খাদ্য যখন ওষুধ!


আমরা যখন অসুস্খ হই তখন রোগের নিরাময় জন্য ওষুধকে বেশে প্রাধান্য দেই। কিন্তু ওষুধ ছাড়াও সঠিক খাদ্যতালিকা দ্বারা অনেক রোগের সমাধান পাওয়া সম্ভব। আমাদের দেহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। ফুড সাপলিমেটস সব সময়ই উপকারী উপাদান হিসেবে প্রমানিত হয়েছে, কিন্তু যদি আমরা খাবার থেকে খুঁজে নিতে পারি সাপলিমেটসের উপকারিতা তাহলে আর ওষুধ কেন্দ্রিক জীবন কেন? খাবার সব সময়ই সবার জন্য সঠিক ওষুধ হিসেবে কাজ করেছে আর ভবিষ্যতে করবেও।


স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সঠিক খাবারঃ


অষ্টিওপোরেসিসঃ


আমরা সবাই মনে করি ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে এমনটি হয়ে থাকে। কিন্তু বেশি এসিডিক বা উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবারের কারণে অষ্টিওপোরেসিস হয়। প্রোটিন ভেঙ্গে এসিডে পরিনত হয় আর এই এসিডকে নিউট্রালাইজ করার জন্য বডি আমাদের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম এক্সট্রাক্ট করে। যখন এই হারানো ক্যালসিয়াম আর পুনরুদ্ধার করা হয় না তখন আমরা অষ্টিওপোরেসিসে আক্রান্ত হই। ভিটামিন ডি বডিকে খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। তাই আমাদের এসিডিক খাবার যেমন কোলা, ক্যাফেইন ত্যাগ করে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। সবুজ সবজিতে ভিটামিন কে আছে যা হাড়কে পুনঃনির্মাণ করে।


ডায়াবেটিসঃ


মিষ্টি যুক্ত খাবার ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী নয়, যদিনা হাই ব্লাড সুগার থেকে থাকে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের আসল কারণ হচ্ছে মাসেল সেলে থাকা ফ্যাট। প্যানক্রিয়াসে থাকা বিটা সেল ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা গ্লুকোজ শোষণ করে। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট বিটা সেলের এই কাজ়ে বাঁধা দেয় আর অস্বাভাবিকভাবে ব্লাড সুগার বেড়ে যায়। তাই ভাজা পোড়া, মাখন, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলে বাদাম, তিল, পাম্পকিন সিড গ্রহণ করতে হবে।


উচ্চ রক্তচাপঃ


যদি কোন মানুষের উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার ধমনীর গায়ে রক্তের অনেক বেশি চাপ অনুভূত হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাবার খাওয়ার কারণে ধমনীর দেয়ালে কোলেস্টেরল জমা হয়, আর রক্ত চলাচলের পথটিকে করে তোলে সংকীর্ণ। হাই ব্লাড প্রেসার থেকে বাঁচার জন্য ২টি উপায় আছে। প্রথমত অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ ত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত পটাসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে হবে। পটাসিয়াম এমন এক মিনারেল যা ব্লাড প্রেসার লেভেলের উপর থেকে সোডিয়ামের প্রভাব কমায়। মাশরুম, কলা, খেজুর, মিষ্টি আলু পটাসিয়ামে ভরপুর।


আ্যাসমাঃ


আ্যাসমা হল কোন একটি বাহ্যিক বস্তু বা খাবারের প্রতি বডির প্রতিক্রিয়া, যা এয়ারওয়েজ এর প্রদাহ ঘটায়। হাই লেভেলের হিস্টামিন এই ধরনের প্রদাহ ঘটায়। যদিও কোন ডায়েটই আ্যাসমার ব্যাপারে গ্যারান্টি দিতে পারে না তবুও আ্যাসমা কন্ট্রোলের জন্য যেসব খাদ্য হিস্টামিনকে কার্যকর করে তা এড়িয়ে চললে ভালো ফলাফলের আশা করা যায়। সেসব খাদ্যগুলো হল অ্যালকোহল, ভিনেগার, কেচাপ, ইস্ট দ্বারা তৈরি খাবার, ফারমেনটেড অথবা প্রক্রিয়াজাত খাবার।


রাঙিয়ে তুলুন আপনার প্লেটঃ


পিগমেনটেশন এমন এক উপাদান যা ফলমূল শাক সবজিতে রঙ প্রদান করে সঙ্গে পুষ্টিও যোগায়। যে খাবারের রঙ যত বেশি উজ্জ্বল সে খাবারে তত বেশি নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান আছে। বেগুনি রঙের খাবার যেমন বেগুন, জাম, পামে phytochemicals আছে। যা বলিরেখা দূর করে, লিভারের অসুখের প্রতি শরীরে প্রতিরোধ গড়ে তলে, ব্লাড প্রেশার কমিয়ে আনে।


কমলা রঙের সবজি যেমন গাজর এবং কমলায় বিটা ক্যারোটিন আছে যা আমাদের ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।


হলুদ রঙের খাবার যেমন কলা, কর্ণে বিদ্যমান ক্যারোটিনোয়েডস ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি সাধন করে আর হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখে।


সাদা রঙের খাবারে আছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি- ফাঙ্গাল, অ্যান্টি- বায়োটিক কম্পাউনড যা শ্বেত রক্ত কনিকার স্বাস্থ্য রক্ষা করে। রসুন, পেঁয়াজ, মাশরুম, ফুলকপি সাদা রঙের খাবারের অন্তর্ভুক্ত।


লাল রঙের খাবার যেমন টমেটো, তরমুজে আছে লাইকোপেন যা আভ্যন্তরীণ সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে, অষ্টিওপোরেসিস আর হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে।


সবুজ শাকে আছে ইনডোল যা লিভারের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখে।


সব সময় প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়ে টাটকা খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকতে হবে। কেননা টাটকা শাক সবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল। সব সময় বিভিন্ন ধরনের এবং রঙের খাবার খেতে হবে। উজ্জ্বল রঙের টাটকা খাবার নির্বাচন করুন আর নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সুনিশ্চিত থাকুন।

0 comments:

Post a Comment

" কিছু স্বপ্ন আকাশের দূর নীলিমাক ছুয়ে যায়, কিছু স্বপ্ন অজানা দূরদিগন্তে হারায়, কিছু স্বপ্ন সাগরের উত্তাল ঢেউ-এ ভেসে যায়, আর কিছু স্বপ্ন বুকের ঘহিনে কেদে বেড়ায়, তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে যায় ? " সবার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই শুভো প্রার্থনা!

Follow me