বজায় রাখুন কর্মক্ষেত্র ও সংসারের ভারসাম্য


সময়ের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে আমাদের চেনা পরিচিত সমাজ ও সংসার। এক সময় কর্মজীবী বলতে সংসারের পুরুষ মানুষটিকেই বোঝানো হত। কিন্তু এখন স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীরাও এগিয়ে এসেছে কর্মক্ষেত্রে। সংসারে একটু সচ্ছলতা আনার জন্য পুরুষটির পাশাপাশি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নারীটিও। তাই আগে যেভাবে বাবারা কর্মক্ষেত্র ও মা'রা সংসার সামলাতেন তার নিয়ম বদলে যাচ্ছে। এখন দু'জনেই কর্মজীবী হবার কারণে সংসার সামলানো হয়ে গেছে অনেকটাই কষ্টকর।

কিন্তু স্বামী স্ত্রী যদি একে অপরকে সহায়তা করেন তবে ঠিকভাবে সবকিছু সামলে নিয়ে খুব সহজেই চালিয়ে নিতে পারেন সংসার ও কর্মক্ষেত্র। কর্মক্ষেত্র ও সংসার এই দুই কিভাবে সামলে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে তাই নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।
  • সংসার ও কাজ এই দুইটি যেকোন কর্মজীবী মানুষের কাছে একই রকম গুরুত্ব বহন করে, তবে কখনও কখনও সংসার ও কাজের মাঝে একটিকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনটি বেশি দরকারি তা ঠিক করে নিন। দুইটি ক্ষেত্রই হয়তো আপনার জন্য জরুরী মনে হতে পারে, তারপরেও কখনও কখনও কোন একটিকে বেছে নিতেই হয়। যেমন মনে করুন আপনার সন্তান অসুস্থ সেক্ষেত্রে আপনার তাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আবার কখনো কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার দরকার হয়ে পড়তে পারে, সে সময় গুরুত্ব পাবে কর্মক্ষেত্র। মোট কথা কাজের সময় কাজ ও সংসার সামলানোর সময় তাই করুন। যখন যা করছেন, তখন তাই করুন সম্পুর্ন মনোযোগ দিয়ে। কাজের সময় বাসার সমস্যা ও বাসায় সময় কাটানোর সময় কাজ নিয়ে পড়বেন না। এতে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।
  • কর্মক্ষেত্রে বা বাসার কাজে কোন সাহায্যের দরকার পড়লে অবশ্যই সাহায্য নিন। আপনার উপরে কোন কাজের দায়িত্ব থাকা মানেই যে আপনি তা যেকোন মূল্যে করতে বাধ্য তা কিন্তু নয়। যেকোন দরকারে অন্যের সাহায্য নিতেই পারেন, এতে লজ্জার কিছু নেই। যখন কোন কাজে আটকে যাবেন তখন আশেপাশের মানুষকে নিজের অবস্থার কথা জানান। সংসারের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে বলুন আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসতে, সন্তান ও বন্ধুবান্ধবদেরও সহযোগিতা নিতে পারেন। যদি সম্ভব হয় তবে বাসার কাজে সাহায্য করার জন্য কাজের মানুষ রাখতে পারেন। অফিসের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে আপনার সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে রাখুন। আপনার অন্যান্য কলিগদের সহায়তাও চাইতে পারেন।
  • সংসার ও কাজের ক্ষেত্রে রুটিন মেনে চলার চেষ্টা করুন। দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন করে ফেলুন, এতে দ্রুত কাজের নিষ্পত্তি করতে পারবেন। সম্ভব হলে সপ্তাহের বাজার একবারে করুন এতে প্রতিদিন বাজার করার ঝামেলা কমে আসবে ও যে সময়টুকু বেঁচে যাবে তাতে অন্ন কোন কাজ সেরে ফেলুন।। ছুটির দিনে চেষ্টা করুন পরিবারকে সময় দিতে। এতে সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন ভাল করে।
  • প্রতিদিনের সংসারের কাজে স্ত্রীকে সহায়তা করুন। এতে এক সাথে সময় কাটানো হবে, সেই সাথে কাজও করা হবে ভালো ভাবে। সন্তানের পড়াশুনার দায়িত্ব ও স্কুলে যাতায়াতের দায়িত্ব দুইজনে মিলেমিশে পালন করুন। মাঝে মাঝে দুই একদিনের ছুটি পেলে দেশের মাঝেই কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। এতে কাজের অবসাদ দূর হয়ে নতুন কাজের উদ্যম যেমন তৈরি হবে, তেমনই পরিবারকেও পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে।
  • কর্মক্ষেত্রে কলিগদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। তাদের দরকারে এগিয়ে যান যতটা সম্ভব। আপনার থেকে নিচের পদের অধিকারীদের সাথে ভাল আচরন করুন, উচ্চপদে আসীন কর্মকর্তাদের সাথে আদব বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করুন। কর্মক্ষেত্রে আপনার আচরন ভাল থাকলে বিপদের সময় তাদের সহায়তা পেতে বেশি বেগ পেতে হবেনা। যেকোনো কাজ সময়ের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করবেন। অযথা ঝুলিয়ে রাখবেন না। এতে পড়ে গিয়ে কাজের চাপ বেড়ে গিয়ে আপনার কাজের পাশাপাশি সংসারের ভারসাম্যও নষ্ট করে দিতে পারে।
আমাদের দেশে স্বামী-স্ত্রী দুজনের কাজ করা এখন আর বিলাসিতার বিষয় নয় বরং প্রয়োজন। একটি সংসারকে সুন্দরমত চালিয়ে নেবার জন্য পুরুষ সদস্যটির সাথে এগিয়ে আসতে হচ্ছে নারীটিকেও। যেহেতু কাজ করতেই হবে তাই দুইজনে মিলেমিশে সংসারের দায়িত্বগুলো পালন করলে ও কর্মক্ষেত্রে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করলে সংসার ও কর্মক্ষেত্র এক সাথে সামলে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হয় অনেক সহজ। তাই একে অন্যকে সাহায্য করে গড়ে তুলুন কর্মক্ষেত্র ও সংসারের মধ্যে সুন্দর এক ভারসাম্য।

0 comments:

Post a Comment

" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!