমরা ভাল স্কুল/কলেজ থেকে কেন পাস করার চেষ্টা করি, বই’তো সব একই? নর্থ সাউথ থেকে কেন মানুষ এমবিএ করে, কেন ইস্ট-ওয়েষ্ট কিংবা অতীশ দিপঙ্কর থেকে করেনা? কারণ সনদপত্রটাই বড় কথা নয়, বরং সেটা কার কাছ থেকে পেয়েছো, কার তত্বাবধানে থেকে পেয়েছো, এটাই বড় আর মুল বিষয় । তাই জীবনে উন্নতি কিংবা যোগ্যতার ওজনটা বাড়ানোর জন্য একজন ভালো বসের অধীনে কাজ করা খুবই জরুরী ।

একটা কথা ভেবে দেখুন, ছাত্র জীবনে একজন শিক্ষক যেমন, কর্মক্ষেত্রে একজন বস তার চেয়েও বেশী । পিএইচডি করার পর, যেমন জানতে চাওয়া হয়, কার তত্বাবধানে করেছো, ঠিক আজকাল ভাইভাতেও জানতে চাওয়া হয়, তুমি কার অধীনে জব করছো? কারণ একজন ধান চাষী কখনও আপেল চাষ করার শিক্ষা দিতে পারেনা । তোমাকে যদি জানতে চাওয়া হয়, তুমি আপেল চাষ করা কার কাছে শিখেছো? তুমি যদি বলো, আমাদের গ্রামের ধান চাষী করিম চাচার কাছে । তখন বোঝা যাবে, তুমি কতটুকু শিখেছো ।
তাই চাকরী পরিবর্তনের সময়, অবশ্যই বসের সম্পর্কেও খোঁজখবর নিন । এটাই আপনার পরবর্তী জীবনের বেশী প্রভাব ফেলবে । আপনার যোগ্যতার ওজন নির্ভর করবে, আপনার বসের যোগ্যতা, সুনাম আর সেক্টরে পরিচিতির উপরে । কথাটা ভেবে দেখবেন…..।

Orientation Program with BKMEA.

National Tuberculosis Control Program (Orientation Program) with BKMEA members on Feberuary 15, 2015 
— at নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাব Narayanganj Press Club.










ভালবাসা দিবস

আজ ভালবাসা দিবস


আমার সকল বন্ধু-বান্ধবীরা / আত্নীয়-স্বজন / এই ব্লগের সকল ভিজিটরগন !

ভালবাসার কি কোন দিন বা সময় আছে ? প্রতিদিন কিংবা প্রতি মুহুর্ত আমাদের কাছের মানুষগুলোকে ভালবাসার মায়াজালে বন্ধি করে রাখা উচিত । কারন একমাত্র ভালবাসাই পারে একটা সুন্ধর পৃথিবী গড়ে তুলতে । তাই আজকের ভালবাসা দিবসে এটাই কামনা করি সবার জীবনটা ভালবাসায় পরিপূর্ন হোক । আর তার অনুভুতি ছড়িয়ে পরুক আমাদের আশে-পাশে, যা সুন্দর এ্কটা পৃথিবী গঠনে সহযোগিতা করবে ।  সবাইকে ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছা । 



পরকীয়া ........!

আমাদের অনেকের কাছে বিষয়টি খুবই পরিষ্কার যে, নিজের বাসার মাংস থেকে পাশার বাসার ভাবীর কচু তরকারীও মজা । কারণ মানুষের একটা জন্মগত সভাব হচ্ছে অজানাকে জানার আগ্রহ কিংবা নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি দুর্বলতা । আর এই থেকেই মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপনের রাস্তা পরিহার করে, ভিন্ন, ভুল, নিষিদ্ধ রাস্তায় পা-বাড়ায় । 

আজকাল কার মডার্ন যুগে পুরুষ মানুষগুলো এতটাই পাল্টে যাচ্ছে যে, প্রতিদিন স্বামী বাহিরে যাবার পর স্ত্রীদের অজানা একটা ভয়ে থাকতে হয় । আবার বাসায় ফেরার পর শরীরে লম্বা চুল, শার্টে লিপিস্টিক এর দাগ, শরীর থেকে মেয়েদের পারফউমের গন্ধ, মুখ থেকে মদ বা সিগারেটেরে গন্ধ, বউয়ের প্রতি আগ্রহ, পেটে ক্ষুদা এগুলো আছে কিনা ? কারন আমাদের বিন্দু মাত্র বিশ্বাস নেই । কারন হয়ত পৃথিবীটা অনেক বদলে গেছে তাই । না তা নয় ...........!

আমাদের অনেক পুরুষের রুচী এতটাই জগন্য হয়ে যায় যে, ঘরে সুন্দরী স্ত্রী রেখে বাইরে সস্তা মেয়ে মানুষের বুকে সুখ খোজে । নীজের স্ত্রীকে ভাবে ব্যাংকের টাকা, যা হারানোর ভয় নেই। ফিক্স ডিপোজিট করে রেখেছে। শেষ বয়সে খরচ করবে যখন শরীরে কোন শক্তি থাকবেনা। অথচ ঐ সুন্দরী স্ত্রীদের কথা একবারও ভাবেনা । যে তাদেরও একটা জীবন আছে, আছে শারীরিক চাওয়া-পাওয়া, আছে আত্ন সম্মানবোধ । 

ভরা যৌবন নিয়ে প্রতিটি স্ত্রী’ই প্রতিদিন স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষা করে ।  আর সেখানে প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্বেও যদি কোন পুরুষ আবার বিয়ে করে কিংবা পরকীয়ায় আবদ্ধ হয়, তাহলে ঐ স্ত্রীর কষ্ট রাখবার জায়গা মনে হয় এই পৃথিবীতে হয়না । কারন তার সবকিছু বর্তমান থাকা সত্বেও, ঐ এক্ই জিনিসের জন্য তাকে অবহেলা করে অন্য নারীর শরীরের ভাজে তারই প্রিয় মানুষটি সুখ খোজে, এটা তার নারীত্বের চরম অপমান ।  হয়ত এই অপমান সইতে না পেরে  কেউ  কেউ আত্নহত্তাও করে, আবার  কেউ  কেউ মান সম্মানের কথা বিবেচনা করে অন্তরের কষ্টগুলোকে অন্তরের গভীরেই মাটি চাঁপা দিয়ে দেয় । 

আমাদের ভাব উচিত যে, প্রতিটি ফুলই ফোটে একটা অসীম প্রত্যাশা নিয়ে । একদিন একটা কালো ভোমর এসে তার সকল পাপড়িগুলো চুষে চুষে নির্জাস নেবে, মধু খাবে । জীবন বির্সজন দিয়ে সে মধুগুলো জন্মিয়েছে । প্রতিটি ফুলই চায় ভোমরের বুকের আঘাতে তার সকল পাপড়িগুলো ছিন্নবিছ্ন্ন হয়ে যাক, একাকার করে দিক এতদিনের অপেক্ষার কষ্টে জমে থাকা জমাট বাধা বরফগুলো। তবেইতো তার ফোটা স্বার্থক । আর মেয়েরাতো ফুলের মতই। কিন্তু আমরা কিছু কিছু মানুষ সেই ফুলকে প্রথমে ছিড়ি, তারপর পায়ের নিচে ফেলে “সব ফুল দিয়েতো দেবতার পুজা হয়না, কিছু কিছু ফুল শশানেরও যায়” এ্ই গান ধরতে ধরতে মারিয়ে চলে যাই । তখন আমার নিজেকে দেবতা ভাবতে শুরু করি। হায়রে মানুষ .......!

আমরা কখনোই ভাবতে চাইনা বা রাজী না যে, আমাদের স্ত্রীদেরও একটা জীবন আছে । আছে চাওয়া-পাওয়া, ভাললাগা, আবেগ-অনুভুতি । দীর্গ বিশটি বছর ধরে মনের বাগানের ফুলগুলোকে সযতনে সাজিয়ে রাখে আমার এসে সুগন্ধ নেব, অনুভব করব তার স্নিগ্ন মাদকতা । ভালবাসা আর আদর দিয়ে কানায় কানায় ভড়িয়ে দেব তাদের শুন্য হ্নদয়গুলি । আমরা একবারের জন্যও বুঝতে চাইনা যে, প্রতিটি স্ত্রীই জন্মায় তার স্বামীর ভোগের সামগ্রী হিসাবে । স্বামী দেবতাটি যখন পরম আনন্দে তাকে ভোগ করবে, ছিড়ে টুকরো টুকরো করে দেবে তার শরীরের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা, তখনই তার বেচে থাকা, বেড়ে ওঠা, সৌন্দর্য্য সবই স্বার্থক । আমরা কি করি ? নিজের ভাল মানুষিটাকে লোকচক্ষুর সামনে উম্মোচন করে, তাদেরকে নীজের করে গ্রহণ করি ঠিকই, কিন্তু পরিতৃপ্তির সাথে ভোগ করিনা, যর্থাত মুল্য দেইনা । বরং অনাদরে নেষ্ট করে ফেলে, বাসী করে দেই তাদের সুন্দর ফুলের মত জীবনটাকে । আর মনে মনে ভাবী, বাসায় ফিরলেইতো সেই বাসী বউ, পয়সার বিনিময়ে যদি সুন্দরী কোন টাটকা মেয়ে মানুষের সঙ্গ পাওয়া যায় মন্দ কি ? 

মাঝে মাঝে ভাবী, দিনের তপ্ত আলোতে যার চোখের ইশারায় ধুলির ধরা কপ্তি হয়, যার ক্ষমতার কাছে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়না, যাকে দেখলে বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষের নাম ভুলে যেতে বাধ্য, যার হুংকারে কত মানুষ ঘরছাড়া হল অথচ এরা ঐ এক জায়গায় এক সময় সবাই দুর্বল, নির্বাক । রাত্রীর কোন এক প্রহরেে ঐ সস্তা মেয়েদের বিবস্ত্র করার উদ্দেশ্যে কতনা অনুনয়-বিনয়, কতনা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি । ঐ সস্তা পোষাকের নীচের অগ্নি ধারার উত্তাপ গ্রহণ করার জন্য কতজনকে যে তাদের পায়ের কাছে পরে থাকতে দেখা যায়, তা দিনের বেলায় বলার সাহস ঐ যুবতীর নেই। অথচ একবার চিন্তা করে দেখ, ঐ সস্তা মেয়ে মানুষটির জায়গায় তার স্ত্রী হলে রাতটা কত রোমান্টিক, কত মধুময় হতে পারত ! থাকতনা কোন ভয়, লজ্জা । কারন মাতৃভুমি আর স্ত্রী এই দুয়ের মত সুখ ও শান্তী পৃথিবীর অন্য কেউ কি দিতে পারে, পারা সম্ভব ?

একবার ভেবে দেখ, পাশের বস্তীর সেই গরীব মেয়েটি কিংবা হোটেলের সেই ডাকবালিকাটি আর তোমার সুন্দরী স্ত্রীটি উভয়ই কিন্তু রাতের বিশেষ এক মুহুর্তে, একই ধরনের সুখ দেয় । অথচ দিনের আলোতে ঐ ডাকবালিকাটি কত ঘৃনিত আর তোমার সন্দরী স্ত্রী কত সম্মানিত । পরের পৃথিবীতে চোরের মত বেচে থাকার চেয়ে নিজের স্বাধীন পৃথিবীতে সুখে, সাচ্ছন্দে বেচে থাকা কি আনন্দের নয় ?

আমরা কি পারিনা, আমাদের সঙ্গীনীকে যে যার অবস্থান থেকে সেই কিশোরের মত ভালবাসতে, যে তার শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু তার প্রেয়সীকে রক্ষা করবে ? সেই মধ্যবিত্তের মত ভালবাসতে যে সমস্ত সঞ্চয় বিকিয়ে দিয়ে, কিনে আনবে প্রেয়সীর জন্য এক গুচ্ছ গোলাপফুল । কেন পারিনা ? সে যদি নীল শাড়ী পরে পরন্ত বিকেলে তোমার ফিরে আসার প্রতিক্ষায় হাতে কফি নিয়ে দড়জার কাছে দাড়িয়ে থাকতে পারে, আমরা কেন পারিনা সন্ধার আগে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে বাসায় ফিরতে । অফিস ছুটির পরে পুরানো বান্দবীদের নিয়ে মোড়ের বাসু কাকার দোকানের চা না খেয়ে, দক্ষিনের বেলকুনীতে বসে প্রিয় মানুষটির হাতে হাত রেখে চা খেতে খেতে সন্ধ্যে পার করা কি খুব বেশী কষ্টের ?

আপনার বিয়ের তারিখটি হয়ত এতদিনেও ভুলে যাননি । বুকে হাত দিয়ে আমরা বলতে পারব কি, আজ পর্যন্তি একদিনও আমাদের স্ত্রীর স্বপ্ন বা চাওয়া-পাওয়াগুলো জানার চেষ্টা করেছি ? কখনো কি বলেছি, তোমার মনের ইচ্ছাগুলো কি আমাকে বল, কিংবা তুমি আমাকে কেমন ভাবে পেতে চাও ? আপনার স্ত্রীরও ইচ্ছে থাকতে পারে “চাদনী রাতে গ্রামের নদীর পাড় ঘেষে আপনার হাত ধরে হাটার । “ ঢাকার বাইরে গাড়ীতে নয়, রিক্সায় বসে আপনার হাত ধরে অলস দুপুরে ঘুড়তে । “ “তারপর কিছু প্রিয় জিনিস তোমাকে সঙ্গে নিয়ে কিনতে ।” “ মুষল ধারে বৃষ্টি হলে তার প্রিয় বৃষ্টির গানগুলো শুনতে আর তোমাকে ভুনা খিচুড়ী রান্না করে খাওয়াতে ।” “তার অসুস্থ্যতায় তুমি ঘাবড়ে যাবে, মাথায় হাত রেখে বলবে সব ঠিক হয়ে যাবে ।” “তার প্রিয় শাড়ীগুলো তুমি পছন্দ করে দেবে, বলবে এ শাড়ীতে তোমাকে মানায়না, এটাতে বেশ লাগে ।” “পুর্নিমারাতে বাড়ান্দায় হাসনাহেনা গাছটার পাশে চাদের আলোতে দুজন এলোমেলো কথা বলতে।” “শীতের রাতে কম্পলের নীচে তোমাকে জড়িয়ে ধরে ‘বোঝেনা না সে বোঝেনা’ মেঘাসিরিয়াল টা দেখতে।” আর এধরনের ইচ্ছে থাকা কি খুব বেশী বিলাসিতা, এগুলো কি আমাদের পক্ষে পালন করা খুবই কষ্ট সাধ্য । আমার মনে হয়না । বরং এই ইচ্ছাগুলো পুরণের মাধ্যমে আমাদের ফিরে আসবে অনাবিল আনন্দ আর সুখের সমীরন । যা আমাদের বান্দবীর কাছ থেকে পাওয়া সম্ভব নয় । অনেকেই বলবেন দূর এগুল ফালতু বিষয় । সারাদিন অফিসের কাজ, বসের ধমক, ব্যাংকের ঋন এগুলো নিয়েই পারিনা, বউ নিয়ে ভাববার সময় কোথায় । 

আপনি হয়ত জানেন না, প্রতিটি স্ত্রীরই স্বপ্ন থাকে, “তার স্বামী অন্য সব স্বামীদের মত হবেনা, শুধু যে গভীর রাতে শরীরের তাপ কমানোর জন্য  আদর করবে, কাছে আসবে । সে চায় রাতের খাবার দুজনে একসাথে গল্প করতে করতে খাবে । তারপর বেলকুনীতে বসে দুজন গরম কফির সাথে, ঠোট দুটো একটু মিলিয়ে নিতে । হাজার রকম কথা আপনি বলবেন সে শুনবে, সে বলবে আপনি শুনবেন । তারপর একসময় বিছানায় যাবে ............। তার মন, প্রান, আত্না ভরে আদর করেবন। তার ইচ্ছাগুলোকে একে একে প্রকাশ করবে আপনার কাছে। আপনি তাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথা ও পিঠে হাত দিয়ে বলবেন সব ঠিক হয়ে যাবে, আমিতো আছি । “

প্রতিটি স্ত্রীরই স্বপ্ন থাকে, “বালু চড় । ঠান্ডার মাঝে ঝিড়ি ঝিড়ি বাতাস । বাতাসে তার চুল উরছে। উরে উরে আপনার মুখের উপর পড়ছে, আর আপনি তার চুলের গন্ধে বিভোর হয়ে থাকেন। নৌকায় করে ঘুড়ে বেড়ানো । তার হাতের উপর হাত রেখে আলত করে স্পর্শ করা,  হাতে হাত রেখে বালিতে হাটা, চটপটি ও ফুসকা খাওয়া এবং সুর্যাস্তের সাথে ছবি তোলা, দুজন বৃষ্টিতে ভেজা, রাত জেগে জোৎস্না দেখা, আর গল্প করা । “ সব নারী এভাবেই স্বৃতিতে ঘেথে রাখতে চায় প্রতিদিনের শেষ বিকেলগুলো। 

বোরিং লাগছে, নাকি উপরের স্বপ্নগুলোর সাথে আপনার স্ত্রীর স্বপ্ন মিলছেনা, ঠিক আছে পরের প্যারাগুলো পড়ুন, আর সেখান থেকে বেছে নিন কোনটি আপনার স্ত্রীর স্বপ্ন, আর সেটি মিটিয়ে ফেলুন, দেখবেন সংসারে আগের চেয়ে আপনার বোঝাপড়া আরো বেশী মধুর হবে । জীবনে আরো নতুনত্ব আসবে। 

হতে পারে উপরের কোনটিই আপনার স্ত্রীর স্বপ্ন নয় । আপনার স্ত্রী স্বপ্ন “ সে যখন বাইরে যাবার জন্য শাড়ী পরবে, আপনি তার পায়ের কাছের শাড়ী ধরে ঠিক করে দেবেন । সে যখন একা একা সেপটিপিন লাগাতে ব্যর্থ হবে, আপনি লাগিয়ে দেবেন । সে ব্লাউজের বোতাম লাগাতে না পারলে, আপনি সাহায্য করবেন। আলত করে পিঠে হাত দিয়ে আপনার নরম হাতে বোতামগুলি লাগিয়ে দেবেন । কারণ এইসব কাজ মেয়েরা একা করতে পারেনা । তারপর তার পিঠে ও বুকে সুন্দর করে সেন্ট স্প্রে করে দেবেন । কারণ পুরুষদের এসব কাজে মেয়েরা খুশী হয় । বেড়ুবার সময় তাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমো খাবেন। কারন সুন্দরী স্ত্রী সেজেগুজে বাইরে যাবার সময় বিদায় দেবার লগ্নে চুমো পেতে ইচ্ছে করে। “

আপনার হয়ত এক কোটি টাকার মার্সিডিজ গাড়ী নেই বা গুলশান বাড়ীধারায় ফুল এসি ডুপলেক্স বাড়িও নেই। নেই আশি হাজার টাকা দামের আইফোন বা আইপ্যাড । হয়ত আপনি ডাক দিলেই কেহ সাথে সাথে কফি নিয়ে আসেনা। হয়ত আপনি আপনার স্ত্রীকে রেডিসন বা অন্য কোন পাচতারা হোটেলে খাওয়াতে পারেননা । কিংবা আপনার ওরকম দামী ব্রান্ডের জামাকাপড়ও বা পারফউমও  নেই । তাতে কি হয়েছে ? আপনার ভিতরে যে সুন্দর একটা মন আছে, সেটা বিশুদ্ধ করে আজই আপনার প্রিয়তমা স্ত্রীকে কাছে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে হাত বলুন, আমার এই মনটা ছাড়া আমি আর তোমাকে কিছুই দিতে পারবনা, আজ এটাই সম্পুর্ন রুপে তোমার কাছে নিয়ে এসেছি, তুমি অমুল্য সম্পদ হিসাবে গ্রহণ কর। .........এভাবে চেষ্টা করে দেখুননা । 

কি হয়েছে বেশী দেরী হয়ে গেছে, এখন পারবেননা, লজ্জা করবে ? না করবেনা । একটা উপন্যাসে পড়েছিলাম, প্রথবার স্ত্রীর সাথে রাত কাটাতে লজ্জা করে, পরে তা হারিয়ে যায় । আজ থেকে শুরু করুন কি এমন বয়স হয়েছে আপনার ! প্রথম জীবনে ছেলেরা একটু আদটু এরকম বাইরে কাটায়, অগোছালো জীবন থাকে। আজ থেকে নিজেকে সংশোধন করে নিন । থাকব সত্য ও ন্যায়ের পথে । স্ত্রীর ভালবাসা দিয়ে চোখের উপরে কালো পর্দা দিয়ে দিন, যা কিছু খারাপ, অবৈধ, নিষিদ্ধ তা যেন চোখে না পড়ে । দেখবেন জীবনটা শীতের সকালের শিশিরের মত সজিব ও রোমাঞ্চিত হবে । 

আর যদি কোনটাই না পারেন, নিজেকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে । তবে মনে মনে ভাবুন, আপনার স্ত্রী, সন্তান বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যে আপনাকে ভালবাসে কিংবা কিছু সময়ের জন্য আপনার কাছে আসে, সে হয়ত অন্য কারো কাছেও যায় !  কিংবা আপনি যার কাছে গিয়ে শরীরের খেলায় মেতে ওঠেন, তখন কি মনে পড়েনা, এই দেহ কত পুরুষ ভোগ করেছে, এখানে সেখানে কামড়ের দাগ আছে,  কেউ ছোবল মেরেছে,  কেউ দংশন । সেখানে আপনি আবার ...............। নিজেকে ঘৃনা করতে শুরু করুন এই কাজের জন্য । দেখবেন ফিরতে পারবেন । ফেরা যায় । ফেরা সম্ভব । 

মনে মনে ভাবতে শুরু করুন, আমাকে ফিরতেই হবে, নয়ত জাতি শিক্ষিত, বিবেকবান বাবা-মা কোথায় পাবে ? 

ভালবাসা

আমার মনে হয় ভালবাসা বলে কিছু নেই। এটা একটা জাল বা ফাদ। আমরা এই জালে বা ফাদে আটক করে মানুষকে বন্ধী করে রাখি । আমরা এক একজন এই জালকে একেকভাবে ব্যবহার করি। এই জালে আটকা পরে কত মানুষকে যে পথে বসতে হয়েছে তার হিসাব নেই ।এই ফাদে পরে কত মানুষ যে সারারাত না ঘুমিয়ে দক্ষিনের বেলকুনীতে কাটিয়ে দেয় । রাতের ঘুম কেড়ে নেয় । কত জাহাজ সমুদ্রে ডুবেছে, কত রাজমহল ছেড়েছে ধনীর দুলাল। কত সংসার ভেঙ্গেছে অকালে, কত গৃহবধু হয়েছে বিধবা । কত সন্তান হয়েছে বাবা হারা কিংবা মা হারা। কত নগরী ধ্বংশ হয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে গভীর সমুদ্র, কত সমুদ্রের উপরে গড়ে উঠেছে প্রাসাদ। আবার  কেউ  কেউ সারামাসের বেতন লুটিয়ে দিয়েছে, বাকী পরে যায় বাড়ী ভাড়া, আর বাচ্চার দুধের দাম। এ ভালবাসার কি মুল্য আছে ?

সত্যিকারের ভালবাসা জীবনে একবারই আসে । জীবনের প্রথম যাকে মানুষ ভালবাসে তাকে আর কখনো ভুলতে পারেনা। হাজার চেষ্টা করেও তাকে আর ভোলা যায়না। তাহলে অনেকেই প্রথম যাকে ভালবাসে তাকে পায়না । পরবর্তীতে অন্য কাউকে সঙ্গী করে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেয় কি করে ? এখানে ভালবাসার কি মুল্য আছে ?

বিখ্যাত একটা উপন্যাসে পড়েছিলাম, কোন পুরুষই একটি মাত্র মেয়ের সাথে সারাজীবন কাটাতে পারেনা। তাই গ্রীক দার্শনিকেরা পতিতা পল্লীতে বসে দর্শন নিযে আলোচনা করত। যাও এই মুহুর্তে এই শহরের সব বিবাহিত পুরুষকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো, তারা তাদের বর্তমান বউকে ছেড়ে ষোল বছরের একটি অবিবাহিত মেয়েকে সঙ্গী হিসাবে চায় কিনা। নিরানব্বই ভাগ বলবে হ্যা । হয়ত কেউ টাকার অভাবে, কেউ লোক লজ্জার ভয়ে মুখ খুলছেনা । একথায় আমরা কি বুঝি ভালবাসা বলে কিছু আছে ? আমার বিশ্বাস ভালবাসা বলে কিছু নেই । টাকা দিয়ে পৃথিবীর সব সম্পর্ক কিনে নেওয়া যায়।   

ধনবান পুরুষ:

বেশী ভাগ পুরুষের কাছে টাকা ও মর্যাদা এই দুটো বিষয়ই বড় । এদের কাছে ভালবাসার কোন দাম নেই। ওরা শুধু নারীদের ভালবাসার জালে ফেলে নিজের করে পেতে চায়। শুধু কেমনভাবে সেটা বলার অপেক্ষা । বেশীভাগ পুরুষই এক, একইভাবে মিথ্যা বলে। কেউ ভালবাসার অভিনয় করে, তারপর ধর্ষন করে । কেউ রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে তারপর ধর্ষন করে। কেউ বিয়ের নাটক করে তারপর ধর্ষন করে। আবার  কেউ  কেউ ধর্ষিতা হতে বাধ্য করে । আবার কখনো কখনো বাপের নেয়া ঋন পরিশোধ করতে না পেরে স্বেচ্ছায় মা-মেয়েকে একজনের হাতে ধর্ষিত হতে হয়। রাস্তা একই । সবাই ঐ তিনকাঠা জমির দিকেই লোভ।

বিরহী পুরুষ:

সত্যিকারের ভালবাসলে তাকে কখনো নিজের করে পেতে চেষ্টা করোনা । তাহলে সে তোমার ভালবাসা বুঝতে পারবেনা। আর তোমার ভালবাসাও আর বেচে থাকবেনা। তখন ভালবাসা মরে গিয়ে সেখানে জন্ম নেবে অধিকার আর দায়িত্ববোদের একটা শক্ত গাছ। সে গাছ ধীরে ধীরে ডালপালা বিস্তার করে তোমার মাথার উপর ভর বেচে থাকবে। চাইলেও তুমি আর স্বাধীনভাবে কিছুই করতে পারবেনা। হয়ত একদিন সেই গাছের চাপে নিজের প্রানটাই চলে যাবে। চলে যায়। (আসলে ভালবাসার ফাদে ফেলে ওরা কোন একজনকে নিজের করে পেতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর ফাদটা শক্ত ছিলনা তাই সে ধরা দেয়নি।)

বিয়ের পাত্র :

প্রান চলে যাবার ভয়ে জীবনকে কারো সাথে জরাবোনা এটা কি হয়। এই অবিবাহিত ছন্নছাড়া জীবনের কি মুল্য আছে। দিন যায়, রাত যায়, কেউ খবর রাখেনা। যদি হাতে একগুচ্ছ চুড়ি নিয়ে, মাথার ঘোমটাটা একটু সরিয়ে দিয়ে, কুড়ি বয়সের ঢলঢল মুখটি তুলে কোন একটাও প্রশ্ন না করে –কিগো এত রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলে ? তুমি কি জানোনা, আমি একা থাকতে পারিনা ? তুমি কি মনে করেছে  তোমার কেউ নেই। তবে জীবনের মুল্য কোথায় ? স্বার্থকথা কোথায় ?

এই বিশটা বছর বাহির থেকে দড়জা খুলতে খুলতে আজ আমি ক্লান্ত, আমি চাই  কেউ একজন ভেতর থেকে দড়জাটা খুলে দিক। মেসের রান্না খেতে খেতে আজ আমার গ্যাসটিক হয়ে গেছে, আমি চাই কেউ একজন রান্না করা খাবার নিয়ে আমার জন্য খাবার টেবিলে অপেক্ষা করুক । এই শীতের রাতে একাকী লেজকাটা মাছের মত বিছানায় পড়ে থাকতে থাকতে আমি ক্লান্ত, আমি চাই নরম একটা শরীর, প্রতিদিন বিছানায় আমার জন্য অপেক্ষা করুক ।  

ডাক বালিকা :

যতদিন যৌবন থাকবে আমার শরীরে, তাকে বিনিয়োগ কর, ফুর্তি করো কিংবা মুঠো মুঠো টাকা আয় করতে হবে। এই পৃথিবীতে টাকাই হলো আসল । ভালবাসা বলে কিছু নেই । দশ হাজার টাকা হারিয়ে গেলে, কুড়ি বছর পরেও মানুষ সেই টাকার শোকে কাতর হয়। কিন্তু মানুষ হারিয়ে গেলে কুড়ি দিন পরই আমরা মোটামুটিভাবে তাকে ভোলার চেষ্টা করি। তাই টাকার কাছে ভালবাসা, স্নেহ, মমতা এগুল মুল্যহীন।

সদ্য বিবাহিত তরুন :

ভালবাসা ছাড়া জীবন মুরভুমি । ভালবাসা জীবনকে আলোকিত করে। ফেলে আসা জীবনের বেদনার বরফগুলোকে গলিয়ে ঝরনা করে দেয়, আর সেই ঝরনার শব্দ বুকে নিয়ে হাজার বছর বেঁচে থাকা যায়। যারা কখনো ভালবাসা পায়নি কিংবা যার জীবনে এমন কউ আসেনি । একথা সে কিছুতেই বুঝবেনা। বোঝা সম্ভব নয়।

স্বীকারোক্তি :

ভালবাসা বলে কিছু নেই। তবে এটাকে একটা স্বাপ্ন বলা যায়। আমরা যেমন রাতে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি, রাতের স্বপ্নগুলো ক্ষনিকের। ভালবাসা হলো একটু বেশী সময়ের ছয় মাস কিংবা এক বছরের কিংবা আরো বেশী। রাতের স্বপ্নগুলো যেমন কোন পরিনতি বা বাস্তবতা নেই। এটাও ঠিক তেমনি। তাইত এক লেখক বলেছেন, ভালবাসা হলো নিম্নচাপের মত,  আসবে কদিন থাকবে, তোমাকে ভেজাবে, তারপর আবহাওয়া বার্তা শুনে অন্যদিকে চলে যাবে । এটাকে চীরস্থায়ী ভাবার কোন কারন নেই।

হ্যা আমি এটা বিশ্বাস করি, কিছু কিছু মানুষের একটা ক্ষমতা থাকে। অন্যের ব্রেনকে পুরোপুরি অকেজো করে দেবার ক্ষমতা । যা কোন সহজ ক্ষমতা নয়। সবাই তা পারেনা। যেমন ধর, কারো জন্য পাগল হতে পারে অনেকেই, জীবনও দিতে পারে কেউ কেউ । কিন্তু নিজের জন্য অন্যের মনে পাগলামী সৃষ্টি করা বা কাউকে পাগল করতে সবাই পারেনা্ । নিজের মন যেমন খুশি তৈরি করা যায়, বোঝানো যায়, চালানো যায় কিন্তু খুব কম লোকই আছে যারা অন্যের মনকে চালাতে পারে। নিজের মত সাজাতে পারে। নিজের জন্য পাগল বানাতে পারে। হয়ত এটাকে ভালবাসা বলা যায়না, এটা কাউকে নিজের করে পাওয়ার একটা কৌশল !

মন্তব্য :

ভালবাসা হলো একটি সম্পর্ক। আমরা যেনো এই সর্ম্পটা কোন ফাদ হিসাবে ব্যবহার না করি। যাকে আমার চাই, যাকে পছন্দ করি, যাকে আমরা জীবনের সাথে জড়িয়ে নিয়েছি, কিছুটা স্যাকরিফাইজ করে হলেও সে সম্পর্কটা যেনো চীরদিনের মত টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি । কোন কারনেই যেনো কোন সম্পর্ক মাঝ পথে মুখ থুবরে না পরে। কোন অবস্থাতেই যেন একটা সম্পর্ককে আমরা কোন অবস্থাতে ভাগ করে না ফেলি। কারন সম্পর্ক হলো শক্ত খোলসের মধ্যে থাকা একটা ফল। উপরের খোলসটা হলো শ্রদ্ধার, আস্থ্যা আর বিশ্বাসের। কোন কারনে একবার যদি সেই খোলসটা ভেঙ্গে যায়, কিংবা ফাটল ধরে, তবে ভেতরের সর্ম্পটা পচে যায় দ্রুত।


(সবার সর্ম্পকগুলো হেমন্তের প্রথম ঠান্ডার মত মিস্টি ও সজিব থাক কিংবা সকালের কুয়াশার মত তড়তাজা এই প্রত্যাশায় রইল বিনম্র প্রার্থনা।)

বিশ্বাস

মাঝে মাঝে আমার নিজেকে বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়, অন্যকে তো দুরের কথা ! বিশ্বাসটা আসলে কাউকে করা যায়না, কিংবা বানানো যায়না। বিশ্বাসটা এমনি এমনিই জন্ম নেয়, যাকে বিশ্বাস করব তার কাজের উপর। আমার কাজ, চলাফেরা, আচার-আচরনই আমাকে বিশ্বাস করত শেখাবে তাকে। হয়ত হাজার বছর একিই ছাদের নিচে বসবাস করেও কাউকে বিশ্বাস করা যায়না কিংবা বিশ্বাস করে হয়ে ওঠেনা। আবার কখনো কখনো এক মুহুর্তের আচরনেই বিশ্বাস জন্ম নেয়।

আমার ধারনা বাংলা ডিকশনারীতে যতগুলো শব্দ আছে তার মধ্যে বিশ্বাস শব্দটা সবচেয়ে খারাপ ও ভয়ংকর । এই শব্দটি যে কত মানুষের কত ধরনের ক্ষতি করেছে, তা ভুক্তভুগি ছাড়া ব্যখ্যা করা সম্ভব নয়।

এক : একটি মেয়ে বা ছেলে শুধু অল্পদিনের চেনা জানা বা পরিচয়ের উপর বিশ্বাস করে, আগামীদিনগুলো তাকে সুখে রাখবে, ভালবাসবে, নিরাপত্তা দেবে গত বিশ বছরের মা-বাবার বিশ্বাস ভঙ্গ করে অজানার পথে পাড়ী জমায়। 

দুই : মা বাবা সন্তাদের বিশ্বাস করে তাদের বা্ইরে ছেরে দেন। কাউকে কলেজ হোস্টেলে আবার কাউকে আলাদা বাসায় রেখ উন্নত শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মত মানুষ হওয়ার প্রত্যাশায় শুধু মাত্র বিশ্বাস এর উপর নির্ভর করে তাদের বাইরে থাকার অনুমোতি দেন। এই বিশ্বাসই মাঝে মাঝে কাল হয়ে দাড়ায়। প্রতিনিয়ত বিশ্বাস ভংগ করে অনেকেই অধপতনের সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। কেউ স্বামী-স্ত্রী সেজে একই বাসায় থাকছে দিনের পর দিন। মা-বাবা জানতেও পারছেনা। তারা তাদের পুরানো বিশ্বাস নিয়েই পরে আছে। অথচ তারা জানছেনা তাদের সন্তান তাদের বিশ্বাস ভংগ করে আর একটা মানুষকে বিশ্বাস করে একই ছাদের নীচে রাত কাটাচ্ছে। 

তিন : নববধুর কত অঘাত বিশ্বাস বাসর ঘরে তার স্বামীর দেয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতির প্রতি। অথচ তাদের স্বামী নামের দেবতাটি প্রতিদিন যে কি অবিশ্বাসের কাজ করে যাচ্ছে তার খবর রাখেনা নিষ্পাপ বধুটি। এই বিশ্বাসই তাকে একদিন ডুবিয়ে মারে। অনেক সংসারেই দেখা যাচ্ছে বধূ বিশ্বাস নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে আর কখন যে তার সম্পর্কের অংশিদার জন্ম নেয় সে খবরও পায়না। তাইত আজকাল শুধু বিশ্বাস নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা নারীদের পচিশ বছর সংসার করার পরও ঘর ভেঙ্গে যায়। 

চার : আমাদের অফিসের মেঝ বাবু নিশ্চিন্ত মনে বিশ্বাস নিয়ে বসে আছে। দশ বছর হয়ে গেছে আর চাকুরী হারানোর ভয় নেই। তাই চাকুরী খুচ্ছেনা। এমন কি মাঝে মাঝে ইন্টারভউ দিয়ে নিজের যোগ্যতাটুকু ও যাচাই করে দেখেনা, শুধু বিশ্বাস নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। আর একদিন রাতের বেলা তার বিশ্বাস ভংগ করে রাতের আধারেই চাকুরীটা পালিয়ে গেল, সকালে অফিসে আসতেও হলোনা। অঘাত বিশ্বাসের কারনে সংসার নিয়ে শেষ বয়সে তাকে পথে বসতে হলো।

পাঁচ : বিশ্বাস তো আমাকেও তুমি করেছিলে সেই দশ বছর আগে। গ্রামের সহজ সরল মেয়েটাকে দেয়া সেদিনের প্রতিশ্রুতিগুলো কতনা বিশ্বাস এর সাথেই গ্রহন করে দশ বছর ঘুমিয়ে ছিল। আর তীলে তীলে বার বার ওর অজান্তেই বিশ্বাস ভংগ করে গেছি, জানতেও পারোনি। এখন তোমার কাছেতো মনে হতেই পারে, যে আমাকে বিশ্বাস করাটা তোমার জন্য ভুল ছিল। বরং প্রথমদিন থেকেই অবিশ্বাসাসের নজরে বন্দি করে রাখলে আজ হয়ত বিশ্বাস ভঙ্গ হওয়ার যন্ত্রনাটুকু পেতে হতনা। কিংবা হয়ত এতটা বিশ্বাস ভংগ হতনা। আমি হাজার ভাল হলেও ওর পক্ষে কি আমাকে আগের মত বিশ্বাস করা সম্ভব ?

ছয় : মাঝে মাঝে একটা কথা খুব মনে পড়ে, ঐ স্ত্রী সবচেয়ে হতভাগা, যার রয়েছে অবিশ্বাসী স্বামী। আর স্বামী সবচেয়ে হতভাগা, যার রয়েছে অবিশ্বাসী স্ত্রী। মাঝে মাঝে ভাবতে অবাক লাগে এই সব অবিশ্বাসী স্বামীদের বউদের কথা ভেবে। আহারে কতনা কষ্টে কাটছে ওদের প্রতিটি মুহুর্ত। সারাদিনের ঘরের কাজ, বাচ্চার স্কুল, শশুড়-শাশুড়ী তার মাঝে নিজেকে তৈরি করা স্বামী দেবতাটির ভাল লাগার জন্য। এরই মাঝে যদি সারাক্ষন একটা ভয় ভয় দুশ্চিন্তা নিয়ে সময় কাটাতে হয়, এই বুঝি স্বামীটি বেহাত হয়ে গেল, তার সর্ম্পর্কের অংশিদারে এসে তার আপন পৃথিবীটাকে নরবরে করে দিল। এভাবে কি মানুষ বেচে থাকতে পারে ?

সাত : প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্বামী ঘরে ফেরার পর যদি তার শার্ট  থেকে লম্বা চুল আর লিপিস্টিক এর দাগ খুজে বেরাতে হয় । তাহলে শাড়ী পরে হাতে কফি নিয়ে ভেজা চুলে কে বেলকুনীতে অপেক্ষা করবে ?

আট : আমি শুনেছি সারাদিন স্ত্রীরা হাজারো কাজে ব্যস্ত থাকে। এই সারাদিনের কাজের কষ্ট, গ্লানি আর পরিশ্রমে তাদের অন্তরে তীল তীল করে বেদনার বালু চর জমতে থাকে। সন্ধ্যা বেলা স্বামী যখন অফিস থেকে ফিরে হাসি মুখে বুকে টেনে নেয়, তখন সারাদিনের সেই কষ্টগুলো গলে জলের স্রোতের মত বিলিন হয়ে যায়। আর ঐ স্ত্রীটি আগামীকালের জন্য বেঁচে থাকার সাহস, শক্তি ও মনবল অর্জন করে নেয়। আর সন্ধ্যেবেলা স্বামী দেবতাটি যদি নিজের পৃথিবী নিয়ে পরে থাকে, স্ত্রীর অবিশ্বাসগুলোকে আরো তরতাজা করে তোলে, তাহলে সারাদিনের সেই বেদনার বালুচর গুলো একদিন পর্বত আকার ধারন করে। 

আবার কখনো কখনো নষ্টা চরিত্রের সার্টিফিকেট নিয়ে ঐ  স্ত্রীকে নিজের পৃথিবী থেকে সরে দাড়াতে হয়। কিন্তু কেন ? ও তোমাকে বিশ্বাস করেছিল বলে । হয়ত এমনটা প্রতিদিনই আমাদের চারপাশে ঘটছে আমরা খবরও রাখিনা। আমরা শুধু তাদের দোষটা নিয়ে দুচোখ বন্ধ করে মাইকিং করে বেড়াচ্ছি। সেই শব্দে ওদের না বলা কথাগুলো অস্পষ্ট কিংবা চাপা পরে যায় । 

নয় : আজ কদিন আমার এক কলিগের কাজে মন নেই। সারাক্ষন স্ত্রী হারানোর চিন্তায় ডুবে থাকে। আজ অনেকদিন পর সেই পুরানো খালাত ভাইটা আবার বেড়াতে এসেছে, তাই আজ অফিস করবে। বিকালে ছুটি লাগবে । এভাবে কত বিকেল ছুটি নেবে বন্ধু  ?  কেউ যদি তার নিজের কদর বুঝতে না পারে, নিজেকে বিলিয়ে দেয় সস্তা কোন দালালের হাতে ।  সেখানে তোমার অবিশ্বাস আর বিশ্বাস কি কাজে আসতে পারে ? 

তাহলে শোন, ভালবেসে মা-বাবার অমতে বিয়ে করেছি ছিল অঘাত বিশ্বাস। কোন দিন বিন্দুমাত্র অবিশ্বাস করিনি। আমি প্রায়ই অফিসের কাজে নাইট করতাম। অধিক রাত করে বাসায় ফেরতাম। ওকে বিশ্বাস করে একা রেখে যেতাম। ও মাঝে মাঝে বলত ওর ভয় করে । যে জিনিসগুলো হারানো নিয়ে ওর ভয় করত, কবে যে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করে সেই জিনিসগুলো অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে, আমি টেরই পাইনি।  অল্পকিছুদিন পর লক্ষ্য করলাম ওর আর ভয় করেনা। তখন বুঝলাম ওর আর হারাবার কিছুই বাকি নেই, তাই ভয়ও নেই। যদিও এসব কথা অনেক দেরী করে বুঝলাম। এই বিশ্বাসই আমাকে ডুবিয়েছে, তখন প্রথম থেকেই যদি অবিশ্বাসের গাছটাকে জল দিয়ে বড় করে তুলতাম। তাহলে আজ আর কষ্ট পেতে হতনা।

সন্দেহ আর অবিশ্বাস এই শব্দ দুটিকে ভালবাসতে শুরু করো, তাহলে অন্তত বিশ্বাস ভঙ্গ হওয়ার যন্ত্রনা নিয়ে বাকিটা জীবন কাটাতে হবেনা। 


সময় পেলেও আর লিখবনা !

হায়রে জীবন !

এখন রুমে ফিরলাম ! আগে মাঝে মাঝে ভাবতাম আমি আসলেই গাধা, আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা। এখন দেখি আমি না থাকলে তো অনেক কিছুই বন্ধ হয়ে যায়। হায়রে পৃথিবী, আজ বুঝলাম কেন মানুষ আত্নহত্তা করে। আগে না বুঝে ওদের কত আজেবাজে কথা বলতাম, কেন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কেন নিজের জীবনটা ধংস করে দেয়, ইত্যাদি ইত্যাদি । আজ বুঝলাম, আমিই এতদিন বোকা ছিলাম............!

আজ থেকে অনেকদিন আগের আমাার এক বান্দবীর একটা কথা মনে পড়ে গেল, তুই সেদিনও বোকা ছিলি, আজও বোকাই রয়ে গেলি। সেদিনও তোর আমাকে গ্রহণ করার সাহস ছিলনা, আর কোনদিন হবেওনা ।

সত্যিই বন্ধু আজ তোর কথাটা খুব মনে পড়ছে। ধন্যবাদ তোকে। শুভ রাত্রী ।

আব্দুস সালাম

ইতি কথা

প্রিয় নীলা,

কেমন আছ ? আজকের সকালটা দেখেছ । অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু আলাদা। বেশ রোদেলা আর জলমলে। কিছুটা হালকা ঠান্ডার সাথে মিস্টি কুয়াশাও ছিল। তোমার হাত ধরে খালি পায়ে হেটে চলার জন্য উত্তম আবহাওয়া। 

হটাৎ করে তোমার মাঝে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। তুমি আর আগের মত নেই। এখন তোমার কথা বলার মাঝে বেশ তারুন্য, হাসিহাসি কথা, ব্যবহারে বেশ মাধূর্য্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই চার বছরে শুধু দুদিনই তোমার চোখে জল দেখেছি। কাঁদতে শুনেছি। এতদিন তোমার ভালবাসা বুঝতে পারিনি। যখন বুঝলাম তখন কিছুই করার রইলনা। সেটা আমারই ব্যর্থতা। এটা আমার জন্য অভিষাপের। কারন আমারই না বোঝার কারনে সারাজীবন তুমি কষ্ট পেলে। ক্ষমা চেয়ে তোমাকে ছোট করবনা। 

তবুও লজ্জা, ঘৃনা, ভয় ভুলে কিছু কথা তোমাকে বলতে চাই্ । আমাকে ক্ষমা করোনা। ভুলে যেওনা কোনদিনভ ঘৃনা করো প্রতিদিন। যদি কোনদিন শুনতে পাও তোমাকে না বলেই চলে গেছি না ফেরার দেশে, সেদিন যেখানেই থাকো একবার এসে দুফোটা চোঁখের জল ভিক্ষা দিয়ে যেও, পারলে মরিবার সময় যেনো তোমার দুফোটা চোখের জলি দেখিতে দেখিতে এজীবনের অন্ত হয়। 


আমি সেই নীল। 

কেন করলে এমন ?

প্রিয় নীল,

আমার ভাবনার খেয়া তরীটা ভাসতে ভাসতে তোমার কাছেই যেতে চেয়েছিল তোমারই নোঙ্গরে ভিড়বে বলে। বাধবো ছোট্ট একটা নীড়, তাতে থাকবে সুখ আর ভালবাসা। আমার সেই স্বপ্নের ঘরে আমি না ফুটবে, আর একটা নীলপদ্ধ।


তোমার সঙ্গে কথা বলেছি অনেক। তবে হয়ত আর সেভাবে বলা হবেনা। তাই সেই কথাটি বলছি, তুমি আমাকে ভালই যখন বাসলে, আরো একটু বেশী ভালবাসতে পারলেনা কেন ? তাহলে যেমন তোমাকে জয় করতে পারতাম, তেমনি তুমিও জয় করতে পারতে আমাকে। তোমাকে হারিয়ে সত্যিই কষ্ট পেয়েছি। তবে আমাদের দুজনের অতীত দিনগুলো ভেবে সুখও কম পাইনা।


তারপরও গত কয়েকদিনে মন হাজার বার এই প্রশ্নই করেছে। কেন তুমি এমন করলে ? কি মিলল তোমার এসব করে ? সবকিছুর পরে আমার সবচেয়ে বড় কষ্টটা কি জানো ? তুমিও অন্য দশটা ছেলের মতই, আলাদা কিছু না। অথচ আমার দেখা অন্য সব ছেলের চেয়ে তুমিই আমার কাছে আলাদা ছিলে। খাটি ছিলে। সরাসরি কথা বলতে। তোমার অনেক কথায় কষ্ট পেয়েছি, তবুও আমার ভাল লাগত, এই ভেবে তুমি অন্যদের মত না। তাই তোমার কথা অকপটে বিশ্বাস করতাম। আর তুমি ? সব শেষ করে দিচ্ছো.........! আমার মনের ভেতর যে কি চলছে, অন্যকারো মত বোঝাতেও পারিনা। কাঁদতেও পারিনা। শুধু ভেতরটা আমার পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। 


তুমি আমাকে চিনতে না, আমিও না। মোবাইলের মাধ্যমে আমাদের প্রথম পরিচয়। কিন্তু আমি কখনোই তোমার সাথে মিথ্যাচার করিনি। আমি যেমন যা আমার ফ্যামিলি কন্ডিশন ঠিক সেভাবেই নিজেকে তুলে ধরেছি। কখনো বাড়িয়ে কিছু বলিনি। কখনো পারতপক্ষে তোমার সাথে রাত দেখাইনি। রাগ হলেও না। তারপরও কেন করলে এমন ?

তুমি জানো না। তুমি আমার শেষ করেছো কতটুকু ? তুমি সেটা জাননা। জানবেও না। কিন্তু তুমি এটাতো জানতে কেমন ফ্যামিলির মেয়ে আমি। আমার গভীর একাকীত্ব, কষ্ট, সবই তো তুমি জানতে। তাহলে আমাকেই কেন বেছে নিলে খেলার উপকরন হিসাবে ? তোমার তো অনলাইন-অফ লাইন বন্ধুর অভাব নেই। তবে আমার সঙ্গেই কি খেলাটা খেলা জরুরী ছিল ?

তুমিইতো বলতে আমি খুব সেন্টিমেন্টাল। তাই দিলে এ কষ্টটা । তুমি আমার কাছে অনেক ছোট হয়ে গেলে। অনেক ছোট যেটা আমি কখনো চাইনি। তোমার মনে আছে তোমাকে একবার বলেছিলাম, আমি একটু সেকেলে টাইপ। তুমি বলেছিলে কেন তা হতে যাবে ? হ্যা আমি তাই। চার বছর ধরে একজনের সাথে দেখা করব যে বয়সে আমার বড়, যার কোন সম্পর্ক  নেই, আমারও না, যাকে সব সময় ফোন করবো, এসএমএস করবো, ডেট ফিক্সড দেখা করবো। তারপর বলব জাস্ট ফ্রেন্ডশিপ, তোমার এই তথাকথিত স্মার্টনেস এখনো আমি আয়ত্ব করতে পারিনি। 

তোমার কাছে শতভাগ সৎ থাকতে চেয়েছি। আমি কাউকে কখনো ভালবাসিনি ভয়ে। সেকথা তোমাকে বলেছি, তুমি বললে, সবাই আর তুমি কি এক ? তুমি সন্ধ্যায় বাইরে থাকা পছন্ধ করো বলে তাও শুরু করেছে। বোরখা পড়তে না করেছো তাও শুরু করেছেলাম। এসবের বিনিময়ে তুমি কি দিলে ?

ডায়রির প্রথম থেকে পড়লে বুঝি কিভাবে আস্তে আস্তে আমার ভুবন তুমিময় হয়ে গেছে। রাতে আমার প্রায়ই ঘুম ভঙ্গত। আমি ভাবতাম তোমার কথা। কি পরম নির্ভয়ে অনির্ভর সম্পর্ক গড়েছিলাম। কেমন শুন্য অনুভুতি আমার। এ শুন্যতার ভারেই মনে হচ্ছে মরে যাবো। 

তোমার মন হয়ত ঠিক বুঝি নাই, তাই এত সাহস করিয়াছি। তাই যখন চুপ করিয়াছিলে তখনও মনের কথা বলিয়া ফেলিয়াছি। যখন ত্যাগ করিয়া গেলে, তখন নিজে অগ্রসর হইয়া তোমাকে সব জানাইয়াছি। কিন্তু তোমাকে যদি ভুল করিয়া থাকি, সেকি আমারই দোষ। একবার শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সব কথা মনে করিয়া দেখ, যাহা বুঝিয়াছিলাম, সেকি তুমিই বোঝাও নাই । 

কেন করলে এমন ? এখনকার শতকরা নিরানব্বই ভাগ ছেলেই ধোকাবাজ। বাকি এক ভাগের খোজ সবসময় করেছি। আমার নিজিস্ব কিছু নীতি আছে। বাঝে কিছু করিনা। বাজে কিছু দেখিনা। ইউনির্ভাসিটিতে ছেলেমেয়েরা কত আজেবাজে ফাজলামী করে। নিজেকে সযতনে এসব থেকে বাচিয়ে রেখেছি। আমার এসব নীতিবোধের বিনিময়ে একটা ভালো ছেলে কি আশা করতে পারিনা যাকে স্বাচ্ছন্দে বিশ্বাস করা যায়, ফ্যামিলির সঙ্গে পরিচয় করানো যায় । আমি তোমাকে সেই এক ভাগের মধ্যে ভেবে ছিলাম। 

আমার হাজার কষ্ট হলেও তোমকে সাপোর্ট দিতে চেষ্টা করেছি। তোমার মন খারাপ থাকলে নিজের মনের কথা কখনো বলিনি। কারণ আমার মনে হয় না আমি অকৃতঞ্জ। আমার হাসপাতালের কঠিন দিনগুলোতে তুমি আমার সঙ্গে ছিলে। বিষন্নতা থেকে টেনে তুলেছ। এ আমি কিভাবে ভুলি। কিন্তু আমি খুব বেশী মহতৎ না। তাই তোমাকে মাফও করতে পারবনা। জীবনে যত সম্মানই তুমি পাও, মনে রেখ একজন সারাজীবন তোমাকে অবজ্ঞা চোখে দেখবে। 

আমার সব ভাললাগা, ভালবাসা, স্বপ্ন শেষ করে আমার জীবনটা তুমি করে দিলে অন্ধকারময়। তারপরও চার বছরে তুমি আমার মাঝে যে আলো ছড়িয়েছো তা আমার মনের আলো হয়েই থাকবে সব সময়। এরপরও তুমি সুখে থেকো সব সময় আমি যেমন চাই।


নীলা।

তুমিত ভিখারীর চেয়েও খারাপ !




নীল,


শূভ সকাল ! আজ তোমাকে একটা সত্যি কথা বলব ! মন দিয়ে শোন্ ! রাগ করনা ! আমি যদি তোমার সাথে প্রেম না করে একটা ঠেলাওয়ালা বা ভিখারীর সাথেও প্রেম করতাম, তবে প্রেম তা পূর্ণতা পেত !

শোন নীল্ ! "তুমিতো ভিখারীর চেয়েও খারাপ ! একজন ভিখারী তো কোনো এক শুভদিন দেখে বিয়ে করে ! রিকশা ভাড়া করে কনের বাড়িতে বিয়ে করতে যায় ! বিয়ের পর দিন থেকে স্বামী স্ত্রী দুজন পাশাপাশি দাড়িয়ে ভিক্ষা করে ! ভিক্ষার ফাকে ফাকে দুজন দুজনের দিকে মায়া মায়া নজরে তাকায় ! তুমিত ভিক্ষুকের চেয়েও অধম !"

তোমার সাথে প্রেম না করে একটা ভিখারীর সাথে প্রেম করলে সফল পরিনতি হত ! তবুও অশির্বাধ করি তুমি ভালো থাক, সুখী হও !


নীলা !

" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!