বিএসসিআই এর ট্রেনিং ।

জীবনে কিছু কিছু দিনের স্মৃতি সত্যিই ভোলা যায়না ।

Firmgate

Badhon

শুভ জন্মদিন

তোমার জীবনের ছোট্ট ছোট্ট সময়গুলোকে আনন্দের রং লাগিয়ে স্বরনীয় করে রাখতে চেষ্টা করছি । যা সেদিন তোমাকে মনে করিয়ে দেবে যে, এই আমি তোমাকে কতটা গুরুত্ব দিতাম । যেইদিন আমি তোমার জায়গায়..আর তুমি আমার জায়গায় থাকবে।

সোনার গাঁও

কোন কোন মানুষ জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ন হয়ে যায় । কোন কোন দিনও সারাজীবন মনে থেকে যায় । সেরকম একটি দিন ছিল যেদিন এই ছবিটা তুলেছিলাম ।

Showing posts with label Health. Show all posts
Showing posts with label Health. Show all posts

দেহের উপরিভাগ সুগঠিত ও উন্নত করতে নারীদের জন্য


আজকাল প্রায় কমবেশী সকল নারীই স্বাস্থ্য সচেতন। সকলেই এখন চেষ্টা করেন স্লিম থাকতে, পাশাপাশি নিজের শরীরের নানান অঙ্গগুলো সুগঠিত রাখতে। শরীরের একেকটি অঙ্গ সুন্দর করতে চাই ভিন্ন ভিন্ন ব্যায়াম। ডায়েটিং করে ওজন তো কমানো যায়, কিন্তু এর অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে দেহের সৌন্দর্যের ওপরে। স্লিম ফিগারের জন্য দেহের গঠন নষ্ট হয়ে যায়, বিশেষ করে বক্ষ যুগল হারায় সৌন্দর্য। তাই দেহের গঠন, বিশেষ করে দেহের উপরিভাগের গঠন উন্নত করতে প্রত্যেক নারীর কিছু ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরী। এতে করে স্তনের গঠন উন্নত হয় এবং দেহ হয় সুগঠিত। বয়সের তুলনায় অপরিপক্ক স্তন গঠন যাদের, কিংবা যারা মাতৃত্ব বা অন্য কারণে স্তনের আকৃতিগত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দেবে এই চারটি সহজ ব্যায়াম।

আজ জেনে নিন ১ সেটের ৪ টি ব্যায়াম সম্পর্কে।


ডাম্বেল বেঞ্চ প্রেস

একটি ফ্ল্যাট বেঞ্চের ওপর শুয়ে পড়ুন চিত হয়ে। হাতে দুটো ডাম্বেল নিন। এবার ছবির মতো করে হাতে ডাম্বেল নিয়ে ওপর নিচ করতে থাকুন। এভাবে ১০ বার করুন। এবং বিশ্রাম না নিয়ে ২য় ব্যায়াম করুন।


পুশআপ

প্রথম ব্যায়াম শেষ করে পুশআপ করে নিন। হাতের তালু মাটিতে ছড়িয়ে নিন। পা দুটো কাছাকাছি রেখে দেহ সোজা করে পুশআপ দিন। আপের সময় দেহ একেবারে সোজা হতে হবে। এবং নিচে আসার সময় আপনার হাত এবং কুনুইয়ের মধ্যে ৪৫ ডিগ্রি কোন করার চেষ্টা করুন (B)। ১০ টি পুশআপ দিন এবং ৯০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন।

আবার প্রথম ব্যায়ামটি করে ২য় ব্যায়ামটি করুন। এবং ৯০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে ৩য় ব্যায়াম করবেন।


ইনক্লাইন ডাম্বেল বেঞ্চ প্রেস

ফ্ল্যাট থেকে ৩০ ডিগ্রি কোনে বেঞ্চটি সেট করে নিন। এবং ব্যায়াম ১ এর ন্যায় হাত ওপর নিচ করুন। এভাবে ১০ বার করে নিন। এবং বিশ্রাম না নিয়ে ৪র্থ ব্যায়াম করুন।


ডাম্বেল ফ্লাই

এবার আবার বেঞ্চটি ফ্ল্যাট করে সেট করে নিন। দুটি ডাম্বেল নিয়ে হাতদুটো কিছুটা বাকা করে উঁচু করুন এবার নিচে নামানোর সময় হাতদুটো ছবির মতো করে দুই দিকে ছড়িয়ে দিন। এভাবে ১০ বার করুন এবং ৯০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন।

এরপর ব্যায়াম ৩ ও ৪ পুনরায় করুন।

এই ব্যায়ামগুলো প্রতিদিন সেট আকারে করার চেষ্টা করুন স্তনের গঠন উন্নত এবং টানটান হবে।


পেটের মেদ, বাড়ান সৌন্দর্য


একটু বাড়তি ওজন দেখতে বেশি খারাপ না লাগলেও পেটের মেদ দেখতে একটু বেশিই খারাপ লাগে কিন্তু এই পেটের মেদ আমাদেরই অনিয়ম এবং বাজে খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে একটু-আধটু মেদ সাধারণ ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলা যায় কিন্তু বেশি মেদ জমলেই সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়তে চায় না বরং বাড়তেই থাকে এই পেটের মেদ কিন্তু এই জমে থাকা মেদ নিয়ে তো বসে থাকা যায় না মেদ কমানোর উপায় বের করতে হবে তাই আজকে আপনাদের জন্য রইল পেটের মেদ দ্রুত ও সহজে কমানোর ৮টি দারুণ "অব্যর্থ" কৌশল

দিন শুরু করুন লেবু গরম পানি দিয়ে

সকালে খালি পেটে খান এক গ্লাস লেবু পানি সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক ফালি লেবু চিপে নিয়ে এতে ১ চিমটি লবণ মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন প্রতিদিন নিয়ম করে পান করুন এই লেবু গরম পানি লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং গরম পানি উভয়ই পেটের মেদ কাটাতে সাহায্য করবে

ভাত খাওয়া বন্ধ করুন

ভাত খেলে পুরোটাই পেটে মেদ হিসেবে জমা হয়ভাতের পরিবর্তে লাল আটার রুটি খান মেদ কমবে যদি নিতান্তই ভাত খেতে হয় তবে এক কাপের বেশি ভাত খাবেন না

চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন

যেসব খাবারে চিনি রয়েছে সেসব খাবার খাওয়া বন্ধ করুণ চিনি জাতীয় খাবার পেটে মেদ জমায় চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করুণ

দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন

যদি পেটের মেদ দ্রুত কমাতে চান তবে অবশ্যই প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে পানি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং দেহের টক্সিন দূর করে পেটের মেদ কমতে সাহায্য করে

নিয়মিত কাঁচা রসুন খান

গন্ধের কারণে অনেকেই কাঁচা রসুন থেকে দূরে থাকেন কিন্তু যদি দ্রুত পেটের মেদ কমাতে চান তবে নিয়মিত কাঁচা রসুন খাবেনকাঁচা রসুন দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও মেদ ক্ষয় হতে সাহায্য করেপ্রতিদিন ২/৩ কোয়া রসুন খাবার অভ্যাস করুণ

শাকসবজি খাবার অভ্যাস করুন

অনেকরই মাছ-মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকে বেশি এবং সবজি খাবার কথায় অনীহা প্রকাশ করেন কিন্তু মাছ মাংসে প্রোটিনের পাশাপাশি ফ্যাট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে যা দেহে মেদ জমায় শাকসবজিতে আছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং পরিমিত ফাইবার তাই পেটে মেদ জমতে দিতে না চাইলে শাকসবজি খান মাছমাংস খাবার পরিমাণ কমিয়ে দিন

মৌসুমি ফলমূল খান

সকালে, দুপুর, বিকাল এবং রাতের খাবারের তালিকায় ১ বাটি ফল রাখুন এতে আপনার কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট কম খাওয়া হবে ফলে আপনি দ্রুত মেদ কমাতে সক্ষম হবেন অনেকে মনে করেন ফলের চাইতে ফলের জুস খাওয়া ভালো কিন্তু ফলের জুস ফ্যাট বাড়ায় কারণ জুসে ফলের কোন ফাইবার থাকে না এবং স্বাদের জন্য এতে কিছুটা মিষ্টি যোগ করা হয় সুতরাং ফলেরজুসের পরিবর্তে ফল খান

খাবারে যোগ করুন কিছু মসলা

দারুচিনি, আদা, গোল মরিচ জাতীয় মসলা যুক্ত খাবার খান এইসব মসলা দেহের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে রান্নায় দারুচিনি, আদা ও গোল মরিচ যোগ করে রান্নার স্বাদের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি কমিয়ে নিতে পারেন পেটের মেদ

নিয়মিত যৌন সম্পর্কে নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি

নিয়মিত যৌন সম্পর্কের কারণে নারীদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। একটি স্কটিশ গবেষণা সংস্থা এ ধরণের একটি গবেষণা করে।

ঐ গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যে সকল নারীরা নিয়মিত তার সঙ্গীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে তাদের স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে। এছাড়া ঐ সকল নারীদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়, ত্বক আরো মসৃণ ও সতেজ হয়।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, শারীরিক সম্পর্ককালে নারীর শরীরে ৩ ধরনের হরমন কাজ করে। এসব হরমনগুলির কারণে ত্বক সুন্দর ও মসৃন হয়। এছাড়া এই সময় ঘামের সাথে বের হওয়া একধরণের এসিড সুন্দর মলিন ঠোট ও উজ্জ্বল চোখ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সকাল বেলায় জরুরি ৬টি সুঅভ্যাস

একটি সুন্দর জীবন কে না চায়? আর সুন্দর জীবনের মূল চাবিকাঠি হলো সুস্বাস্থ্য। সুস্বাস্থ্য পেতে হলে চাই ছন্দেবাঁধা জীবন, পরিমিত আহার গ্রহণ এবং নিয়ম মেনে চলা। কিন্তু এই দৌড়ঝাঁপের জীবনে নিজের প্রতি এত খেয়াল রাখার সময় কোথায়। এতকিছু না হোক, নিজের সামান্য একটু যত্ন, কিছু সুঅভ্যাস আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও নীরোগ। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের পেছনে সামান্য কিছু সময় ব্যয় করে কিছু কাজ নিয়মিত করলেই আপনি হতে পারেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

খালি পেটে পানি পান করুন :

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে পানি পান করুন। এতে আপনার শরীরের মেটাবলিজম ত্বরান্বিত হবে এবং ওজন বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা কমে যাবে। সম্ভব হলে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এতে আপনার পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে। পেট পরিষ্কার থাকবে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

 দাঁত পরিষ্কার করুন :

আমরা প্রায় সকলেই ঘুম থেকে উঠে নাশতা করার আগে দাঁত ব্রাশ করি। আসলে সকালে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম হলো নাশতার পর দাঁত ব্রাশ করা। যদি আপনি রাতে দাঁত ব্রাশ করে ঘুমান, তাহলে নাশতা করার আগে শুধু কুলি করে নিন। এরপর নাশতা করার পর দাঁত ভালো করে ব্রাশ করে পরিষ্কার করুন। এতে আপনার মুখ ও দাঁত সারাদিনের জন্য পরিষ্কার থাকবে এবং নিঃশ্বাসেও খুব বেশি দুর্গন্ধ হবে না।

ব্যায়াম করুন :

নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে করবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত ব্যায়াম করুন। অল্প সময়ের ব্যায়ামেই আপনি পাবেন দীর্ঘমেয়াদী ফল। আপনি থাকবেন সারা দিনের জন্য ঝরঝরে এবং কর্মক্ষম। জোরে হাঁটা বা দৌড়ানো খুব ভালো ব্যায়াম। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটতে পারেন। এছাড়া করতে পারেন হালকা কোনো ব্যায়াম।

শবাসন করুন :

আমাদের উপমহাদেশে উদ্ভাবিত যোগ ব্যায়াম আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত, অথচ আমরা অনেকে এ বিষয়ে একবারেই অজ্ঞ। এ ব্যায়ামের মূল বৈশিষ্ট্য হলো বিশেষ ধরনের দেহভঙ্গিমা, যাকে আসন বলা হয়। একেক আসনে দেহে একেকভাবে চাপ পড়ে, যা দেহের একেক অংশের উপকার সাধন। এসব আসনে কিছুক্ষণ থাকার পর একটি বিশেষ আসনে বিশ্রাম নিতে হয় যাকে শবাসন বলে।
মনকে চিন্তামুক্ত রেখে বালিশ ছাড়া চিত হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে শবাসন করতে হয়। সকালে ঘুম ভাঙলে লাফিয়ে বিছানা থেকে না উঠে কিছুক্ষণ শবাসন করুন। এতে দৈহিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিদিন আধাঘণ্টা শবাসন করলে মেরুদণ্ড ভালো থাকে, অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায় এবং দেহের যেকোনো ব্যথা ও লুকানো সমস্যা দূর হয়।

সকালে ভরপেট নাশতা করুন :

অনেকেই মোটা হয়ে যাবার ভয়ে সকালে ঠিকমতো নাশতা করেন না। এটা আসলে একটা ভুল ধারণা। বরং সকালে নাশতা না করলেই ওজন বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সকালে ভরপেট নাশতা করুন। এতে আপনার সারাদিনের কর্মক্ষমতা ঠিক থাকবে। দুপুরে ও রাতে অল্প পরিমাণে খেলেও সমস্যা হবে না। সকালের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন।

 চা বা কফি নাশতার পরে খান :

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই খালি পেটে চা বা কফি খান। এটা খুবই খারাপ একটা অভ্যাস। এতে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ক্রনিক অ্যাসিডিটি বা আলসারের সূত্রপাত এভাবেই হয়। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্যেও এ অভ্যাস দায়ী। তাই সকালে নাশতা করার পর চা বা কফি খান।

স্তনে ব্যথা কিংবা চাকার অনুভূতিঃ কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে?


স্তনে ব্যথা কিংবা শক্ত কোন পিন্ড অনুভব করার সমস্যাটির মুখোমুখি যে কোন মেয়েই জীবনের কোনো না কোনো সময় হয়েছে। সদ্য কৈশোর পার করা মেয়েটি তার স্তনের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন দেখে রীতিমত অবাক হয়, সেই সাথে স্তনে চাকা বা ব্যথার অনুভূতি তাকে ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার শংকায় শংকিত করে তোলে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ব্যথার বিষয়টি ডাক্তাররা বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখেন, কারণ স্তনের কোন পিন্ড যদি প্রাথমিক পর্যায়েই ব্যথা করে তার মানে সেটি ক্যান্সার বা টিউমারে রূপ নেবার সম্ভাবনা খুব কম। স্তন ক্যান্সারে শুরুর দিকে একেবারেই ব্যথাহীন থাকে। তাছাড়াও যাদের বয়স তুলনামূলকভাবে কম (৩০ এর নিচে) তাদেরও ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কম থাকে।

যেহেতু আমাদের দেশে নারীরা তাদের স্তনে কোনো সমস্যা হলে সেটি প্রকাশ করতে লজ্জা পান, তাই ঠিক কখন বা কি ধরণের সমস্যায় ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সেই ব্যাপারটি জানা থাকা অত্যন্ত জরুরী। ফলে কাজটি যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমনি আপনার অকারণ ভয় আর ঝুঁকির হারও কমে যায়।

স্তনে অস্বাভাবিকতা দেখার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনার স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা বা ঝুঁকিহীন সমস্যাগুলো কী কী হতে পারে-
  • -প্রথমত বয়ঃসন্ধির পর থেকেই মেয়েদের স্তন একটি ছোট ও অপরটি বড় থাকতে পারে। আকারের খুব বেশি অসামঞ্জস্য বা দৃষ্টিকটু পার্থক্য না থাকলে এ নিয়ে ভাবিত হবার কিছু নেই। তবে লক্ষ্য করুন দুই স্তনের একই জায়গাগুলোতে ঘনত্ব সমান কী না! হাত দিয়ে অনুভব করলে দেখবেন আপনার স্তনের উপরের ও বাইরের দিকের অংশ একটু শক্ত ও দড়ি পাকানো বলে মনে হয়; কারণ এই এলাকা থেকেই স্তনগ্রন্থির শুরু। এর থেকে যত নিচের দিকে নামতে থাকবেন চর্বির কারণে তত নরম অনুভূত হবে।
  • -এছাড়াও প্রতি মাসে মাসিকের ঠিক আগে আগে বা মাসিকের সময় স্তনে ব্যথা বা পিন্ড অনুভূত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু লক্ষ্য রাখুন ব্যথা বা পিন্ডটি সেই মাসের মাসিকের পর বা পরবর্তি মাসিক পর্যন্ত থাকে কী না। যদি না থাকে তবে সেটা নিয়েও চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই।

তাহলে কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে?

  • -প্রথমেই দেখবেন স্তনে অনুভূত হওয়া চাকাটি কি একেবারেই নতুন কী না, এর আগের কোনো মাসিকের সময় এর অস্তিত্ব টের পাননি এমন হয়েছিল কী না।
  • -নতুন অনুভূত অস্বাভাবিক-অস্বস্তিকর পিন্ডটি যদি পরবর্তী মাসিক পর্যন্ত থেকে যায় বা তুলনামূলকভাবে বড় হয় তবে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান।
  • -স্তনের শক্ত পিন্ডটির বৃদ্ধির হার লক্ষ্য করুন; যদি কয়েকদিনের মধ্যে খুব দ্রুত বড় হতে থাকে এবং ব্যথা না থাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
  • -যদি দেখেন পিন্ডটি নড়ছে অর্থাৎ অনুভব করার সময় হাত থেকে পালিয়ে যেতে চাইছে এবং তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বেশ দূরে চলে যাচ্ছে, তবে সেটা আপনার স্তনগ্রন্থির পরিবর্তন নির্দেশ করে, এমন পরিবর্তনে অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
  • -স্তনের ত্বকে কোন ধরণের পরিবর্তন হলে, যেমনঃ ত্বক বেশি লাল হয়ে গেলে, কোঁচকানো বা বলিরেখার মত দাগ সৃষ্টি হলে, ত্বকে টোল খেয়ে গেলে কিংবা পাউরুটির শক্ত অংশের মত শক্ত হলে দেরি না করেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
  • -স্তনের বোঁটার বেশ কিছু পরিবর্তনেও সচেতন হতে হবে, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- স্তনের বোঁটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভেতরে ঢুকে গেলে কিংবা বোঁটা থেকে কোন ক্ষরণ নিঃসৃত হতে পারে। স্তন থেকে ক্ষরিত রস পানির মতো বা হলুদ, বাদামী, লালচে বিভিন্ন রঙেরও হতে পারে। এছাড়াও স্তনে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমনে হঠাৎ করে প্রচন্ড ব্যথা ও পুঁজ হতে পারে, এই সময়ে ডাক্তারের ছুরির নিচে গিয়ে পুঁজের বিনাশ ঘটানোটা হবে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।
 বর্তমান সময়ে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে এই হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। নারীরা একটু সচেতন হলেই এই ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা অসম্ভব কিছু নয়।

শীতের মৌসুমে স্বাস্থ্যকর গাঁদা ফুলের চা!


গাঁদা ফুলের চা খেয়েছেন কখনো? কি চোখ কপালে উঠে গেছে? ভাবছেন, গাঁদা ফুলের চা আবার কি জিনিস, তাই না? গাঁদা ফুল দিয়ে তৈরি করা যায় মজাদার চা। গাঁদা ফুলের চা মূলত ঔষধি হিসেবে বানানোর প্রচলন শুরু হয়। এর পুষ্টিগুণ ও উপকারের জন্য ধীরে ধীরে এই চা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
গাঁদা ফুলের চা তৈরি বেশ সহজ। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ গাঁদা ফুলের চা নিমিষেই এনে দেয় সজীবতা। আর শীত কালে গাঁদা ফুল বেশ সহজলভ্য। তাই এই শীতের সকালটা শুরু করতে পারেন গাঁদা ফুলের চায়ের সজীবতা দিয়ে। আসুন জেনে নেয়া যাক গাঁদা ফুলের চায়ের ৫টি স্বাস্থ্য উপকারীতা ও চা প্রস্তুত প্রণালী।

প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল

গাঁদা ফুলে আছে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল। গাঁদা ফুলে আছে বিটা ক্যারোটিন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হাড়ের ক্ষয় রোধ ও আথ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে গাঁদা ফুলের চা ভূমিকা রাখে। এছাড়াও গাঁদা ফুলের চায়ে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ চোখ ও ত্বক ভাল রাতে সহায়তা করে।

 গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়

অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগে থাকেন। যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় অতিষ্ট তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে গাঁদা ফুলের চা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। গাঁদাফুলের চা হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

বেশ কিছু গবেষণায় জানা গিয়েছে যে গাঁদা ফুল ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। গাঁদা ফুলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাভনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও রোধ করতে সক্ষন গাঁদা ফুলের চা। পাকস্থলীর ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে এর ভূমিকা আছে।

ত্বক ভালো রাখে

গাঁদা ফুলের চায়ে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। গাঁদা ফুলের চা নিয়মিত খেলে ত্বক হবে মসৃন ও ব্রণ মুক্ত। 

 মাসিক নিয়মিত করে

অনেক নারীদেরই মাসিক অনিয়মিত। যাদের মাসিক নিয়মিত হয় না তারা প্রতিদিন সকালে গাঁদাফুলের চা খেলে নিয়মিত মাসিক হবে। এছাড়াও গাঁদা ফুলের চা মাসিকের সময় পেট ব্যাথাও কমিয়ে দিতে সহায়ক।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন

উপকরণঃ
২ চা চামচ গাঁদা ফুলের পাপড়ি
লেবুর রস
মধু
পানি
প্রস্তুত প্রণালীঃ
  • প্রথমে এক কাপ পানি ফুটিয়ে নিন।
  • এবার ফুটন্ত গরম পানিতে ২ চা চামচ গাঁদা ফুলের পাপড়ি দিন।
  • এরপর ৩/৪ মিনিট জ্বাল দিন।
  • চা নামিয়ে ছেকে কাপে ঢালুন।
  • সামান্য লেবুর রস ও পরিমাণমত মধু মিশিয়ে নিন।
  • গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার ও পুষ্টিকর গাঁদা ফুলের চা

মেয়েদের পিরিয়ড নিয়ে দু চার কথা


পিরিয়ড নিয়ে প্রায় সব মহিলাই কম-বেশি অস্বস্তিতে ভোগেন। বিশেষ করে পরীক্ষা, চাকরির ইন্টারভিউ, লম্বা ট্যুর, মঞ্চে অনুষ্ঠান থাকলে পিরিয়ড হলে বেশ অস্বস্তি লাগে। ধর্মীয় শুভ কাজে অংশ নেওয়াও এই সময় বন্ধ হয়ে যায়।একবিংশ শতাব্দিতে লাইফস্টাইল বদলেছে। অনেকেই চান জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে শারীরিক ঝঞ্ঝাট যেন তাড়া না করে। অনেকেই প্রতি মাসে পিরিয়ড হওয়াটা পছন্দ করছেন না। তার চেয়ে যদি তিন চার মাস অন্তর অন্তর পিরিয়ড হয় তবে অনেকটা রেহাই মিলবে। বা ধরুন যে সময় পরীক্ষা, বা ইন্টারভিউ বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নেই, ঠিক সেই সময়টা যদি পিরিয়ড হয়ে যায় তো কেমন হয়?

অনেকেই এমনটা মনে মনে ভাবেন, অথচ বাস্তবে হয়ে ওঠে না।

এখানে জানাই, এটা আশ্চর্যের কিছু না। ইচ্ছে থাকলে এমনটা হতেই পারে। মনমতো সময়ে পিরিয়ড হয়ে যাওয়ার এই ব্যাপারটাকে আমরা বলি সিজেনাল পিরিয়ড।

ভুল ধারণা

মুশকিল হল আমাদের দেশে পিরিয়ড নিয়ে অনেক রকম ধারণা রয়েছে। দিদিমা-ঠাকুমাদের আমল থেকে একটা ধারণা রয়েছে যে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া শরীরের পক্ষে খারাপ। কারণ মেনস্ট্রুয়াল ব্লাড নাকি দূষিত রক্ত। সেই রক্ত বেরোতে না পারলে মাথায় উঠে পাগল হয়ে যায়। ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব হাস্যকর যুক্তি। কোনও ডাক্তারি বইতে এ বিষয়ে এক লাইন ও লেখা নেই। যাঁরা প্রিম্যানস্ট্রুয়াল সিনড্রোম, বা পিরিয়ড চলাকালীন তলপেটে ব্যথা বা অতিরিক্ত ব্লিডিং-এর সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের চিকিত্‌সার অঙ্গ হিসেবেই তিন থেকে চার মাস পিরিয়ড বন্ধ করে রাখা হয়। যাতে তাঁরা এই কষ্টটা প্রতি মাসে না পান। তা ছাড়া প্রেগন্যান্সি বা ব্রেস্ট ফিডিং-এর সময়ও আপনাআপনি পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। পিরিয়ড বন্ধ রাখার মধ্যে কোনও নৈতিক সমস্যা নেই।

বাস্তবে দেখেছি, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য পিরিয়ড বন্ধ করে রাখতে বললে আজকের আধুনিক মেয়েরাও আঁতকে ওঠেন। যেন তাঁদের কোনও সাংঘাতিক সমস্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ পিরিয়ড একেবারে বন্ধ করা বা পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে গোটা বিশ্বে বহুদিন গবেষণা চলছে। পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়া এক দম নিরাপদ। যে কোনও প্রজননক্ষম মহিলা স্বল্প সময়ের জন্য পিরিয়ড পিছিয়ে দিতেই পারেন।

কী ভাবে বন্ধ করা হয়

এর জন্য রোজ একটা করে কৃত্রিম প্রোজেস্টেরন হরমোন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। পিরিয়ড শুরু হয় ন্যাচরাল সাইকেলের দ্বিতীয়ার্ধে প্রোজেস্টেরন কমে এলে। অতএব প্রোজেস্টেরন সাপ্লিমেন্ট যদি দুই সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে প্রোজেস্টেরন কমে গিয়ে ব্লিডিং হয় না।

কখন বন্ধ করবেন প্রোজেস্টেরন

যখনই মনে করবেন এ বার পিরিয়ড হলে অসুবিধে নেই, তখনই ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে এই প্রোজেস্টেরন পিরিয়ড শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট দিনের অন্তত সাত দিন আগে চালু করা যায়। এবং সেটা দশ বা পনেরো দিন আগে হলে আরও ভাল। শেষ মেনস্ট্রুয়াল পিরিয়ডের ষোলতম দিন থেকে প্রোজেস্টরন শুরু করা হয়।

সতর্কতা

এই ধরনের চিকিত্‌সা চলাকালীন একটাই সতর্কবার্তা, এই ওষুধ গর্ভনিরোধক হিসেবে কার্যকরী নয়। তাই ট্যাবলেট শেষ করার সাত দিনের মধ্যে পিরিয়ড শুরু না হলে দ্রুত প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা বাধ্যকামূলক। অথবা এই পিরিয়ড বন্ধ রাখার সময় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সময় কনডোম জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে হবে।

কন্ট্রাসেপটিভ পিল

পিরিয়ড বন্ধ করতে কন্ট্রাসেপটিভ পিলও ব্যবহার করা হয়। পিল ব্যবহারে পেলভিক ইনফেকশন, সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিস কম হয়। ওভারিয়ান সিস্টের সমস্যাও কমে যায়। ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমে যায়। পিল প্রতি মাসে একুশ দিন করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পিরিয়ড শুরু হওয়ার পঞ্চম দিন থেকে শুরু করে পঁচিশতম দিন পর্যন্ত পিল খেতে হয়। অথবা পিরিয়ড হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে যে কোনও এক দিন পিল শুরু করে টানা একুশ দিন খেয়ে যেতে হবে। তার পর সাত দিন বন্ধ রাখতে হবে। 
এই সময়ের মধ্যে পিরিয়ড হবে।

তবে সাত দিন বন্ধ না রেখে যদি লাগাতার ৮৪ দিন পর্যন্ত পিল খেয়ে যাওয়া হয় অর্থাত্‌ একুশটা ট্যাবলেটের চারটে প্যাকেট টানা চুরাশি দিন খেয়ে গেলে কোনও ঋতুস্রাব হবে না। এর পর সাত দিনের ছোট গ্যাপ দিয়ে আবার পিল শুরু করতে হবে চুরাশি দিনের জন্য। তাতে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর পিরিয়ড।
-গৌতম খাস্তগীর

প্রথম সেক্স ফ্যাক্ট!


যৌনতা বিষয়ক কিছু ফ্যাক্ট :::
১. ৩০ মিনিট সেক্স করলে আপনি ২০০ ক্যালরি পোড়াতে পারবেন। ভাল এক্সারসাইজ।
২. গড়ে একজন পুরুষ ৭ সেকেন্ড পরপর কোন না কোনভাবে সেক্সের কথা ভাবে।
৩. সপ্তাহে মিনিমাম ১ বার সেক্স করলে হার্টের রোগের ঝুকি ৫০% এবং ডায়াবেটিসের ঝুকি ৪০% কমিয়ে আনা যায়।
৪. যত দিন যাচ্ছে তত পুরুষদের স্পারম সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর কারন অতি হস্তমৈথুন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ইত্যাদি।
৫. ভায়াগ্রা বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহৃত সেক্স পিল।
৬. প্রথম কনডম ব্যবহৃত হয়েছিল ১৫০০ সালের দিকে এবং এটা ছিল লিনেন কাপড়ের তৈরি। বলা হয় বিখ্যাত প্রেমিক ক্যাসানভা এই কনডম
ব্যাবহার করতেন।
৭. সম্ভবত ১৮৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রথম জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যাবহার শুরু
করে মেয়েরা এবং এই দ্রব্যটি ছিল কুমিরের মল এবং মধুর মিশ্রন
যেটা যোনিতে ব্যবহার করা হত।
৮. একযুগ আগেও, মাত্র ২৫% মহিলা সেক্সে অরগাজম লাভ করতেন।
এখন এই হার ৪৫% এরও বেশি।
৯. ওরাল সেক্সে ৮০% মহিলা অরগাজম পেয়ে থাকেন।


১০. মেয়েরা ভাইব্রেটর বর্তমানে ব্যবহার করেন সেক্স টয় হিসাবে হস্তমৈথুনের জন্য। কিন্তু ১৯০০ সালের দিকে এর ব্যবহার ছিল ”’হিস্টিরিয়া” রোগের চিকিৎসার উপকরণ হিসাবে ।

১১.সমকামিতাকে প্রথমদিকে একটি মানসিক রোগ হিসাবে দেখা হত। কিন্তু ১৯৭৩ সালে একে রোগ না বলে একটি আচরণগত অরিয়েন্টেশন বলা হতে থাকে।

১২. সারাবিশ্বে প্রায় ১৩% মানুষ আত্মস্বীকৃত সমকামী এবং উভকামী।
১৩. জরিপে দেখা গেছে ৯০% পুরুষ এবং ৬৫% নারী হস্তমৈথুন করে থাকেন।
১৪. সারাবিশ্বে এভারেজ হিসাবে ১৯.২৫ বছর বয়সে মানুষ প্রথম সেক্স
করে থাকে।
১৫. মোটামুটি সারাবিশ্বে ২৫% মানুষ জানিয়েছে তাদের একজনই সেক্স
পার্টনার আছে। আর ২১% মানুষ জানিয়েছে তাদের ১০ জনের অধিক সেক্স পার্টনার ছিল।
১৬. সারাবিশ্বে মোটামুটি ৪৮% মানুষ তাদের সেক্সুয়াল লাইফ নিয়ে খুশি।
১৭. বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন মদের গন্ধ মানুষকে সেক্সুয়ালি উত্তেজিত
করতে পারে।

১৮. সেক্স অনেকসময় ব্যাথানাশক হিসেবে কাজ করতে পারে। সেক্সের সময় বের হওয়া Endorphins এই কাজটি করে।

১৯. পৃথিবীব্যাপী ১% মানুষ জানিয়েছে সেক্সের প্রতি কোন আকর্ষণই
তাদের নেই।
২০. সারাবিশ্বে একজন সুস্থ মানুষ প্রতিবছর গড়ে ১০৩ বার যৌনমিলনে অংশ নিয়ে থাকে।

মেয়েবেলায়


গৌতম খাস্তগীর
এমনিতে খুব বেশি যে হয়, তা নয়। কিন্তু সমস্যা হল বেশ কিছুটা ছড়ানোর পর হঠাৎ ধরা পড়ে ওভারিয়ান ক্যানসার। ফলে অনেক সময়ই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেনোপজের পর এই ক্যানসার বেশি দেখা যায়। শুরুতে তেমন উপসর্গ দেখা যায় না।

যাঁদের প্রথম দিকে ধরা পড়ে, তাঁদের বেশির ভাগেরই অন্য কোনও কারণে বা তলপেটের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে গিয়ে ব্যাপারটা ধরা পড়ে। তখন হয়তো ওভারিতে একটা লাম্প বা ডেলা দেখা গেল। এই ডেলাই বাড়তে বাড়তে তলপেটে ভারী লাগা, বদহজমের সমস্যা তৈরি করে ফেলে। দেখা যায় কোষ্ঠবদ্ধতা। বার বার ইউরিনারি ট্রাকে ইনফেকশন হয় (ইউটিআই)। যোনিদ্বার বা ভ্যাজাইনাতে ইনফ্লামেশন হতে পারে।
ওভারিয়ান ক্যানসার প্রথমে তেমন ছড়ায় না। তার পর হঠাৎ করে তলপেটে জল জমতে শুরু করে। ফুসফুস ও বুকে জল জমে হয় প্লুরাল ইফিউশন। ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শরীরের ওজন কমে যায়। স্নায়ু বা হাড় পর্যন্ত ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে ব্যথা শুরু হয়।

লাম্প মানেই ক্যানসার নয়
 
ডিম্বাশয়ে কোনও ডেলা দেখা দেওয়া মানেই তা ক্যানসার নয়। এদের বেশির ভাগই বিনাইন হয়। আগে আমরা সিস্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। মেনোপজ হওয়ার পরও ওভারিতে সিস্ট হতে পারে। তবে বয়ঃসন্ধির আগে যদি ডিম্বাশয়ে টিউমার দেখা যায়, তবে তা বেশ উদ্বেগের। এ ক্ষেত্রে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে আগে ভাগেই দেখে নিতে হবে ব্যাপারটা আসলে কী। এদের অনেকেই জার্ম সেল টিউমার হতে পারে।
ওভারিয়ান ক্যানসার খুব কম মহিলারই হয়। কিন্তু যেহেতু ওভারিয়ান ক্যানসার অ্যাডভান্স স্টেজে গিয়ে ধরা পড়ে, তাই এতে মৃত্যুর হার খুব বেশি। আসলে যে সময় ধরা পড়ে, তত ক্ষণে রোগ অনেকখানি ছড়িয়ে পড়ে। করার কিছু থাকে না। তাই জেনে নিন কাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
 
পরিবারে ওভারিয়ান ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আগেভাগেই সতর্ক হবেন। 

অধিকাংশ স্তন ও ওভারিয়ান ক্যানসারের পেছনে রয়েছে বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিন। যে কারণে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কিছু দিন আগে মাসটেকটমি করে স্তন বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
 
দেখা গেছে অল্প বয়সে পিরিয়ড শুরু হলে বা অনেক বেশি বয়সে মেনোপজ হলে ওভারিয়ান ক্যানসারের প্রবণতা বেশি। 
জীবনে কখনও গর্ভধারণ করেননি এমন মহিলাদেরও ঝুঁকি বেশি।
 
এন্ডোমেট্রোসিসেও ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাবনা বেশি।

কী করে বুঝবেন
 
ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ার তিন মাস আগে চার ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।
 
কিছু মহিলা পেটের ব্যথায় ভোগেন।
 
কিছু মহিলার পেট ফুলে যায়।
 
কারও অন্ত্রে সমস্যা হয়।
 
খুব কম সংখ্যক মহিলার তলপেট বা পেলভিসে যন্ত্রণা দেখা দেয়।
এ ছাড়াও মনে হতে পারে অল্প খেলেই পেট ভরে যাচ্ছে। বা খাওয়ার ইচ্ছেটা একেবারেই চলে যায়।
এ রকম সমস্যা মাসে অন্তত দিন দশেক থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

কী ভাবে রোগ ধরা হয়
 
এখন ওভারিয়ান ক্যানসার নির্নয়ের জন্য ট্রান্স-ভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (টিভিএস) খুব কার্যকরী। ৯৬% ক্যানসার এতেই শনাক্ত করা যায়। কখনও বা ডপলার স্টাডিও করতে হতে পারে।
 
আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করলে ওভারিতে ডেলার মতো কিছু দেখতে পাওয়া যেতে পারে।
 
আল্ট্রাসাউন্ড করে ডপলারের সাহায্যে যদি দেখা যায় ওভারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যাচ্ছে, তবে সতর্ক হতে হবে।
 
দেখা হয় রক্তের সি এ ১২৫-এর মাত্রা কত। ক্যানসার হলে এর মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকখানি বেশি হবে।

কী করা হয়
 
অল্প বয়সী মহিলার ডিম্বাশয়ে ক্যানসারের সম্ভাবনা দেখা দিলে তার ওভাম বা ডিম্বাণুগুলো সংগ্রহ করে হিমায়িত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। পরে ক্যানসার সামলে উঠলে সেই ডিম্বানু দিয়েই সন্তানের চেষ্টা করা হয়। এ রকম বহু বার হয়েছে। অল্পবয়সী মেয়েদের ওভারিতে ক্যানসার হলে চেষ্টা করা হয় অন্য ওভারি বা ইউটেরাসটি বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু এটা তখনই সম্ভব যদি ক্যানসার ওভারির বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে। যাঁদের ফ্যামিলি কমপ্লিট হয়ে গেছে, বা বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ওভারি ও ইউটেরাস সবই বাদ দেওয়া হয়। এর সঙ্গে পেটের মধ্যের একটি পর্দা যাকে ওমেন্টাম বলে, সেটিও বাদ দিতে হয়। অপারেশনের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি এবং কখনও রেডিয়োথেরাপির প্রয়োজন হয়।
জেনে রাখুন
 
টিউবাল লাইগেশন হলে ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকি কম।
 
বেশি দিন স্তন্য দান করলে ওভারিয়ান ক্যানসারের প্রবণতা কমে।
 
ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল নিলেও ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।
 
প্রতিটি প্রেগন্যান্সিতে ১০% করে এর ঝুঁকি কমে। কিন্তু ৩ বারের বেশি প্রেগন্যান্সি হলে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রবণতা বাড়বে।

লজ্জা করবেন না?


কেগেল ব্যায়াম যেই নামেই বলুন না কেন এই ব্যায়াম পুরুষ - মহিলাদের উভয় লিঙ্গের জন্যই। আপনি হয়তো ভাবছেন শুধু মহিলাদের জন্য হয়। আসলে তা নয়। মহিলারা এই ব্যায়াম থেকে যতটা সুবিধা লাভ করতে পারেন, পুরুষরাও ঠিক ততটা সুবিধা নিতে পারবেন। 

কেগেল ব্যায়াম শ্রোণী মেঝের পেশী সুসংগঠিক করে মূত্রসংবহনতন্ত্র, বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথের কার্যপ্রণালী জোরদার করে এবং যৌনক্রিয়া ক্ষমতাকে উন্নিত করতে পারে। মহিলাদের মত পুরুষেরাও যখন তখন এই ব্যায়াম করতে পারেন। কিন্তু সবারই উচিত ব্যায়ামটি করার আগে সঠিক মাংশপেশী সনাক্তকরণ এবং সঠিক পন্থা জেনে নেয়া। 


কেজেল ব্যায়াম পুরুষদের পেলভিস ফ্লোরের মাসল শক্তিশালী করে যখন তখন প্রস্রাবের বেগ, ঠিক মতো প্রস্রাব না হওয়া সহ আরো অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়াম যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা, অকাল বীর্যপাত, দ্রুত বীর্যপাতের মত সমস্যারও সমাধান দিতে পারে।পুরুষেরা কিভাবে কেজেল ব্যায়াম করবেন পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী খুঁজে বার করা এবং সেটা কিভাবে সংকুচন/প্রসারন করবেন- সেটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব কিছু নয়। ব্যায়ামের আগে ঠিকমতো প্রস্রাব করে নেবেন। প্রথম দিকে উচিত হবে মেঝেতে শুয়ে এই ব্যায়াম করা। মেঝেতে শুয়ে পেলভিস ফ্লোর মাসল ৩ সেকেণ্ড সংকুচন করে রাখুন, তারপর ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ করে রাখুন। এভাবে টানা কয়েকবার করবেন। তবে খুব বেশী না। 

মাসল ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে শুরু করলে বসে, দাঁড়িয়ে বা চলন্ত অবস্থায়ও করতে পারবেন। অনেকেই ভুল করে পেটের বা তলপেটের, উরু, এবং নিতম্বের পেশী সংকুচন করে ফেলেন। এটা ঠিক নয়। দম বন্ধ বা ধরে রাখবেন না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।তলপেটে চাপ পড়ে এমন কিছু কাজকর্মের সময়ও (যেমন হাঁচি, কাশি, হাসা, ভারী বস্তু উত্তোলন) আপনার পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন হতে পারে। এছাড়া যৌনমিলনের সময় পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করে লিঙ্গ আরো অধিকক্ষণ উত্থিত রাখতে পারেন বা অকাল বীর্যপাত রোধ করতে পারেন। সমস্যা হলে- ব্যায়াম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে সাহায্য চাইলে কার্পণ্য বা লজ্জা করবেন না। নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন যাতে তারা আপনাকে সঠিক পেশী সনাক্তকরণ এবং ব্যায়ামের পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন।

সেকেন্ড ইনিংস


মেয়েদের জীবনে অন্যতম মাইলফলক মেনোপজ। যে সময় থেকে রিপ্রোডাকটিভ কাজকর্ম বন্ধ হয়ে আসে। ধীরে ধীরে পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে এসে তার পর একদম বন্ধ হয়ে যায়। সেটাই মেনোপজ।

শেষ পিরিয়ডকে সূচক ধরে মনে করা হয়, ওভারি বা ডিম্বাশয় কর্মক্ষমতা হারল। এর পর থেকে আর ওভ্যুলেশন হবে না। সেক্স হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের উৎপাদনও কমবে। অনেকরই মেনোপজের আগে থেকেই শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার হেরফের হয়। তবে মেনোপজে পৌঁছনোর আগেই ১৫-২০% মহিলার হিস্টেকটমি বা জরায়ু বাদ দেওয়ার অপারেশন হয়ে যায়। তাঁরা জীবনে কবে মেনোপজ এল তা টের পান না। তবে মেনোপজের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্য অন্য কথা।

মেনোপজের উপসর্গ
 
ক্লান্ত লাগা, হঠাৎ গরম লাগা বা রাতে ঘেমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এ সবই মেনোপজের উপসর্গ। অনেকে মেনোপজের কথা না ভেবে এগুলোকে শারীরিক বা মানসিক অসুখের লক্ষণ হিসেবেই দেখেন। এ জন্য হিস্টেকটমির পর বছরে এক বার এফএসএইচ হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ। মেনোপজের আগে এই হরমোনটির মাত্রা খুব বেড়ে যায়। হরমোনের মাত্রা দেখে বোঝা যায় মেনোপজ এগিয়ে আসছে কি না।


মেনোপজ আদৌ হল কি
 
এটি বুঝতে পরবর্তী ১২ মাস পিরিয়ড হল কি না তার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে হয়। পঞ্চাশ পেরনো মহিলার যদি তিন মাস ব্লিডিং না হয় তবে মেনোপজ হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। তবে ছয় মাস বন্ধ থাকার পরও পিরিয়ড ও প্রিম্যানস্ট্রুয়াল সিম্পটম ফিরে আসতেও দেখেছি। আসলে ওভারির কাজ কমার পর পিট্যুইটারি আপ্রাণ চেষ্টা করে ওভারিকে জাগানোর। রক্তের এফএসএইচ হরমোনের মাত্রা বাড়তে বাড়তে ৪০ মিলি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ছাড়িয়ে যায়। মেনোপজে পৌঁছনোর গড় বয়স ৫০-৫১ বছর। যদিও বর্তমানে জীবনযাত্রার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অনেক মহিলাই ৫৫-তে গিয়ে মেনোপজ হয়। মাত্র ১ শতাংশ মহিলার ৪০-এর আগেই মেনোপজ হয়ে যায়। যাকে আমরা মনে করি প্রিম্যাচাওরড ওভারিয়ান ফেলিওরড।

কবে হবে মেনোপজ
 
অনেক ক্ষেত্রেই এটি পারিবারিক ধারার ওপর নির্ভরশীল। মা বা দিদির কম বয়সে মেনোপজ হলে আপনারও কম বয়সে হতে পারে। কত বার গর্ভধারণ করেছেন, বিবাহিত না অবিবাহিত, ওজন বা উচ্চতা এগুলি ঠিক করে না মেনোপজ কবে হবে। তবে ধূমপান, ওভারিতে অস্ত্রোপাচার বা ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির দিলে ওভারি তাড়াতাড়ি কাজকম্ম গুটিয়ে ফেলে। মেনোপজ তরান্বিত হয়।


 মেনোপজ ও আপনি
 
পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাকে এক এক জন এক এক ভাবে দেখেন। সেটা নির্ভর করে কে কোন সমাজে বাস করেন তার ওপর। এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হল মহিলার ব্যক্তিত্ব, জীবন সম্বন্ধে ধারণা ইত্যদি। আমাদের দেশে মেনোপজকে বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। ভাবটা এ রকম, যাক বাবা ঝক্কি-ঝামেলার অবসান হল। অবাঞ্ছিত প্রেগন্যান্সির ভয় আর থাকল না। পিরিয়ড থাকায় যে কোনও আচার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারার ঝামেলা থেকেও মুক্ত হলাম।

সবার ক্ষেত্রে ছবিটা কিন্তু এ রকম নয়। যাঁরা পশ্চিমী ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী, তাঁরা পিরিয়ড বন্ধ হওয়াকে সহজ ভাবে নিতে পারেন না। তাঁদের কাছে মেনোপজ মানেই সৌন্দর্যের দফারফা। নারীত্ব কমল। সব থেকে বড় কথা হল বিপরীত লিঙ্গের মানুষের কাছে আকর্ষণ কমল। অনেকে এমনও ভাবেন যে প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে গেল চিরতরে।

এই ভাবনা থেকে আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে। অবসাদ ঘিরে ধরে। এক জন মহিলার মেনোপজ সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর পরও তাঁর জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় পড়ে আছে। পোস্ট মেনোপজাল সিম্পটম সামলে বাকি দিনগুলি কীভাবে যাপন করবেন, তার ওপরও এই ভাবনার প্রভাব রয়েছে।
মেনোপজই শেষ কথা নয়
 
মেনোপজ মানেই সম্পূর্ণ শাট ডাউন নয়। মেনোপজের পর ওভারি থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ হলেও হুট করে সব হরমোন নিঃসরণ থেমে যায় না। স্বল্প মাত্রায় হলেও ইস্ট্রোজেন এর পর বহু বছর তৈরি হতে থাকে। তাছাড়া টেস্টোস্টেরন নারীর শরীরে ফ্যাটের সান্নিধ্যে টেস্টেস্টেরন ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত হতে থাকে। খুব মোটাসোটা মহিলাদের ইস্ট্রোজেন লেভেল বেশি থাকায় হঠাৎ করে মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরও ব্লিডিং হতে পারে। মেনোপজ হওয়ার পর সব মহিলাই কিন্তু সমস্যায় ভোগেন না। ১০০ জনের মধ্যে ১৫ জনের হট ফ্লাশ, গরমলাগা, নাইট সোয়েট, খিটখিটে মেজাজ দেখা যায়। বুক ধড়ফড়, উদ্বিগ্নতা, ব্রেস্টে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা, কোমরে ও পায়ে ব্যথা, ইউরিনের ইনফেকশন, ভ্যাজাইনা শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। তা ছাড়া বহু বছর হরমোন বন্ধ থাকলে অস্টিয়োপোরেসিসের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে আগে দেখে নিতে হয় অন্য কোনও কারণে এই সব হচ্ছে কি না। যদি হরমোন ঘাটতিই এক মাত্র কারণ হয়, তবে হরমোন দিয়ে তাঁর চিকিৎসা করতে হয়।

গনসাবান দিয়ে হাত ধোয়া থেকে সাবধান!


হয়তো দুপুর কিংবা রাতের খাবারটা আজ রেস্তোরাঁতেই সারতে হবে আপনার। আর তাই পছন্দসই কোনো একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে কোনো একটা খাবারের অর্ডার দিয়ে প্রথমেই আপনি লেগে গেলেন হাত পরিষ্কার করতে। একইভাবে রেস্তোরাঁর কলের পাশে রাখা সাবানটির সাথে আপনার পুনরায় দেখা হলো খাবার পরেও।কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোজো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের হাত পরিষ্কারক তরল প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠান ও খ্যাতনামা অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যে তথ্য আবিষ্কার করেছেন তাতে করে জেনে বুঝে ভবিষ্যতে এমনটা আর করা উচিত হবে কি না তা ভাববার বিষয়।

ঢালাওভাবে সব রেস্তোরাঁকে দায়ী না করলেও অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বা শৌচাগারে সাধারণ মানুষের ব্যবহার করা এসব সাবানে যে টয়লেটের পানির চাইতেই বেশি জীবাণু থাকতে পারে সেকথা বেশ স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন এই গবেষকরা।

তাদের দাবি, এ ধরনের বহু মানুষের ব্যবহার করা সাবানে হাতের জীবাণু দূর তো হয়ই না, বরং উল্টো হাত ধোওয়ার পর হাতে জীবাণুর উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। এমনকি এ ধরনের সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার আগে ও পরে হাতে উপস্থিত গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ শতকরা ২৫ ভাগ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।

আলোচিত এই গবেষণার জন্য গোজো ইন্ডাস্ট্রিজের স্বেচ্ছাসেবক ও গবেষকরা আমেরিকার পাঁচটি শহর আটলান্টা, ডালাস, বোস্টন, লস অ্যাঞ্জেলস ও কলম্বাস, ওহিও’র পাবলিক রেস্টরুম থেকে ৫০০’র মতো সাবানের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো অনুজীব গবেষকদের কাছে হস্তান্তর করেন। আর সাবানের নমুনাগুলো দীর্ঘ সময় নিয়ে বিশ্লেষণের পরই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

এ প্রসঙ্গে আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের মাইক্রোবায়োলজির প্রফেসর চার্লস পি গারবা বলেন, ‘যে সাবানগুলো আমরা পরীক্ষা করেছি তার কোনো কোনোটিতে সত্যিকার অর্থেই আমরা এতবেশি জীবানুর উপস্থিতি দেখেছি যে এর চেয়ে টয়লেট ফ্লাশ করার পরের পানিতেও কম জীবাণু থাকে।’

এদিকে এই গবেষণার পর থেকে মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করতে এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, পাবলিক রেস্টরুম ও প্রতিষ্ঠানে গণসাবান ব্যবহারের পরিবর্তে অনেকের হাত লাগে না এমন সাবানের ডিসপেন্সারের ব্যবহার বাড়াতে প্রচারণা চালাচ্ছে গোজো ইন্ডাস্ট্রিজ।


মেয়েদের একটি বিশেষ সমস্যা


ডা. ওয়ানাইজা : মহিলাদের স্তনে চাকা বা গোটা হওয়া অথবা গোটা ভাব অনুভূত হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এসব গোটার বেশির ভাগই ক্ষতিকর কিছু নয় অর্থাত্ এগুলো ক্যান্সার নয়। মাসিকের আগে স্তনে কিছু পরিবর্ধন হয়। স্তনের টিস্যু বিভিন্ন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়।ফলে স্তনে চাকা অথবা গোটা ভাব বা ব্যথাও অনুভব হতে পারে। নিজেদের স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো মহিলাদের সবারই জানা প্রয়োজন। তাহলে অস্বাভাবিক কিছু হলে সহজে বোঝা যাবে। মাসিকের আগে সাধারণত স্তনে ব্যথা ও চাকা ভাব মনে হতে পারে। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়। ডাক্তার আপনাকে পরীক্ষা করে দেখে প্রয়োজন হলে আরো কিছু পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন। স্তনে সাধারণত যেসব পরীক্ষা করা হয় সেগুলো হলো-
 
ম্যামোগ্রাম : ম্যামোগ্রাম স্তনের এক্সরে। ৩০ বছরের বেশি বয়সে ম্যামোগ্রাম সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কারণ এ বয়সে স্তনের টিস্যু কম গ্লান্ডুলার থাকে এবং এক্সরের ছবি ভালো আসে।
 
ফাইন নিডেল এসপিরেশন সাইটোলজি: একটি সূক্ষ্ম সুচ দিয়ে স্তনের গোটা থেকে কিছু কোষ সরিয়ে নিয়ে তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষা করতে সাধারণত খুব একটা কষ্ট হয় না।
 
আলট্রাসাউন্ড: শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে এ পরীক্ষা করা হয়। ছোট মাইক্রোফোনজাতীয় যন্ত্র স্তনের ওপর ধরা হয়। স্তনের গোটা বা চাকা ভাব এ পরীক্ষায় ধরা পড়ে। সব বয়সের মহিলাদের জন্য এ পরীক্ষা খুবই কার্যকর। এগুলোর সাথে রোগীকে পরীক্ষা করে ডাক্তার নিশ্চিত হন যে স্তনে গোটা বা চাকা ভাব হয়েছে কি না। এ পার্থক্যটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাইব্রোএডেনোমা ও সিস্ট এ দ’টি সব চেয়ে সাধারণ ক্ষতিকর নয় এমন গোটা।
 

ফাইব্রোএডেনোমা : ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ফাইব্রোএডেনোমা হয়। স্তনে একটি শক্ত চাকা যা চাপ দিলে বেশ সহজে নড়াচড়া করে। আকৃতিতে বাড়তে অথবা কমতে পারে, সময়ে চাকাটা মিলিয়েও যেতে পারে। পরীক্ষা করে ফাইব্রোএডেনোমা নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে অপারেশন না করালেও চলে। তবে রোগী যদি ৩০ বছরের বেশি বয়সী হন আর ফাইব্রোএডেনোমা নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে অপারেশন করে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়। অজ্ঞান করে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে গুটিটা সরিয়ে ফেলা হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু একটা ছোট্ট কাটা দাগ থাকে, যা আস্তে আস্তে পরে মিলিয়ে যায়। অনেক সময় স্তনের অন্য জায়গায় ফাইব্রোএডেনোমা নতুন করে আবারো হতে পারে।
 
সিস্ট: স্তনের সিস্ট একটি তরল পদার্থে ভরা থলি। হঠাত্ করে সিস্ট হলে ব্যথা হতে পারে। ৩০-৫০ বছর বয়সে সাধারণ এগুলো হয়। সিস্টের চিকিত্সাও খুব সহজ। একটি ছোট সুচ দিয়ে চাকা থেকে পানিটা বা তরল পদার্থটা বের করে ফেলা হয়। কোনো জটিলতা না থাকলে চাকাটা সম্পূর্ণরূপে চলে যায়। যেসব মহিলার সিস্ট হয় তাদের পরেও স্তনের বিভিন্ন জায়গায় সিস্ট হতে পারে। অনেক সময় এসব সিস্ট অপারেশন করে সরানো হয়। ওষুধ দিয়েও কোনো সময় চিকিৎসা করা প্রয়োজন হতে পারে। ফাইব্রোএডেনোমা ও সিস্ট ক্যান্সার নয় এবং এগুলো হলে ক্যান্সারের সম্ভাবনাকে বাড়ায় না। মহিলাদের নিজেদের স্তন সম্পর্কে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে, যাতে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। সব স্তনের গুটি পরীক্ষা করা আবশ্যক। ৯০ শতাংশ গুটি ক্ষতিকর নয়। সময়মতো ধরা পড়লে ছোট অপারেশন দিয়ে এর চিকিত্সা হতে পারে এবং তাতে আপনার জীবন রক্ষা পেতে পারে।

যখন জুতোতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি!

কেবল ফ্যাশনে নয়, জুতো আসলে জীবনের একটা অপরিহার্য উপাদান। জুতো ছাড়া একটি দিন কল্পনা করা যায়? একেবারেই না! কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছন কি, এই জুতো জোড়াও হতে পারে আপনার স্বাস্থ্য হানির কারণ? হ্যাঁ, একদম ঠিক শুনেছেন। যদি সঠিক উচ্চতা বা ধরনের জুতো পরা না হয়, তাহলে তা হতে পারে আপনার জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য হুমকি। কি করে? আসুন জেনে নেই!

হাই হিলের বিপদ-

ফ্যাশনপ্রিয় নারীরা তাদের সাজসজ্জার এক অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বেছে নিয়ে থাকেন হিল জুতোকে। নানান রকম হিল মেলে বাজারে। পেন্সিল হিল থেকে শুরু করে প্ল্যাটফর্ম হিল, সেমি হিল আরও কত কি! আর নারীরা ভীষণ শখ করে কিনে থাকেন এগুলো। এমনকি রীতিমত চর্চা করে শিখে থাকেন হিল পরিধান করে হাঁটার পদ্ধতি।
কিন্তু একটু ভাবুন তো, হাই হিল পরিধান কি সত্যি আপনার সৌন্দর্য বাড়ায়? যে বস্তু আপনার স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে দারায় অপরিহার্য ভাবে, সেটা কি কি করে আপনার জন্য ভালো হতে পারে? শুধু স্বাস্থ্যহানি বললে অনেকটাই কম বলা হয়, উঁচু হিলের জুতো পরার কারণে ভয়াবহ সব শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হবেন আপনি।
প্রতিনিয়ত হাই-হিলের ব্যবহার শিরদাঁড়ার অসুখ ছাড়াও বাড়িয়ে দেয় অস্থিসন্ধির ক্ষয়ের সম্ভাবনা। দীর্ঘস্থায়ী পিঠব্যথা বা আরথ্রাইটিসের জন্যও দায়ী উঁচু হিলের ব্যবহার। চলতি পথে হিলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায় অনেকটাই। দুই ইঞ্চি উচ্চতার হিল পায়ের গোড়ালিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ফ্ল্যাট স্যান্ডেলেও-

ভাবছেন কেবল হাই হিলেই স্বাস্থ্যহানি হয়? তাহলে আপনার এই ধারনা একদম ভুল। স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি থেকে যায় একদম ফ্ল্যাট জুতোতেও!হাই-হিল যেমন পিঠ বা শিরদাঁড়ার ব্যথা সৃষ্টি করে, তেমনি গোড়ালির অসহ্য ব্যথার জন্য দায়ী চটিজুতা। আপাতদৃষ্টিতে আরামদায়ক হলেও একাধারে চটিজুতা ব্যবহার করতে থাকলে প্রথম অবস্থায় গোড়ালি ব্যথা, খুব শিগগিরই পরিণত হয় শিরদাঁড়ার ব্যথায়। একনাগাড়ে ফ্ল্যাট জুতা না পরে মাঝে মাঝে সামান্য হিলযুক্ত জুতা পরুন।

তাহলে কেমন উচ্চতার জুতো?

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র বায়োমেডিক্যাল ল্যাবরেটরির এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, এক জন মানুষ গড়ে দিনে ৬০ হাজার থেকে ১ লক্ষ বার পা ফেলে থাকেন। কেউ যদি ৭০ বছর বাঁচেন, তা হলে তাঁর পা ফেলার সংখ্যা অনুমান করা যাচ্ছে সহজেই। স্বভাবতই এত বার পা ফেলার পরে তা সুস্থ রাখতে ঠিক জুতো পরার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী গোড়ালি, হাঁটু ও কোমর ঠিক রাখতে পাম্প শু বা ব্যাকস্ট্র্যাপ দেওয়া কম হিলের জুতো সবচেয়ে ভাল। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য হিলের উচ্চতা দেড় ইঞ্চির বেশি হওয়া উচিত নয় কখনোই। আর স্টিলেটো বা চিকন হিলের বদলে চৌকো বা ওয়েজ হিল স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছুটা হলেও কম করতে সাহায্য করে।

স্যানিটারী ন্যাপকিন ব্যবহারে যে ৮টি মারাত্মক ভুল করে থাকেন নারীরা!


পিরিয়ডের সময়টুকুতে আজকাল সব নারীই নানা ব্র্যান্ডের পছন্দমত ও সুবিধামত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এটি যথেষ্ট আরামদায়ক ও আপনাকে যেকোন পরিবেশে রাখে স্বচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ। কিন্তু হয়তো আপনি নিজের অজান্তেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সময় কিছু ভুল করে থাকেন। যেগুলো আপনার জন্যে বয়ে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চুলকানি, র‍্যাশ, ত্বকের নানান রকম অসুখ থেকে শুরু করে হতে পারে ক্যান্সার পর্যন্ত। ভয়াল এই রোগ গুলো হতে মুক্তি পেতে একমাত্র উপায় সচেতনতা ও সাবধানতা।

তাই, আপনার জন্যে রইল এমন কিছু বিষয়ের ব্যাপারে সতর্কবার্তা, যে ভুলগুলো একটু চেষ্টা করলেই এড়িয়ে যেতে পারেন আপনি।

১) ন্যাপকিন ধরার আগে হাত না ধোয়াঃ

ন্যাপকিন ধরার আগে সাধারনত হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক নারীই অনুধাবন করেন না। কিন্তু হাত না ধুয়ে ন্যাপকিন ধরার কারনে হাতে লেগে থাকা নানা ধরনের জীবানু প্যাডে লেগে যায় এবং সেখান থেকে জরায়ুতেও প্রবেশ করতে পারে।

২) বাথরুমে স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখাঃবাথরুমে/টয়লেটে স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখার ফলে হয়তো প্রয়োজনের সময় সেটি আপনার ৫ মিনিট সময় বাঁচায়। কিন্তু টয়লেটে থাকা নানা ধরনের জীবাণু দ্বারাও সেটি দ্রুত আক্রান্ত হয়। আর আপনি সেই জীবানুযুক্ত প্যাড ব্যবহারের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মাঝে পড়ে যান সহজেই।

৩) মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ খেয়াল না করাঃ

মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ খেয়াল না করার ফলে এটির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে এবং আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।

৪) ছাড়ের সময় পণ্য কেনাঃ

ছাড়ের সময় সাধারনত সেই পণ্যগুলোই বিক্রি করা হয় যেগুলো অনেক দিন ধরে মজুদ আছে, কোন ত্রুটির কারনে বিক্রি করা যায়নি, খারাপ মানসম্পন্ন বা মেয়াদোত্তীর্ন। তাই স্বাস্থ্যের জন্যে সংবেদনশীল একটি পণ্যের ব্যাপারে এই ঝুঁকি নেবেন না।

 

৫) নতুন ব্র্যান্ডের কমদামী বা ফ্রী ন্যাপকিন ব্যবহারঃ

কমদামী বা নতুন ব্র্যান্ডের অন্য কোন পণ্যের সাথে ফ্রী পাওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিনটি ব্যবহারের আগে ২ বার ভাবুন। কতটা সস্তা কাঁচামাল ব্যবহারের কারণে তারা এটি এতো সস্তায় আপনার হাতে তুলে দিতে পারছে এবং সেটি ব্যবহার আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কিনা!

৬) সুগন্ধীযুক্ত বা ঔষধযুক্ত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারঃ

সুগন্ধীযুক্ত, ঔষধযুক্ত বা রঙ্গিন প্যাড ব্যবহার করতে আপনার ভালো লাগতে পারে। কিন্তু এতে যে কেমিকেল ব্যবহার করা হয়, তা আপনার জন্যে মারাত্বক ক্ষতিকর হতে পারে। এ থেকে ক্যান্সারও হতে পারে।

৭) একটি ন্যাপকিন সারাদিন ধরে ব্যবহারঃ

উচ্চ শোষনক্ষমতা সম্পন্ন ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন বা আপনার রক্তপাত কম হচ্ছে বলেই সারাদিন ধরে একটি প্যাড পরে থাকবেন না। রক্ত বেশীক্ষন জমে থাকার ফলে সেখানে জীবাণু জন্ম নেয় ও আপনি সেটি দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হবেন।

 ৮) ন্যাপকিন বদলানোর সময় অসতর্কতাঃ

আগের ন্যাপকিনটি বদলে যখন নতুন ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন, তখন তার আগে ভালোভাবে হাত ও ওই স্থানটি পরিস্কার করে ধুয়ে ও মুছে নিন। প্রয়োজনে জীবানুনাশক ব্যবহার করুন।তারপর নতুন ন্যাপকিনটি পরে নিন।

উপরের ভুল আচরণ গুলো সম্পর্কে সচেতন হোন। জীবন হোক স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্বাস্থ্যকর!

ভয়াল অসুখ স্তন ক্যান্সার

ক্যানসার- একটি দূরারোগ্য ব্যাধি হিসেবেই পরিচিত। দুঃখের হলেও সত্যি যে, ক্যানসার রোগীর হার ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষত ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসারের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু একটু আগাম সচেতনতা আর সময়মতো চিকিত্‍সা করাতে পারলে স্তন ক্যানসারকে প্রতিহত করা সম্ভব। তাই নিজের শরীর এবং এই বিশেষ অঙ্গটির যত্ন নিতে শুরু করা উচিত আগে থেকেই। 

কেন হয় :

স্তন ক্যানসার আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা। প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তাঁদের জীবনযাপনের ধরনকে এই রোগের জন্য দায়ী ভাবা হচ্ছে। এছাড়াও মেয়েদের ৩০ বছরের পরে বিয়ে হওয়া, স্বেচ্ছায় মা না হওয়া, মা হলেও সন্তানকে স্তন্যদান না করা ইত্যাদি কারণও দায়ী মনে করা হয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন যেমন অত্যধিক ধূমপান করা, অ্যালকোহল গ্রহণ করা, ফাস্টফুড খেয়ে বেঁচে থাকা, এমনকি বসে বসে কাজ করাও কিন্তু স্তন ক্যানসারের জন্য সমানভাবে দায়ী।
স্তন ক্যানসারের ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে বংশগত কারণ দায়ী। মা-নানী-দাদীর যদি স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকে তাহলে পরিবারের পরের প্রজন্মের মধ্যে এটি সঞ্চারিত হবার সম্ভাবনা থাকে। আরও ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারে কারণ এখনো অজানা। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে আজকাল জীবনযাত্রার কারণ এই বয়সসীমা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এখন ১৫ থেকে ৪০ বছরের কম বয়সী নারীরাও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

লক্ষণ :

*স্তনের আকার পরিবর্তন হয়ে যাওয়া।
*স্তনের চামড়া বা নিপল কুঁচকে যাওয়া।
*নিপল থেকে কষ, পুঁজ বা রক্তক্ষরণ।
*স্তনে গোটা বা চাকা অনুভব করা। এতে ব্যথা হতে পারে আবার নাও হতে পারে।
*চাকা বা গোটা বগলে বা স্তনের পাশেও দেখা দিতে পারে।

চিকিত্‍সা :

কোনো কারণে আমাদের শরীরের কোনো কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হয়, তাহলে তা অসমভাবে বাড়তে থাকে। এর থেকে অসংখ্য কোষা উত্‍পন্ন হয়ে তৈরি হয় টিউমার। টিউমার দু ধরনের হয়। একটি বিনাইন, যা ছড়িয়ে পড়ে না, একই জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যটি ম্যালিগন্যান্ট, যা ক্যানসারের কোষ। ক্যানসারাস কোষগুলি দ্রুত বিভাজিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই দু ধরনের টিউমারই স্তনে হতে পারে।
স্তন ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। ক্যানসার যদি প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ে তাহলে অপারেশনের পরে কোমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা হরমোনাল থেরাপি করা হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে প্রথমে কেমোথেরাপি দেয়া হয়, পরে অপারেশন করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে অপারেশনের কোনো সুযোগ থাকে না। এক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।
অনেকেরই মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে যে, স্তন অপারেশনের পর আবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব কি না? অবশ্যই সম্ভব! আর স্বাভাবিক পাঁচজন নারীর মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন তো বটেই, বছর দুয়েক পর মা-ও হতে পারবেন।

মানসিক জোর :

স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটি হলো আপনার মনের জোর। স্তন ক্যানসারকে মোকাবিলা করতে শারীরিক শক্তির চেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের জোরের। কারণ এটি অভাব হলে কোনোভাবেই ক্যানসারকে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করুন। করতে পারেন যোগাসন। এটা আপনার মনকে শান্ত করতে সাহায্য করবে। আশেপাশে প্রিয়জনের উপস্থিতি আপনাকে দেবে সাহস ও লড়াই করার প্রেরণা।

খাবারদাবার :

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার হলো ক্যানসার প্রতিরোধের একটি অনন্য উপায়। স্তনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। ব্রকোলি, ফুলকপি, চাইনিজ ক্যাবেজ ইত্যাদি স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আমিষসমৃদ্ধ খাবার পেশি দৃঢ় করতে সাহায্য করে। এছাড়া শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান কোলাজেনও আমিষে থাকে। আঁশসমৃদ্ধ খাবার শরীরের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমিয়ে আনে। প্রতিদিন অন্তত তিন ধরনের ফল খান। কারণ ফলে থাকা ফাইটোক্যামিকালস ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে কম ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার খান। চর্বিজাতীয় ও মসলাদার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

যাঁরা স্তন ক্যানসারে ভুগছেন তাঁদের জন্য ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার, কমলালেবু, মালটা, আঙুর, ভিটামিন সি যুক্ত ফল, পাকা আম, হলুদ, রসুন ইত্যাদি খুবই উপকারী। রঙিন সবজি যেমন কুমড়া, গাজর, বরবটি, শিম, লাউ খাবেন। কমলা এবং হলুদ রঙের খাবারে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা সুডৌল, সুন্দর স্তন গঠন করতে সহায়ক।

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা। নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ, শরীরচর্চা সব ধরনের ক্যানসার থেকে আপনাকে রাখবে দূরে।

গর্ভবতী নারীর জন্য

একজন সাধারণ নারীর সাথে একজন গর্ভবতী নারীর খাদ্যতালিকায় থাকে ব্যাপক পার্থক্য। এতদিন যা খেয়েছেন, গর্ভধারণের পর তাতে শরীরের চাহিদা নাও মিটতে পারে। কেননা স্বাভাবিক অবস্থায় আপনার পুষ্টির যা চাহিদা, গর্ভাবস্থায় সেটা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আপনার সন্তান যাকে আপনি গর্ভে বড় করে তুলছেন, কেবল তার যথাযথ শারীরিক বৃদ্ধি অথবা ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্যই সুষম খাদ্য জরুরি নয়, গর্ভকালীন অপুষ্টি এমনকি অতিপুষ্টি সন্তানের ভবিষ্যতকেও করে তুলতে পারে অনিশ্চিত ও রোগগ্রস্ত। তাছাড়া শুধু খাবার নয়, গর্ভবতী নারীর নিরাপত্তার জন্য তার পরিবারেরও সার্বক্ষণিক সচেতনতা অনেক জরুরি, তাঁকে সাহস জোগান এবং চিকিৎসা করানোও এর আওতাধীন।

খাদ্যাভ্যাসঃ

কেমন হবে আপনার ডায়েট?
  • মোটামুটি সব ধরনের খাবার মিলিয়ে খান।
  • প্রচুর পরিমাণে ফল এবং সবজি খান, এতে ফাইবারের পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন এবং মিনারেলস যাদেরকে রক্ষাকারী খাদ্য উপাদান বলা হয়।
  • শস্যজাতীয় খাবার (যেমন চাল, যব, গম, ভুট্টা) ও এদের থেকে তৈরি করা খাবার খান (রুটি, পাস্তা, কর্ণফ্লেক্স)।
  • দিনে অন্তত একটা ফল এমন খান যা ভিটামিন সি এর উৎস, ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় তাই বেশি খেলেও ক্ষতি নেই। (টক ফল, সাথে স্ট্রবেরি, কাঁচামরিচ, ব্রকলি)।
  • দিনে অন্তত একটা ফল বা সবজি খান ভিটামিন এ এর উৎস হিসেবে। (রঙিন ফল ও সবজি যেমন মিষ্টিকুমড়া, গাজর, মিষ্টি আলু)।
  • আয়রন এর উৎস হিসেবে কিছু খান (কাচকলা) এবং ফলিক এসিড এর জন্য খান সবুজ পাতার শাকগুলো।
  • দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া অত্যন্ত উপকারি, বলদায়ক এবং পুষ্টিকর। এতে ক্যালশিয়ামের অভাব পূরণ হবে। টকদই খেতে পারেন, এতে প্রচুর উপকারি পুষ্টি পাবেন।
  • প্রোটিনের মধ্যে অবশ্যই খান ছোট মাছ, বাচ্চা মুরগি। কয়েক রকম ডাল মিশিয়ে খান। ডিম, বাদাম, মটর, ছোলা এসব তো সবার জন্যই কম বেশি ভালো।
  • প্রচুর পানি খান, পানি ভালো না লাগলে ফলের শরবত, লেবুর শরবত, সবজির স্যুপ, মুরগির স্যুপ খান।

দুটোর মাঝে একটাঃ

  • পরোটা বা পাউরুটির বদলে আটারুটি নিন।
  • দুধ চায়ের বদলে লাল চা বা সবুজ চা নিন।
  • বাইরের খাবারের বদলে বাসার খাবার খান।
  • চিনির পরিবর্তে গুড় খান মাঝে মাঝে।
বাদ দেবেন কোনগুলো?
  • কলিজা এবং লাল মাংস (গরু, খাসি) বাদ দিন।
  • অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, ক্রিম, চকোলেট, তেল, চর্বি, মাখন, বিস্কুট, পিজা, বার্গার, তৈলাক্ত খাবার, চিপস, কেক, পুডিং, ফাস্ট ফুড এসব ছেড়ে দিন। খুব জরুরি না হলে, বাইরে খাবেন না।
  • কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস বাদ দেবেন।
  • প্রসেসড ফুড বাদ দিন, প্রাকৃতিক খাবার খান।
  • মদ্যপান এবং ধূমপান ত্যাগ করুন।

স্বাস্থ্যঃ

মানসিক স্বাস্থ্যঃ
হতাশা, নিরাশা, শোক, কষ্ট, দুঃখ সব ভুলে গিয়ে সবসময় উৎফুল্ল থাকুন, হাসিমুখে থাকুন। বিষণ্ণতা দূরে রাখুন। আর স্রষ্টাকে সবসময়ে স্মরণ করুন। সন্তান সম্পর্কে মনছবি দেখুন, ভাবুন আপনার সন্তান অনেক ভালো আর সুস্থ আছে। আপনি সুস্থ সন্তান জন্ম দেবেন। পজিটিভ চিন্তা রাখুন মাথায়।
ব্যায়ামঃ
হালকা কোয়ান্টাম ব্যায়াম করতে পারেন। এতে সন্তান ও মা ভালো থাকে, প্রসব সহজ হয়। নিয়মিত দু বেলা ধীরে ধীরে হাঁটুন। ভোরে উঠে সকালের খোলা পরিচ্ছন্ন বাতাসে লম্বা লম্বা শ্বাস নিন। সর্বদা শয্যাশায়ী হয়ে থাকবেন না, আপনি তো আর রোগী নন। স্বাভাবিক চলাফেরা করুন, সাবধানে নড়াচড়া করুন।
পরিচ্ছন্নতাঃ
১) রান্নার সময় পরিচ্ছন্নতা নিয়ম মেনে চলতে হবে।
২) পরিস্কার কাপড় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের ব্যবস্থা রাখুন।
৩) নারীকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে।
সতর্কতাঃ
  • যে কোন আঘাত থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করুন।
  • উঁচু হিলের জুতা, আঁটসাঁট পোশাক বাদ দিন।
  • বাথরুমে পা পিছলে যাওয়া এসময়কার পরিচিত ঘটনা, সুতরাং বাথরুম এবং ঘরবাড়ি শুকনো রাখুন।
  • হবু মায়ের প্রতি স্বামী এবন সম্পূর্ণ পরিবার সজাগ ও সহৃদয় থাকুন, মানসিকভাবে সাপোর্ট দিন।
  • নিয়মিত চেক আপ করাবেন।
  • সবগুলো টিকা দেবেন।
  • রক্তপরীক্ষা করাবেন এবং রক্তের ব্যবস্থাও করে রাখতে পারেন।
ওজন বৃদ্ধিঃ
গর্ভাবস্থায় ওজন বেড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামরশ করে খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন এনে ওজন সামান্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখুন এ কাজ করতে গিয়ে নিজের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির উপর কোন প্রভাব ফেলবেন না।

" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!