প্রথম পাতা |
ফটো স্টুডিও |
আমার প্রতিদিন |
অনুভুতি |
উপদেশ |
স্বাস্থ্য |
তোমাদের ছবি |
শাড়ীতেই নারী |
আজকের বার্ত |
তোমার রুপ |
বাবা তোমায় ছালাম |
কবিতা |
সাহিত্য |
ওই তরুণী দু’ পা বন্ধ করে রাখলেন না কেন?
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :’ওই তরুণী দু’ পা বন্ধ করে রাখলেন না কেন? তাহলেই তো আর তাঁকে ধর্ষিতা হত হত না’ | মন্তব্য এক ডিফেন্স ল-ইয়ারের | আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সেই আইনজীবী এই কদর্য মন্তব্য ছুঁড়ে দিলেন অভিযোগকারিণীর দিকে | ভারতে নয় | এই ঘটনা প্রথম বিশ্বের দেশ নিউজিল্যান্ডে |
ওয়েলিংটনের এক আদালতে চলছিল বিচার | হাজির কুড়ি বছরের তরুণী | তাঁর বক্তব্য, এক রাতে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন | তাঁর বন্ধুরা পার্টি করছিলেন ওয়েলিংটনের একটি নাইট ক্লাবে | এক বাউন্সারের কাছে তিনি বলেন, তাঁকে ওই নাইটক্লাবে পৌঁছে দিতে |
অভিযোগ, এর পরে ওই বাউন্সার তরুণীকে অন্ধকার গলিতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে | এই মামলার শুনানিতে ওই তরুণীকে একঘর লোকের সামনে এই অপমানকর মন্তব্য শুনতে হয় অভিযুক্ত বাউন্সারের আইনজীবীর কাছ থেকে |
ওই আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও ধর্ষণ নয় | এটা ছিল দু তরফের সম্মতিক্রমে যৌন সম্ভোগ | কারণ তরুণীর তরফ থেকে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি | এমনকী কোনও চিৎকার বা কান্নার শব্দও শোনা যায়নি | তারপরেই উচ্চারিত হয় তাঁর সেই অমোঘ উক্তি:’she should have closed her legs if she wanted to avoid having sex…’
এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় নিউজিল্যান্ড জুড়ে | তরুণীর আইনজীবীর পাল্টা দাবি, এটা কোনও রিয়েলিটি শো নয়, যে তরুণীকে চিৎকার করতে হবে | তাছাড়া একজন মদ্যপ অবস্থায় থাকলে তাঁর পক্ষে কতটা প্রতিরোধ করা সম্ভব সেটাও ভেবে দেখার বিষয় |
আসলে, নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনই হোক, বা ভারতের রাজধানীই হোক | আইনজীবী বা কোনও দেশের গোয়েন্দাপ্রধান | যে পেশাতেই থাকুন না কেন | পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তেই কিছু পুরুষের কাছে বোধহয় ধর্ষিতা হওয়াটা অপরাধ | ধর্ষণ করাটা নয় |
ভালো স্বামীর গুণাবলী
ভালো বউ হওয়ার জন্য কত চেষ্টা। নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন সবাই। কিন্তু বউও তো চাইবেন একজন ভালো স্বামী। নানা বয়সের বিবাহিত কয়েকজন নারী বলেছেন, ভালো স্বামী বলতে তাঁরা কী মনে করেন।
জেরিনা খানম, ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন
আমার দীর্ঘ সংসারজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, স্বামী-স্ত্রী দুজনের বয়সটা বাড়লেও প্রেমটা যেন ফুরিয়ে না যায়। একটা সময় আসে, সন্তানেরা যার যার কাজে ঘরের বাইরে চলে যায়। বৃদ্ধ বয়সে এসে স্ত্রী যেন কখনোই নিজেকে একা না ভাবতে পারেন, এ জন্য স্বামীকে সব সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে হবে। একসঙ্গে খেতে পারেন। একসঙ্গে সকাল কিংবা বিকেলে দুজনে হাঁটতে যেতে পারেন। ছোটখাটো যেকোনো বিষয়ে প্রসংশা করতে পারেন। স্ত্রীকে খুশি রাখার চেষ্টা করতে পারেন। স্ত্রীর বহু দিন আগের কোনো অপূরণীয় শখ পূরণ করতে পারেন।
ইসমাত আরা খানম, ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন
স্বামীমাত্রই পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল একজন মানুষ হবেন। স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, ভরণপোষণ ও চিকিৎসা—সবকিছুর প্রতি লক্ষ রাখবেন। স্ত্রীর প্রতি কোনো কঠিন দায়িত্ব একা ছেড়ে দেবেন না। সংসারে ঝগড়া-বিবাদ হতে পারে। তবে কোনো কিছু মনে না রেখে স্ত্রীকে নিয়ে একটি শান্তির সংসার গড়বেন। স্বামী বন্ধুর মতো স্ত্রীর পাশে থাকবেন। সব সময় সংসারের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখবেন।
ফাহমিদা ইয়াসমিন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সোনালী ব্যাংক
বিশ্বাস যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সংসারে তাই স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস থাকবে। বেশির ভাগ স্ত্রীই তাঁর স্বামীকে বিশ্বাস করেন। তাই স্বামীর দায়িত্ব হবে স্ত্রীর বিশ্বাস ধরে রাখা। স্ত্রীকে যেকোনো কিছুতে মানসিকভাবে সমর্থন দেবেন। সুখে-দুখে স্ত্রী যেন কখনোই নিজেকে একা ভাবতে না পারেন, স্বামীকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আয়েশা সিদ্দিকা, মনোবিজ্ঞানী
আমাকে যে বুঝবে, সে-ই তো আমার আপনজন। ভালো স্বামী তিনিই, যিনি আমাকে বুঝবেন। আমার ভালো দিকগুলোকে গ্রহণ করবেন। আর মন্দ দিক থাকলে আমাকে শুধরেও দেবেন। পাশাপাশি আমি তাঁকে শুধরে দিলেও তিনি ভালোভাবে নেবেন। সব সময় সব বিষয়ে আমার সঙ্গে মন খুলে কথা বলবেন।
জেসমিন আরা খানম, সংগীত শিক্ষক
স্ত্রীই সব সময় স্বামী-সন্তান-সংসারকে আগলে রাখেন। স্ত্রী ছাড়া সংসার অচল। একজন ভালো স্বামী তাই স্ত্রীর শরীর-মন ভালো আছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। স্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হবেন। কেবল অসুস্থতায় নয়, অন্য সময়েও স্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দের কথা বিবেচনা করবেন। স্ত্রীর ছোটখাটো শখগুলোকে পূরণের সুযোগ করে দেবেন।
নাজমা আক্তার, গৃহিণী
সংসারের শুরুর দিকের সময়টা যত মধুর হয়, পরবর্তী সময়ে ততটা মধুর থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে দায়িত্ব, বাড়ে সম্পর্কের জটিলতাও। দিনে দিনে জমা ছোট ছোট অভিমান মনে না রেখে স্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। স্ত্রীকেও আলোচনার সুযোগ করে দিতে হবে। কোনো বিষয়ে দুজন একমত না হলে সন্তানদের সামনে রাগারাগি না করা। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে নিজেরা আলোচনা করা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভয়ের না হয়ে যেন বন্ধুত্বপূর্ণ হয়। আমার মতে, ভালো স্বামীরা এমনটিই করবেন।
রোমানা আকতার, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দুই বছর হল আমার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর মেয়েদেরকে আপনজনদের ছেড়ে স্বামীর সংসারে আসে। ছেলেদের এটি করতে হয় না। তাই একজন ভালো স্বামী অবশ্যই এ সময়ে স্ত্রীর পাশে থাকবেন। স্ত্রীও এ সংসারের একজন আপন মানুষ, এ বিষয়টি স্ত্রীকে বোঝাতে হবে বিশ্বাসে ও ভরসায়। এ সংসার মেয়েটির জন্য নতুন হলেও ছেলেটির জন্য নয়, তাই নতুন সংসারে স্ত্রীকে সবকিছু বুঝিয়ে সবার কাছে প্রিয় পাত্রী করে তোলার দায়িত্ব স্বামীর।
ঢাকায় লিভ টুগেদার বাড়ছে
ঢাকায় লিভ টুগেদার বাড়ছে। মধ্যবিত্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা লিভ
টুগেদারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ কারণে বাড়ছে খুনের মতো অপরাধও। গ্রাম থেকে
আসা অনেক শিক্ষার্থীও ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ
টুগেদার করছে অনেকে। সমাজবিজ্ঞানীরাও স্বীকার করছেন পাশ্চাত্য দুনিয়ার ওই
ধারণা অনেকটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকায়। এ রকম এক জুটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই বিভাগে, একই ক্লাসে পড়তেন।
গভীর বন্ধুত্ব তখন থেকেই। দু’জনই মেধাবী। রেজাল্টও ভাল। বন্ধুটি এখন ঢাকার
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বান্ধবী পিএইচডি করছেন, এখনও শেষ
হয়নি। থাকছেন বনানী এলাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটটিও নিজেদের। লিভ
টুগেদার করছেন। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিয়ে করবেন না। দু’জনই চেষ্টা
করছেন ইউরোপের একটি দেশে যেতে। বিত্তবান ঘরের সন্তান তারা। বন্ধুটির বাড়ি
ছিল ফেনীতে, বান্ধবীর ঢাকায়।
শাহানা তার নতুন নাম। এ নামে কেবল জর্জই তাকে চেনে। জর্জকে ওই নামে অন্য কেউ চেনে না। এটা শাহানার দেয়া নাম। একে অপরকে দেয়া নতুন নামেই তাদের বাড়ি ভাড়া নেয়া উত্তরা এলাকায়। চাকরিজীবী দু’জনই। এক সময়ে চাকরি করতেন এই সংস্থায়। সেখান থেকে পরিচয় ঘনিষ্ঠতা। এখন তারা চাকরি করছেন পৃথক দু’টি বৈদেশিক সাহায্য সংস্থায়। উচ্চ বেতনে চাকরি। অফিসের গাড়ি। শাহানা ইংরেজি সাহিত্যে এমএ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জর্জ পড়াশোনা করেছেন ভারতের নৈনিতালে, বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। বছর পাঁচেক আগে ঢাকায় ফিরে চাকরি নিয়েছেন। লিভ টুগেদার করছেন। বিয়ের প্রতি আগ্রহ নেই তাদের। শাহানা ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাতে চান। সেখানে তার পরিবারের বেশির ভাগ লোক বসবাস করছে। শাহানার চিন্তা বিয়ে মানেই একটি সংসার, ছেলেমেয়ে, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি। এখনই এগুলোর কথা ভাবতে গেলে তার ক্যারিয়ার হোঁচট খাবে, বিদেশে যাওয়া না-ও হতে পারে। এ কথাগুলো সে খুলে বলেছে জর্জকে। জর্জ রাজি হওয়ায় এক সঙ্গে থাকছেন তারা চার বছর ধরে। খাওয়া-দাওয়ার খরচ দু’জনে মিলে বহন করেন। সব কিছুই হয় দু’জনে শেয়ার করে। মনোমালিন্য হয় না তা নয়, হয় আবার তা মিটেও যায়। এভাবেই চলছে চার বছর ধরে।
একটি মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছেন তারা। বসবাস করছেন ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে। ছেলেমেয়ে দুজনই ধনাঢ্য পরিবারের। দু’বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন। পড়শিরা জানে, স্বামী-স্ত্রী। অন্যদের সঙ্গে সেভাবেই নিজেদের পরিচয় দেন। যশোরের একটি গ্রাম থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন ওরা। পরিচয় তাদের স্কুল থেকে। ঢাকায় এসে প্রথম দু’বছর দু’জন থাকতেন আলাদা বাড়ি ভাড়া করে। এখন দু’জন মিলে থাকছেন একই বাসায়। ভাড়া দেন দু’জনে শেয়ার করে। গত এক বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। ঢাকার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলোর ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এমনকি সাধারণ কর্মচারীরা পর্যন্ত লিভ টুগেদার করছে। শোবিজে লিভ টুগেদার এখন সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জাতীয় ভাবে পরিচিত শোবিজের অনেক স্টার এখন লিভ টুগেদার করছেন। দেশব্যাপী পরিচিত দু’জন নৃত্যশিল্পীর লিভ টুগেদারের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট শোবিজে। একজন পরিচিত কণ্ঠশিল্পী গত পাঁচ বছর ধরে লিভ টুগেদারের পর আপাত বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এখন থাকছেন আলাদা। শোবিজের নাট্যাঙ্গনের চার জোড়া নতুন মুখ লিভ টুগেদার করছেন বছরখানেক ধরে। তাদের পরিচিত ও নিকটজনরা জানেন তাদের লিভ টুগেদার সম্পর্কে। নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তারা কেউ আপাতত বিয়ের কথা ভাবছেন না। শোবিজে ছেলেমেয়ে উভয়ের উচ্চাসনে যাওয়ার পথে বিয়েকে একটি বড় বাধা মনে করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত দুই তিন বছরের মধ্যে ঢাকায় লিভ টুগেদারেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে লিভ টুগেদারের বেশির ভাগ ছিল সমাজের উচ্চ স্তরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে। এখন লিভ টুগেদারের প্রবণতা বেড়েছে মধ্যবিত্ত সমাজে। সদ্য গ্রাম থেকে এসে ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছেলেমেয়েরা লিভ টুগেদার করছে। কেবলমাত্র পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে কিন্তু তাদের কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এমন অনেক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছে। ঢাকার একটি নামকরা মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, তার জানা মতে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম করে হলেও এক শ’ জোড়া ছেলেমেয়ে লিভ টুগেদার করছে। বিষয়টি তাদের কাছে ওপেন সিক্রেট হলেও কেউ কাউকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে না। ওই শিক্ষার্থী লিভ টুগেদারকে খারাপ কিছু মনে করেন না। তার ভাষায় দু’জনের মতের মিলেই তারা লিভ টুগেদার করে। এখানে অপরাধ কিছু নেই। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা লিভ টুগেদার করছেন। তাদের লিভ টুগেদারের কথা জানে তাদের অনেক ছাত্রও। ওই শিক্ষকদের একজন তার এক নিকটজনের কাছে বলেছেন, লিভ টুগেদারকে তিনি বরং গর্বের বিষয় মনে করেন।
ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন, বর্তমানে বসবাস করছেন গুলশান এলাকায়। চাকরি করেন একটি বিদেশী সাহায্য সংস্থায়। এর আগে তার কর্মস্থল ছিল পাপুয়া নিউগিনিতে। তিন বছর ধরে ঢাকায় আছেন। লিভ টুগেদার করছেন তারই এক সহকর্মী নারীর সঙ্গে। ওই ভদ্রলোক এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা দু’জনই বাংলাদেশী। তবে আমাদের কর্মক্ষেত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে পোস্টিং হয়। এখন বাংলাদেশে আছি, এক বছর পর অন্য কোথাও যেতে হতে পারে। সে কারণে আমরা দু’জনই ঠিক করেছি লিভ টুগেদার করতে। তাছাড়া, লিভ টুগেদারের ধারণা খারাপ নয়, আমরা কেউ কারও বোঝা নই, আইনি বন্ধনও নেই। কারও ভাল না লাগলে তিনি এক সঙ্গে না-ও থাকতে পারেন। এতে কোন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এ প্রবণতার কিছু কারণ জানা গেছে। তাদের মতে, যে সব মেয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করে, নিজেদেরকে ইউরোপ-আমেরিকা বা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা এখনই বিয়ে করে ছেলেমেয়ের ভার নিতে চায় না। সংসারের ঘানি টানতে চায় না। ওই সব মেয়ে নিজেদেরকে বিবাহিত বলে পরিচয় দিলে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করে। এমন অনেক ছেলেও আছে যারা ওই সব মেয়ের মতো ধারণা পোষণ করে না তারা কেবলমাত্র জৈবিক কারণে লিভ টুগেদার করছে। অর্থবিত্তে বা চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত এমন অনেকে লিভ টুগেদার করছে কেবলমাত্র সমাজে তার একজন সঙ্গীকে দেখানোর জন্য, নিজের একাকিত্ব ও জৈবিক তাড়নায়। অনেকে বিয়ের প্রতি প্রচণ্ড রকম অনাগ্রহ থেকেও লিভ টুগেদার করছে। ঢাকা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতির কন্যা ঢাকায় লিভ টুগেদার করছেন একজন বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে।
ওই শিল্পপতির কন্যার প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সংসার জীবনের পাট চুকিয়ে এখন বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে লিভ টুগেদার করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছেলেমেয়েদের লিভ টুগদোর। ওয়েস্টার্ন সোসাইটির প্রতি এক ধরনের অন্ধ আবেগ ও অনুকরণের পাশাপাশি জৈবিক চাহিদা মেটাতে তারা লিভ টুগেদার করছেন। আবার ঘন ঘন তাদের লিভ টুগেদারে বিচ্ছেদও ঘটছে। সহসা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে খুনের মতো অপরাধ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত এক বছরে রাজধানীতে দশটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশি অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে ওইসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল লিভ টুগেদারের বিড়ম্বনা।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুনের শিকার হয়েছে মেয়েরা। দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এক পর্যায়ে মনোমালিন্য বা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে খুন করে পালিয়েছে ছেলেটি। চলতি বছর জুলাই মাসে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় খুন হয় সুরাইয়া নামের এক যুবতী। তিনি চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তাকে খুন করে বাসায় লাশ রেখে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে চলে যায় যুবক সুমন রহমান। পরে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক ধরে লিভ টুগেদার করতেন সুমন ও সুরাইয়া। এপ্রিল মাসে এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ পাওয়া যায় গাজীপুরের শালবন এলাকায়।
পুলিশ অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা এলাকায় একটি বাড়িতে দুই-তিন বছর ধরে এক যুবকের সঙ্গে সে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া থাকতো। মে মাসে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বাসার ভেতরে এক তরুণীকে খুন করে পালিয়ে যায় ঘাতক। তারাও ভাড়া থাকতো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। মে মাসে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ওই তরুণী লিভ টুগেদার করতো তারই এক বন্ধুর সঙ্গে।
মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের মাঝে। শেষে মেয়েটিকে খুন করে পালিয়ে যায় বন্ধুটি। গত ১লা নভেম্বর রর্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় ম্যারেজ মিডিয়ার দুই পার্টনার। ফরিদপুর শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে একই শহরের আরেকটি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে লিভ টুগেদার করছে। পারভীন নামের মেয়ে ও আরিফ নামের ছেলেটি অকপটে স্বীকার করেছে তারা লিভ টুগেদার করছে এবং এক সঙ্গে ম্যারেজ মিডিয়ার ব্যবসা করছে।
ঢাকাতে লিভ টুগেদার বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবীব বলেন, বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের প্রভাবে নানা ধরনের মুভি সিনেমাডকুমেন্টারি আমাদের সমাজমানসে পাশ্চাত্য জীবনের নানা দিক প্রভাব ফেলছে, অনেকে সেটা গ্রহণ করছে। তার সঙ্গে আমাদের সমাজে ইন্ডিভিজ্যুয়াল বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের চিন্তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও অনেক যুবক-যুবতী এখন ফ্যামিলিকে একটা বার্ডেন মনে করে, বিয়েকে তাদের ক্যারিয়ারের অন্তরায় মনে করে। দেখা যাচ্ছে, এরা বিয়ের চেয়ে লিভ টুগেদারকে বেশি পছন্দ করছে।
এতে তাদের জৈবিক চাহিদাও মিটছে আবার সামাজিক নিরাপত্তাও পাচ্ছে। তারা সুখে দুঃখে একজন আরেক জনের সঙ্গী হচ্ছে। মধ্যবিত্তদের লিভ টুগেদারে আগ্রহী হয়ে ওঠা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এখন বাড়ি ভাড়া একটি বড় সমস্যা।
বাইরে থেকে পড়তে আসা বা চাকরি করতে আসা যুবক বা যুবতীকে বাড়ির মালিক আলাদা আলাদা বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক সঙ্গে থাকছেন, লিভ টুগেদার করছেন। এতে তাদের জৈবিক চাহিদাও মিটছে আবার সামাজিক নিরাপত্তাও থাকছে। আবার অনেক ছেলেমেয়ে মনে করছে লিভ টুগেদার করে কয়েক বছর কাটিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারা আবার অবিবাহিত পরিচয়ে সমাজে ফিরে যাবে যাতে সমাজে তাদের মর্যাদা ঠিক থাকে। তিনি বলেন, তবে এতে সমস্যা হচ্ছে সমাজে এক ধরনের ক্রাইম তৈরি হচ্ছে, কোন কারণে বনিবনা না হলে খুন হয়ে যাচ্ছে মেয়ে বা ছেলেটি।
বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট
সেদিন বাধ্য হয়ে করত, আজ সেচ্ছায় করে।

AvR 1 b‡f¤^i 2013
ïµevi
†mw`b eva¨ n‡q KiZ, AvR †¯^”Qvq K‡i|
AvR QzwUi w`b| iæ‡g Avwg GKv| †Kvb bv †Kvb fv‡eB evKx‡`i AvR iæ‡g cvIqv †Mjbv| Kv‡iv Awdm, Kv‡iv cixÿv Avevi Kv‡iv Zß `ycy‡i iv¯Ívi cv‡k `vwo‡q A‡b¨i eD‡qi w`‡K d¨vj d¨vj K‡i ZvwK‡q _vKvi Kv‡R e¨¯Í|
mKvj 8.30 wgt Nyg fvsj| mKv‡ji †QvÆ †QvÆ KvR¸‡jv †m‡i, cyiv‡bv evmx †ccvi wb‡q weQvbvq e‡m cojvg| Kvib evB‡i hvevi gb †bB| Kvj ga¨ivZ ch©šÍ Awd‡m KvwU‡q AvR kixiUv GKUz `~e©j g‡b n‡”Q|
mgq KvUv‡bvi Rb¨ AvR 12 kZ‡Ki BD‡ivwcI †cÖg Kvwnbx wUª÷vb I BRë Gi Uªv‡RwUK †cÖg Kvwnbx cojvg| †ek fvj jvMj| Av‡Mi Kvwnbx¸‡jv‡Z kvwiixK m¤úK© †ek Mfxi n‡Zv wVK AvR‡Ki w`‡bi g‡Zv| AvR †hgb †cÖ‡gi mv‡_ ‡m· I al©‡bi GKUv m¤úK© _v‡K| GUv wVK 1000 nvRvi eQi Av‡MI wQj| ZLb gvsm cy‡o †LZvg, AvRI LvB| ZLb †g‡qiv Dj½ _vKZ, AvRI _v‡K| †mw`b eva¨ n‡q KiZ, AvR †¯^”Qvq K‡i| Av‡iv bx‡P †b‡g K‡i|
Z‡e c„w_ex hZw`b _vK‡e gvby‡li Lvevi Avi †m‡·i Pvwn`v _vK‡eB | Z‡e G`y‡Uv w`b w`b mnR jf¨Zv n‡”Q| AvRKvj †hgb KvD‡K bv †L‡q ivZ KvUv‡Z nqbv| †Zgwb bx‡Ri ˆRweK Pvwn`v¸‡jv †ewkw`b e‡Kqv F‡bi gZ Zvgvw` K‡i ivL‡ZI nqbv| †Kvb bv †Kvb Dcvq wVK ‡ewo‡q Avm‡eB| Avi _vK Gme cÖm½|
AvR g‡b n‡qwQj GUvB Avgvi PvKzix Rxe‡bi me †P‡q Lvivc QzwUi w`b| mvivw`‡b NygI n‡jvbv| Avi †Zgb fvjfv‡e w`bwU Dc‡fvM KivI †Mjbv|
`ycy‡ii Lvevi †kl K‡i hw`I Lye Aí mg‡qi Rb¨ evwn‡i wM‡qwQjvg, fvj bv jvMvi Kvi‡b Lye `ªæZ iæ‡g P‡j Avwm|
" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!



















